Alapon

হিজবু্ল্লাহর সৃষ্টির ইতিহাস এবং কিছু কথা...


লেবাননের শীয়া সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় । তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার অনুপ্রবেশ ঘটে ১৯৮৫ সালে । বিপ্লবী নেতা খোমেনীর ছাত্র ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয় মুসা সদরের প্রতিষ্ঠিত "হরকতে আমাল" নামে শীয়া সশস্ত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরকে নিয়ে ইরান হিজবুল্লাহ গঠন করে ।

হরকতে আমল/আমাল মিলিশিয়াদের রয়েছে কাল ইতিহাস । তারা লেবানন ও ইসরায়েলের মাঝে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তি ভঙ্গের চেষ্টার অভিযোগে শত শত ফিলিস্তিনী শরণার্থী স্বাধীনতাকামীকে সুপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে । মুহাম্মাদ আসাদ বুইদ তার (ما يجري في لبنان) "লেবাননে কি ঘটেছিল" শীর্ষক প্রবন্ধে ১৯৮৫ সালে সংগঠিত শরণার্থী শিবির "সাবরা" ও "শাতিলা" ম্যাসাকারের জন্য আমাল মিলিশিয়াদেরকে দায়ী করে । সমসাময়িক পাশ্চাত্য মিডিয়াগুলোও শত শত ফিলিস্তিনীকে হত্যা ও নির্যাতনের জন্য তাদেরকে দায়ী করে ।

ইরান হিজবুল্লাহর ধমনী, সঞ্জীবনী শক্তি ও মূল কেন্দ্র । হিজবুল্লাহর প্রথম বন্ধু ইরান আর দ্বিতীয় বন্ধু সিরিয়ার সমাজতান্ত্রিক শাসক নুসাইরী সম্প্রদায় । আরব বিশ্বে ইরানী শীয়া সাম্প্রদায়িক বিপ্লবকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য হিজবুল্লাহ হল ইরানের করিডোর । ইরানী অনুদানে হিজবুল্লাহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে লেবাননে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে । ইরান খোমেনী বিপ্লব, তার দর্শন "বেলায়েতুল ফকিহ" কে আরবে সম্প্রসারিত করার জন্য ও সকল শীয়াকে খোমেনীর শাসনের ছায়াতলে একত্রিত করার জন্য ইরাকে মোক্তাদা আল সদেরের নেতৃত্বে গড়ে তুলেছে মেহেদী আর্মি, ইয়ামানে হুসাইন বদরুদ্দিন হাউসির শীষ্যদেরকে নিয়ে গঠিত করেছে হাউসি বাহিনী । এছাড়াও বাহরাইন,কুয়েত,কাতার ও সৌদি আরবের কাতিফে তাদের জোড়াল তৎপরতা রয়েছে ।

হিজবুল্লাহর প্রসিদ্ধ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ জাফরী শীয়া দ্বাদশ ইমামিয়ার অন্তর্ভুক্ত, যাদের নিকট আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভের উপায় হচ্ছে সাহাবাদেরকে গালি-গালাজ করা । খোমেনীর এই শিষ্য আরব বিশ্বের খোমেনী হিসাবে পরিচিত । নাসরুল্লাহর রয়েছে সুন্নিদের প্রতি প্রচণ্ড আক্রোশ । বিশেষ করে ওহাবীদের প্রতি তার ক্ষোভের মাত্রা একটু বেশী । "আল আমান" পত্রিকায় এক সাক্ষাৎকারে সে বলে- ওহাবী আন্দোলনকে আমরা কখনো ইসলামী আন্দোলন কিংবা ইসলামের পুনঃজাগরণ মনে করি না ।

হিজবুল্লাহর প্রথম সেক্রেটারি জেনারেল সুবহি তুফাইলি হিসবুল্লাহর উপর ইরানের অতি মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় ক্ষুব্ধ হয়ে সংগঠন থেকে বেড়িয়ে যায় । "শারকুল আসওয়াত" পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেনঃ ১৯৯৪ সালের জুলাই ও ১৯৯৬ সালের এপ্রিলে আমেরিকার ইচ্ছায় ইরানী পররাষ্ট্র মন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মাঝে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় । এ চুক্তিতে ইসরায়েলের আবাসিক এলাকাকে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয় । ইরান এ চুক্তির মাধ্যমে হিজবুল্লাহকে হাইজ্যাক করে যুদ্ধের ময়দান থেকে হটিয়ে ইসরায়েলের সীমান্ত রক্ষী বানিয়ে দেয় ।


অনেক সুন্নী না বুঝে সাহাবী ও মুমিনদের দুশমন হাসান নাসরুল্লাহকে সমর্থন করে । সে যদি প্রকৃত পক্ষে ইসরায়েলের জন্য হুমকি হত, তাহলে সে সমগ্র লেবানন চষে বেড়াতে পারত না । দিন-তারিখ ও স্থান পূর্ব নির্ধারণ করে বিশাল জন সভায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে পারত না । ইসরায়েল তাকে কিছু বলে না, তার গাড়ি,বাড়ী বা জনসভাকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়ে না, তাকে গ্রেফতার করার জন্য পুরষ্কারও ঘোষণা করে না । পক্ষান্তরে কোন সুন্নির ক্ষেত্রে এমনটি কল্পনাও করা যায় না ।

হিজবুল্লাহর উপর ইসরায়েলের হামলা না করার কারণ তাদের শক্তি ও সামরিক সামর্থ নয়; তার পশ্চাতে মূল কারণ হচ্ছে, হিজবুল্লাহ যদি দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে যায় তাহলে তার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হবে সুন্নিরা, যা ইসরায়েল কখনো চায় না । তবে এটা সত্য যে, হিজবুল্লাহ একটি সুসংগঠিত দল এবং তাদের সাথে মাঝে সাঝে ইসরায়েলের যুদ্ধ বেধে যায় । যা সাধারণত দুটি ক্ষমতাধর কাছাকাছি থাকলে ঘটে থাকে ।

তবে সুন্নিদের কর্মকাণ্ড অ্যামেরিকা ও ইসরায়েলের জন্য অসহ্যকর । তাই সেখানে তাদের সহযোগিতা, সমঝোতা বা দরকষাকষির বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয় । তার উদাহরণ অনেক । যেমন আফগানিস্থানে তালেবান, ফিলিস্থিনে প্রতিরোধ যোদ্ধাগণ, ইরাকের আইএস । আমেরিকা-ইসরায়েল তাদের বরদাশত করতে প্রস্তুত নয় । কারণ সুন্নিরা শীয়াদের মত নাকে খত দিয়ে কোন বিষয় মানতে রাজী নয় । তাই শীয়ারা আফগানিস্থান, ইরাক যেখানেই সুযোগ পেয়েছে আমেরিকা-ইসরায়েলের হয়ে সুন্নিদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে । আল্লাহ্‌ আমাদের সকলকে সত্য ও বাস্তবতা বুঝার তাউফিক দান করুন । আমীন ।

সংগৃহিত...

পঠিত : ৩৩৮ বার

ads

মন্তব্য: ০