Alapon

একটি হামলা বদলে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক চিত্র...


হঠাৎ করেই যেন বিশ্ব রাজনীতির রূপ বদলে গেল। ইন্টারন্যাশনাল পত্রিকাগুলোতে নজর বুলালে মনে হত, এই বুঝি ইরান এবং সৌদি আরবের মাঝে যুদ্ধ লেগে গেল। এই বুঝি আমেরিকা ইরানে হামলা চালাল। আর সৌদি যুবরাজের কথাবার্তা শুনলে তো মনে হত, আজ রাতেই মনে হয় ইরানে হামলা চালানো হবে।

অন্যদিকে ইরানও বলত, যুদ্ধ শুরু হলে সৌদি আরব এবং আমেরিকা তো রেহাই পাবেই না, সেই সাথে ইসরাইলকেও মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হবে।

স্বাভাবিক সেন্সে ইরানের এই হুমকি-ধামকি আমার কাছে ফাঁকা বুলি মনে হত। কারণ, ইরানের উপর আন্তজার্তিকভাবে অর্থনৈতিক অবরোধ অনেকদিন থেকেই চলে আসছে। যার কারণে, তেল সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার পরও ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা ততটা শক্তিশালী নয়। যার অর্থনৈতিক অবস্থা সঙ্গিন তার সামরিক সক্ষমতা কতটুকু তা আন্দজা করে নেওয়া যায়। কিন্তু আমার সেই আন্দাজ যে ভুল ছিল তা এক হামলা দিয়ে প্রমাণ হয়ে গেছে।

গত মাসে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধারা সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। যে তেল স্থাপনায় হামলা চালানো হয়, তা সৌদি আরবের প্রধান দুটি তেল স্থাপনার একটি। এই হামলার ফলে গত মাস থেকে উক্ত স্থাপনা থেকে তেল উত্তোলন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। যার প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়তে শুরু করে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন যদি বাকি তেল স্থাপনায় হামলা চালানো হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে তা হয়ত কেউ কল্পনাও করতে পারছে না। তবে আশার দিক হল, হুথি যোদ্ধারা বলেছে তারা আর তেল স্থাপনায় হামলা চালাবে না। আর এই হামলার পিছনে যে ইরানের পরোক্ষ সমর্থন কিংবা লজিস্টিক সাপোর্ট যে ছিল,তা চোখ বন্ধ করেই বলে দেওয়া যায়।

অন্যদিকে হামলার পরপরই সৌদি যুবরাজ সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ছুটে গেলেন। তাকে বারবার ইরানে হামলা করার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে লাগলেন। কিন্তু এই পর্যায়ে এসে ট্রাম্প প্রমাণ করল, ইরানে হামলার চালানোর ক্ষেত্রে আমেরিকা অপারগ। কিন্তু ট্রাম্প সাহেব বিশ্ব নেতাদের কাছে নালিশ পেশ করলেন। রাশিয়া এবং তুরস্ক এক্ষেত্রে ইরানের পরিক্ষীত বন্ধু হিসেবে প্রমাণ দিয়েছে। কূটনৈতিক দিক থেকে রাশিয়া এবং তুরস্ক বলেছে, যে প্রমাণ উপস্থাপন করেছে তাতে এই হামলার সাথে যে ইরান জড়িত তা প্রমাণিত হয় না।

এরপর থেকেই সৌদি যুবরাজের বক্তব্য পাল্টাতে শুরু করে। যে যুবরাজ সকাল-বিকাল ইরানে হামলার হুমকি দিত, সেই যুবরাজ এখন বলছে- ইরানের সাথে যুদ্ধ হলে বিশ্ববাজারে তার মারাত্মক প্রভাব পড়বে। বিশ্ববাজারে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিবে।

একটা প্রবাদ চালু আছে, ‘শক্তের ভক্ত নরমের জম।’ ইরান তার শক্ত অবস্থান বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিপ্লবী গার্ডের প্রধান যে হুমকি-ধামকি দেয়, তা যে অমূলক নয় এই হামলার মধ্য দিয়ে তা প্রমাণিত হয়েছে।

সৌদি আরবে একটি হামলা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড়ধরণের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে! আর অন্যদিকে সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা যে আমেরিকা ও ইসরাইলের উপর নির্ভরশীল তা আরও একবার প্রমাণিত হচ্ছে। এর ফলে সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে বিগত সময়ের ন্যায় প্রভাব ধরে রাখতে পারবে কিনা, তা সময়েই বলে দিবে। তবে পরিবর্তন আসছে।

পঠিত : ২৭৯ বার

ads

মন্তব্য: ২

২০১৯-১০-০৩ ১৯:০৬

User
সংলাপ

ইরান হয়ত মধ্যপ্রাচ্যের নব্য শক্তিধর রাষ্ট্র হতে যাচ্ছে।

submit

২০১৯-১০-০৩ ১৯:২৫

User
উদভ্রান্ত

ধন্যবাদ।

submit