Alapon

ও জঙ্গি তোমায় নিয়ে ঘামাই মাথা!

দেশে এখন জঙ্গি আন্দোলন তুঙ্গে। পত্রিকার পাতা, বসের টেবিল, চায়ের স্টল, টিভির শিরোনাম ইত্যাদিতে নিরবতা ভেঙ্গে দিয়েছে জঙ্গি আলোচনা। বাংলা এবং ইংরাজি ভাই এর ব্যার্ত্যতার পর দীর্ঘ অনেক বছর যাবত এ নিয়ে দেশ ও জাতির মাথা ব্যাথা ছিল না। তখন অবশ্য এনিয়ে জনগন বেশ চিন্তিত ছিল এবং তাদের সমাধানে আসার পর জনমুখে হাসির রেখা দেখা গিয়েছিল। তখনকার সস্রকারের সফলতার মধ্যে এই জঙ্গি ইস্যুটা ছিল মুখ্য।


এবার এই সরকারের সময় জঙ্গিদের হামলার ধরন, কার্যাপ্রনালী, বিহ্যাব, ন্যাচার, লক্ষন ইত্যাদি পূর্বাকার জঙ্গিদের সাথে অনেকাংশে ১৯০ ডিগ্রি বিপরীত।


১/ আগেকার জঙ্গি আত্মঘাতি হামলা চালিয়েছিল পাবলিক প্লেসে কিন্তু এখনকার নবীন জঙ্গিরা সম্ভবত নিজেরা মরতে বেশি ভালবাসেন। ( আমি বলছি না যে তাদের পাবলিক প্লেসে হামলা করতে হবে।


২/ আগেকার জঙ্গিরা মারা গেলে তাদের পরিবার থেকে এমন দাবি করা হয়নি যে, প্রশাসন তাদের কিছুদিন আগেই উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিল কিন্তু এখন যারা মারা যাচ্ছে তাদের অনেকের পরিবার সেই দাবি করছে।


তবে বাস্তবতা হলো মানুষ এখন বিশ্বাস করতে পারছে না যে যারা ক্রসফায়ারে মারা যাচ্ছে তারা সবাই জঙ্গি। অনেকেই মনে করছে এসব সাজানো ঘটনা। অবশ্য এর সপক্ষে বেশ কিছু প্রমানও পাওয়া গেছে। আগে যেমন দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একতাবদ্ধ ছিল কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে যে সবাই এ নিয়ে পত্যাক্ষ বা পরক্ষ ভাবে যৌক্তিক প্রশ্ন তুলছে। মনে করছে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতায় থাকার জন্য এমনটি করছে। আবার কেউ মনে করছে প্রতিবেশি দেশকে স্পেস দেবার জন্য এমন করছে। সামাজিক মাধ্যম গুলোতে এই জঙ্গি অভিযান নিয়ে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব কে নিয়ে নানান ধারনের ট্রল তৈরী করছে। এতে করে আমাদের আইন শৃঞ্জখলা বাহিনির অতীত সুনাম প্রশ্নবিদ্ধের দিকে চলে যাচ্ছে। একটা দেশের জনগনের একটা বৃহত অংশ সেই দেশের বিভিন্ন বাহিনিকে নিয়ে যদি ব্যাংগ করে তাহলে সেই দেশের জন্য এর চাইতে বড় লজ্জা আর কিছুই হতে পারেনা।


এবার হাসাহাসির চুড়ান্ত রূপ দানের ব্যাবস্থা করেছে সরকারের বিভিন্ন আমলা মন্ত্রীরা। তারা যেকোন হামলার পরপরেই দুই একটি বিশেষ দলের দিকে আঙ্গুল তোলে এবং তাদের উপড় ব্যপক ভাবে ধড়পাকড় চালায়। এর থেকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও মুক্ত নন। পরে অবশ্য দোষীরা আটক হবার পর দেখা যায় তারা অভিযোগকৃত দলের সাথে কোন কালেই যুক্ত ছিল না।


এর ফিডব্যাক অনেক। হামলাকারীরা বুঝতে পারে যে "যা কিছু হারায় গিন্ন বলে কেষ্ট বেটাই চোর"-এই প্রবাদ যতদিন থাকবে ততদিন তারা সুবিধা অর্জন করতে পারবে। 


এখন দেখা যাক কোন নদীর পানি কোন নদীতে গড়ায়............


 

পঠিত : ৩০১ বার

ads

মন্তব্য: ০