Alapon

বিবাহ বিচ্ছেদ (কেস স্টাডি) ০২


বিয়ের প্রথম ৪/৫ বছরের মধ্যেই সাধারণত সংসার স্থায়িত্ব লাভ করে বা ভেঙ্গে যায়। আর উভয় ক্ষেত্রেই ছেলে-মেয়ের বাবা-মা বিশেষ করে মায়ের ভূমিকা বেশী প্রভাবক হয়ে থাকে।
টুম্পার বিয়ে হয়েছে দেঢ় বছর হলো। এরই মধ্যে সুখের সংসার ভাসছে দু:খের অনলে। যে দুই চোখে প্রেম-ভালবাসার স্বপ্ন এঁকে সংসার শুরু করেছিলো সে সেই দুই চোখে এখন ঘৃণার আগুন রইয়া রইয়া জ্বলছে। মাত্র দেঢ় বছরে এমন উইটার্নের পেছনে টুম্পার মায়ের ভূমিকা সব থেকে বেশী।
টুম্পার স্মামী একটু রগচটা টাইপের। একদিন রান্না-বান্না নিয়ে প্রথম ঝগড়ার সূত্রপাত হয়। তরকারিতে লবণ কম-বেশী, স্বাদ হয়না, ভাত পুড়ে যায় ইত্যাদি ইত্যাদি। মি. রগচটা ঝগড়ার সূচনা করেন এবং টুম্পকে তার মায়ের নাম ধরে বলেন- তোর মা কি তোকে রান্না করা শিখায়নি? এ নিয়ে তাদের মাঝে ব্যাপক ঝগড়া হয়। টুম্পা তার মাকে পুরো ঘটনা বলে। তার মা ক্ষিপ্ত হয়ে যায় এবং একমাথা রাগ নিয়ে টুম্পার হাজবেন্ডকে ফোন দিয়ে বকাঝকা করেন। টুম্পার হাজবেন্ড অফিস থেকে রাতে বাসায় ফিরে টুম্পাকে ব্যাপক মারেন।
টুম্পার কোন ভাই নেই, ওরা চার বোন। বাবা প্রইভেট জব করেন। তিনি জেন্টেলম্যান। মূলত সংসার চালান মা-ই। নারী নেতৃত্বের এক অনন্য-উজ্জল দৃষ্টান্ত এই পরিবারটি। অনেকে এই পরিবারকে ছয় মেয়েলোকের পরিবার বলে থাকেন! মায়ের ষোলকণা পেয়েছেন টুম্পার বড় বোন মাইশা। টুম্পার মা এবং মাইশা বসে ঠিক করলেন টুম্পার আর এখানে (এই সংসারে) ভাত খাওয়া হবেনা। তাকে আমরা অন্য জায়গায় ভাল বিয়ে দেবো!
যেই ভাবা সেই কাজ। তারা প্রতনিয়ত টুম্পাকে উত্তেজিত করলেন এবং স্মামীর সাথে ঝগড়া ও মারামারিতে সমানতালে অংশ নিতে উৎসাহ দিলেন। একপর্যায়ে তাদের বিচ্ছেদ ঘটলো।
শিক্ষা: মা-বাবা ও বড়রা হবেন আদর্শ। সন্তানের ভাল-মন্দ তারা থার্ডকোণ থেকে ডিপলি চিন্তা করবেন। তাদের উত্তেজিত হলে চলবেনা। নাজুক পরিস্থিতিতি দুই পরিবার একত্রে বসে আলাপ-আলোচনা করে সঠিক উপায় বের করবেন। তালাক বা ছাড়াছাড়ি কখনই কাঙ্খিত নয়।

Copy post
জুবায়ের হুসাইন 

পঠিত : ১৯৩৩ বার

মন্তব্য: ০