Alapon

চোখ

প্রতিদিন সকালে বাইকটাকে ধোয়ামোছা করা অভ্যাস হয়ে গেছে।বিশেষ করে বাইকের সিটটা একটু বেশী সময় নিয়ে পরিষ্কার করি।তুমি একদমি ধুলো পছন্দ করতে না, বাইকে করে যতবার তোমায় নিয়ে বাহিরে গেছি ততবার সিটের ধুলো নিয়ে অভিযোগ ছিল।
আচ্ছা এখনও কি ধুলো তোমার অপছন্দের?
মোবাইলটা বেজে উঠলো, স্ক্রিনে ভেসে উঠলো সেই চেনা নাম্বারটা…
হ্যালো দিয়াজ।অপু অ্যাকসিডেন্ট করছে! তুমি ছাড়া এ শহরে আমার পরিচিত কেউ নেই, একটু ন্যাশানাল হাসপাতালে আসবা?

                         ২

বাইকে করেই দ্রুত রওনা দিলাম।রুমি বসে আছে অপারেশন থিয়েটারের সামনে।আমাকে পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো সে।ছয় মাস হলো অপুর সাথে দিয়াজের বিয়ে হয়।একটা চাকরি না থাকার কারণে রুমির বাবা আমাকে মেনে নেন নি।রুমি চেষ্ঠা করেছিলো,কিছুদিন সময় নিতে তার বাবা থেকে।তার বাবা তাকে সময় দেন নি..
কি এক ভাগ্য, ঠিক একমাস পরেই একটা চাকরি পাই,আর পোষ্টিং রুমির চট্টগ্রাম শহরেই।তার বিয়ের পর এই প্রথম দেখা,এভাবেই।টুকটাক একটু আধটু খবর নিতো সে,বিয়ের পরেও…
কিভাবে হলো অ্যাকসিডেন্ট?
অফিস থেকে ফেরার সময় বাইকে!
ও..
কতোবার বলেছি, বাইকটা বেছে দিতে।লোকালে যাতায়াত করতে, শুনলোই না!
আমি আর কোনদিন বাইকে চড়ি নি।যেদিন তোমাকে বাবা নিষেধ করে দিলো,সেদিন বাসায় এসেছিলাম ভার্সিটি থেকে তোমার  সাথে।

                      ৩

ডাক্তার ডেকে পাঠালেন।আমি রুমিকে বসতে বলে,ভেতরে গেলাম।
আপনি রোগীর কে হোন?
বন্ধু…
খুলেই বলি আপনাকে।ওনার একটা চোখ নষ্ট হয়ে গেছে।ওনাকে দ্রুত চক্ষু হাসপাতাল পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।
চোখ ঠিক হবার উপায় নেই?
চোখ থেতলে বের হয়ে গেছে!

                    ৪
গত দুই বছর হলো রুমির খোঁজ নি না।নিলেই হয়তো সে টের পেয়ে যাবে!আমার ভালোবাসার কথা…
ডাক্তারকে অনেক বুঝিয়ে তার চক্ষু হাসপাতালের ডাক্তার বন্ধুকে রাজি করাই।
রুমি এখন যে চোখ দুটিতে ভালোবাসা খোঁজার চেষ্ঠা করছে,সে দুটোর একটা চোখ আমার!
আমার একটা চোখ তো দেখতে পাচ্ছে প্রতিনিয়ত রুমিকে,এ কথা ভেবেই না হয় সারাটা জীবন কাটিয়ে দিবো !

পঠিত : ২৪৬৫ বার

মন্তব্য: ০