Alapon

ভারতকে দিয়ে দেওয়ার আর বাকি রইলটা কী...?


আমাদের প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী, ভোট ডাকাতির সর্দারনি শেখ হাসিনার ভারত সফরের কথা শুনলেই আমার মনের ভিতরে অজানা আশঙ্কা দানা বাঁধে! আশঙ্কা থেকে দুঃশ্চিন্তা শুরু হয়, আর দুঃশ্চিন্তা থেকে বুক কাঁপুনি শুরু হয়। আর সেই কাঁপুনির কারণ যে কী তা পত্রিকা ও টেলিভিশন মারফত ইতিমধ্যেই নিশ্চয়ই জেনে গেছেন।
এই সফরে ভারতের কাছে দেশ বিক্রির প্রক্রিয়া আরও খানিকটা বেড়ে গেল।

গত মাস থেকে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেশ ভালো। বহু বছর পর এইবার মন ভরে ইলিশ খেতে পেরেছি। কিন্তু ইলিশের এই সুলভ সরবরাহের মাঝে খবর এলো, ভোট ডাকাত সর্দারনি তার স্বামী রাষ্ট্র ভারতে ৫০০ টন ইলিশ পাঠাবে। বলে রাখি, এটা অবশ্য উপহার ছিল না। রপ্তানি করা হয়েছে।

ইলিশ রপ্তানি করার কারণ হিসেবে আমার যা মনে হয়, ২০১৫ কি ২০১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের পদ্মার ইলিশ প্রীতির কথা বলেছিলেন। তখন শেখ হাসিনা বলেছিলেন, পদ্মায় পানি ছাড়লে ওপারে ইলিশ যাবে। পরে মমতা পশ্চিমবঙ্গে ফিরে মন্তব্য করেছিলেন, ‘ইলিশের সরবরাহ আমরাই নিশ্চিত করব। তারপরও পানি ছাড়ব না।’

যদিও মমতা ব্যানার্জির সেই গর্জন বক্তব্যের মাঝেই সীমাবদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গে পদ্মার ইলিশ আজও পর্যাপ্ত পরিমাণ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি।

তাই আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হয়ত ভারত সফরের আগে উপঢৌকন হিসেবে ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কিন্তু মজার বিষয় হল, বেনাপোল বন্দরের এক দিয়ে ইলিশের ট্রাক ভারতে ঢুকেছে, অন্যদিকে ভারত থেকে পেয়াজ আসা বন্ধ হয়ে গেছে!

৫০০ টন ইলিশ রপ্তানি করার পর আর সবার মত আমিও ভেবেছিলাম, এবার হয়তো মমতা দিদির মন গলবে। পদ্মা এবং তিস্তায় পানি পাওয়া যাবে। চূড়ান্ত সমাধান হবে। কিন্তু ৫০০ টন ইলিশ দেওয়ার পরও যে লাউ ছিল সেই কদুই রয়ে গেছে! অর্থাৎ পানির বিষয়টি অমিমাংসিত রয়েছে। এদিকে তো উপঢৌকন দিয়েও পানি পাওয়া গেল না, অন্যদিকে ভারত কোনো উপঢৌকন ছাড়াই কেবল ভারতের মিষ্টি কথায় ফেনী নদীর পানি দিয়ে এসেছেন। এতোদিন পানি শূণ্যতা ছিল উত্তরবঙ্গে, সেই পানি শূণ্যতা এবার হয়তো দক্ষিণবঙ্গেও দেখা যাবে। যেখানে আমরা পানির ন্যায্য হিস্যাই পাই না, সেখানে দিল দরিয়া প্রধানমন্ত্রী ভারতকে ফেনী নদীর পানি দিয়ে আসলেন!

২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পরাজয়ের পর শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘ভারতকে গ্যাস দিতে রাজি না হওয়ায়, বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় এসেছে।’ বিশ্বাস না হলে সেই সময়ের যুগান্তর পত্রিকা দেখতে পারেন। তাই হয়তো এইবার যখন ভারত শেখ হাসিনার কাছে তরল গ্যাস চেয়ে বসল, হাসিনা বিনা বাক্য ব্যায়ে গ্যাস দিতে রাজি হয়ে গেল! পরে না আবার ক্ষমতা হারাতে হয়, এই ভয়ে হয়তো অতিরিক্ত একটি শব্দও ব্যায় করেনি।

অথচ বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চল এখনো গ্যাস আওতার মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। দেশের সার কারখানাগুলো গ্যাসের অভ্যাসে বছরের অর্ধেক সময় বন্ধ থাকে, সেখানে ভারতে গ্যাস রপ্তানি! এ যেন পাগলের মাথা খারাপ অবস্থা!

শেখ হাসিনা যে এতো কিছু দিলেন, দেশের জন্য বিনিময়ে কী পেলেন?
কিছুই না! আদৌত শেখ হাসিনার ভারত সফরে বাংলাদেশ কখনোই কিছু পায়নি। উপরন্তু ভারত বাংলাদেশের দুই সমুদ্র বন্ধর এবং ট্রানজিট সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের জেলেরা নিজেদের সমুদ্র সীমানার মধ্যেই মাছ শিকার করতে পারে না; ভারতীয় সীমান্ত বাহিনী বাধা প্রদান করে।

তবে ভারতকে এতো কিছু দেওয়ার হেতু কী?
হেতু একটাই, ক্ষমতা! আওয়ামিলীগের ক্ষমতার পিছনে ভারতের রয়েছে বিশাল ভূমিকা। তাদের সেই ভূমিকার কারণে, কৃতজ্ঞতাবশত শেখ হাসিনা কেবল দিয়েই যাচ্ছেন। নেওয়ার কথা মুখে তুলেনই না। দিতে দিতে সিকিমের লেন্দুপ দর্জির অবস্থায় হয় কিনা! যার পূর্বাভাস ইতোমধ্যেই হয়ত শেখ হাসিনা পেয়েছেন!

পঠিত : ২০২ বার

ads

মন্তব্য: ০