Alapon

নেতৃত্ব নিয়ে নীরব কোন্দল এবং জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ...

রংপুর পল্লীনিবাসে কবরস্থ করার মাধ্যমে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। তার শেষ যাত্রাটাও তার গোটা জীবনের মতই সমস্যাপূর্ণ ছিল। শেষ পর্যন্ত রংপুরের মানুষেরই জয় হয়েছে। পরিবার চেয়েছিল ঢাকায় কবরস্থ করতে। কিন্তু রংপুরের জাতীয় পার্টির নেতারা অনেকটা আন্দোলন করে কিংবা জোর করেই তাকে রংপুরে কবরস্থ করে।

এর মধ্য দিয়ে এরশাদ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদকে মোটা দাগে বিশ্লেষণ করলে মনে হবে, একটা উড়নচন্ডি মানুষ। মন যখন যা চেয়েছে, তাই করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা বলে, হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদ কোনো কাজই অকারণে করেননি। তিনি ঠিক সেই কাজটিই করেছেন, যা তার স্বার্থ সম্পর্কিত।

তিনি শেষ সময়ে এসেও হিসাব মত কাজ করে গেছেন! জীবনের শেষ দিকে এসে তিনি নাকি সম্পদের চিন্তায় অস্থির ছিলেন। সেই চিন্তা থেকেই নাকি তার সমস্ত সম্পদ ও সম্পত্তি ট্রাস্টি বোর্ডের কাছে ওয়াকফ করে গেছে। অবশ্য সেখানে অগ্রাধিকার পাবে এরিক। এরিক এবং এরিকের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই সম্পদ ব্যবহারসহ ভোগ করতে পারলেও কখনো বিক্রি করতে পারবে না।

অন্যদিকে সেই ট্রাস্টি বোর্ডে রওশন এরশাদ বা ছোটভাই জিএম কাদের কারোরই জায়গা হয়নি। জীবনের শেষ বেলাতেও এরশাদ কত হিসাবি ছিলেন তা সহজেই অনুমেয়।

এবার আসি এরশাদের দলের ক্ষেত্রে! এরশাদ মরে যাওয়ার আগেই দলের নাজুক অবস্থা তৈরী হয়েছে। যদিও এরশাদের রাজনৈতিক দূর্গ কেবল উত্তরবঙ্গের মাঝেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু তারপরও তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। কিন্তু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচন এবং ২০১৮ এর ভোটার বিহীণ নির্বাচনে সরকার পক্ষ অবলম্বন করায়, জাতীয় পার্টির সার্বিক অবস্থা প্রায় ভেঙ্গে পড়েছে।

স্বয়ং রংপুরের মানুষ দলের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। যে রংপুরে আগে এরশাদের লাঙল ছাড়া আর কিছুই কল্পনা করা যেত না, সেই রংপরে লাঙল আর কখনো বিজয় লাভ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে বিস্তর সন্দেহ। তারপরও এতোদিন এরশাদ ছিল বলে, সকলে একই ছাতার নিচে ছিল। কিন্তু এখন এরশাদ নেই। দলের অবস্থা কী দাড়াবে?

নেতৃত্ব নিয়ে রওশন এরশাদের সঙ্গে হুসেইন মুহাম্মাদ এরশাদের আগে থেকেই টানাপোড়ন ছিল। সেই টানাপোড়ন থেকে এরশাদ একবার ঘোষণা দিলেন, তার অবর্তমানে দলের নেতৃত্বে থাকবে রওশন এরশাদ। এর কিছুদিন পর এরশাদ সাহেব আবারও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন। তার অবর্তমানের দলের দায়িত্বভার থাকবে তারই ছোট ভাই জিএম কাদেরের কাধে। এখন পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই বলবত রয়েছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে যে রওশন এরশাদ খুশি হতে পারেননি, তা সহজেই অনুমেয়।

অন্যদিকে রওশন এরশাদের জোরাজুরিতে পদ হারাতে হয়েছে রুহুল আমিন হাওলাদার। সেইসাথে সরকারের শুভু দৃষ্টিতে দলের মাঝে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে সাবেক মন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা।

এখন দেখার বিষয় দল কি জিএম কাদেরের অধীনে ঐক্যবদ্ধ থাকবে, নাকি ত্রিমুখী লড়াইয়ে দল ভেঙ্গে চৌচির হয়ে যাবে! এরশাদ জীবনের সকল পর্যায়ে দারুণ হিসাবি হলেও, পড়ন্ত বেলায় এসে দলের জন্য তেমন কোনো নেতৃত্ব রেখে যেতে পারেননি! এখন দেখার বিষয় জেনারেল এরশাদের অন্তর্ধানের সাথে সাথে তার দলটিও ভেঙ্গে চুরে বিলীণ হয়ে যায় নাকি! আর তা সময়ের সাথে সাথে স্পষ্ঠ হয়ে উঠবে।

পঠিত : ৮৫৪ বার

মন্তব্য: ০