Alapon

বাংলা ভাষা সমৃদ্ধ করার উপায় এবং উপকরণ...

গত রমজানের কথা! এক ভদ্রলোকের সাথে পরিচয় হল। তার সাথে কথা বলতে বলতে যোহরের আযান দিল।
ভদ্রলোক বললেন, ‘ছলাত পড়বেন না?’
জবাবে বললাম, ‘জি ‘নামাজ পড়ব ।’
কথা প্রসঙ্গে বললেন, ‘এবারের রামাদান বেশ কষ্ট হচ্ছে।’
আমিও বললাম, ‘জি এবারের রমজান কিছুটা কষ্টই হচ্ছে।’

ইদানিং বেশ কিছু ভাই এরকম সহীহ আরবি টার্ম ব্যবহার করছেন। এই ব্যবহারে আমার কোনো আপত্তি নেই। বরং ভালোই মনে হচ্ছে। ভাষাবিদ ড. মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ বলেছিলেন, ‘ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে, ভিনদেশি ভাষার আগমনের দুয়ার উন্মুক্ত করে দিতে হবে। যতটা সম্ভব ভিনদেশি ভাষাকে গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু সেই ভাষাকে নিজেদের মত করে গ্রহণ করতে হবে। তবেই ভাষা সমৃদ্ধ হবে।’

ভাষা সমৃদ্ধির দিক থেকে খুশি হতে পারলেও, সার্বিক দিক বিবেচনা করে খুশি হতে পারিনি। বাঙাল বরাবরই হিনমন্যতায় ভোগে। ভাষা নিয়েও হীণমন্যতায় ভোগে। যার দরুন আজকের প্রচলিত ‘নামাজ’ শব্দকে তারা ‘ছলাত’ বানানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। ‘রমজান’ শব্দকে ‘রামাদান’ বানানোর চেষ্টা করছে। ‘মসজিদ’ কে ‘মাসজিদ’ বানানোর চেষ্টা করছে।

যুক্তিস্বরূপ সেইসকল ভদ্রলোক বলছেন, ‘এগুলো সহীহ উচ্চারণ করতে হবে। সহীহ উচ্চারণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’

অবশ্যই সহীহ উচ্চারণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু আপনি যখন আরবী ভাষায় কথা বলবেন, তখন ‘ছলাত ‘রামাদান ‘মাসজিদ উচ্চারণ করুন, তাতে আমার বিন্দুমাত্রও আপত্তি নেই। কিন্তু সেই শব্দগুলো যখন বাংলাভাষায় স্থান পায়, তখন তাকে বাংলার মত উচ্চারণ করুন।

খেয়াল করে দেখুন, সারাবিশ্বে প্রচলিত ‘কম্পিউটার শব্দটি যখন আরবি ভাষায় ব্যবহার করা হয়, তখন তা হয়ে যায় ‘আল-কম্পিউটার’। তারা প্রিন্টারকে উচ্চারণ করে ‘ব্রিন্টার’। কারণ, তাদের ভাষার একটি নিজস্বতা আছে। তারা অন্যের ভাষাকে গ্রহণ করছে ঠিকই কিন্তু সেই ভাষাকে তারা নিজেদের মত করেই ব্যবহার করছে।

আমার কথাটিও সেখানেই। আমরা আরবি শব্দ ব্যবহার করব, ইংরেজি, ফারসি, উর্দু, যত ভাষা রয়েছে, সব ভাষা থেকে শব্দ ব্যবহার করব। কিন্তু তা অবশ্যই নিজেদের মত করে। তবেই ভাষার স্বঃকিয়তা বজায় থাকবে। তবেই ভাষা সমৃদ্ধ হবে।

কিন্তু প্রচলিত ‘নামাজ’ শব্দকে বদলিয়ে আপনি যখন তা ‘ছলাত’ এ রূপান্তরিত করতে চাচ্ছেন, তখনই ভাষা সমৃদ্ধির পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শুধু পথই বন্ধ হচ্ছে না, এরই সাথে সাথে বিভক্তিও তৈরী হচ্ছে। আর এই বিভক্তি ভাষার মৃত্যু ঘটাতে যথেষ্ঠ!

তাই আমার মতে, বলার সময় অথবা লেখার সময় ইংরেজি, আরবি অথবা যে শব্দই ব্যবহার করুন না কেন, তা বাংলা ভাষার মত করে ব্যবহার করুন। তাতেই বাংলা ভাষা সমৃদ্ধ হবে বলে আমার বিশ্বাস।

পঠিত : ১১৫৯ বার

মন্তব্য: ০