Alapon

একজন মেহনতি মানুষের গল্প



তিনি শুধু একজন মেহনতি মানুষ নন, তিনি মেহনতি মানুষের নেতা। একটি পাঞ্জাবি পরেই থাকেন সবসময়। লাল মাওলানা ভাসানীর একনিষ্ঠ অনুসারী।

তিনি নাকি প্রতি মাসে সম্রাটের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা নিতেন। এমনকি প্রতি মাসে নিয়মিত মাসোহারা না পেলে তিনি অকথ্য ভাষায় যুবলীগের নেতাদের গালিগালাজ করতেন। জুয়ার টাকায় ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণসহ বিলাসী জীবনযাপন শুরু করেন বর্ষীয়ান এই বামপন্থী নেতা। ইয়ংমেনস ক্লাব থেকে র‍্যাবের উদ্ধার করা চাঁদাবাজির খাতায় মেননের নাম রয়েছে ৫নং সিরিয়ালে।

শুধু কী তাই? আন্ডারওয়ার্ল্ডের বাম সন্ত্রাসী নেতা খালেদকে মাহমুদ ভূঁইয়াকে যুবলীগের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেন রাশেদ খান মেনন। যেভাবে মোজাফফর গং-রা তাজউদ্দিনকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আওয়ামী লীগে।

খালেদকে আরও বড় পদ-পদবি দেয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলে তদবির করেন। মেননের আশ্রয় পেয়ে রাজধানীর বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন খালেদ। রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে খালেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কলেজে নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে উন্নয়ন কাজ ও শিক্ষার্থী ভর্তিতে বিপুল অংকের টাকা লেনদেন হয়। খালেদের মাধ্যমে এই টাকার একটি বড় অংশ চলে যেত রাশেদ খান মেননের পকেটে। আহা! এভাবেই মেহনতি মানুষের খেদমত করে আসছেন তিনি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি থাকাকালেও মেননের বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। নামকরা দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন ও আইডিয়াল কলেজে ভর্তি বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন রাশেদ খান মেনন ও তার সহযোগীরা।

সেসময় মেননের বিরুদ্ধে অনেক অভিভাবক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগও জমা দেন। কিন্তু শেষমেশ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কারণ উনি তো মেহনতি মানুষের কল্যাণের জন্যই এসব করে থাকেন। এছাড়া আইডিয়াল স্কুলে ভর্তি বাণিজ্য নিয়ে সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করে তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ নিয়োগ বাণিজ্যের প্রমাণ পায়। কিন্তু তার হাইভোল্টেজ তদবিরের কারণে ওই সময় এসব রিপোর্ট কেউ ছাপতে পারেনি।

২৮ সেপ্টেম্বর ইয়ংম্যানস ক্লাবে অভিযান চালানোর সময় ক্যাসিনো থেকে আর্থিক সুবিধাভোগীদের নামের একটি লম্বা লিস্ট উদ্ধার করে র‍্যাব। এ তালিকার ৫ নম্বরে নাম আছে রাশেদ খান মেননের। তার নামের পাশে লেখা আছে ১০ লাখ। অর্থাৎ ক্যাসিনো থেকে মাসে রাশেদ খান মেনন ১০ লাখ টাকা পেতেন।

অবশ্য ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন আলহাজ্ব রাশেদ খান মেনন এমপি। তিনি বারবারই গণমাধ্যমে বলছেন, ক্লাব পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকলেও ক্যাসিনোর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমরাও বলি, তাই তো, ক্যাসিনো খেলার মতো বেকুব অনুসারী নিশ্চয়ই ভাসানী রেখে যাননি। উনি শুধু ক্যাসিনোতে টাকা উড়ানো বুর্জোয়াদের পকেট থেকে টাকা বের করে ওনার মতো গরীব অনাহারীর মুখে খাবার তুলে দেন।

মেহনতি মানুষের নেতা মেনন ভাইকে বিভিন্ন টেন্ডার থেকেও টাকা পয়সা দিতে হয়। বড় বড় অনেক ঠিকাদারি কাজের টেন্ডার পাওয়ার পর ৫ পার্সেন্ট হারেও কমিশন নিয়েছেন মেনন। অথচ এমন একটা পার্সেন্টেজ দাবী করার কারণেই শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড রাব্বানী ভাঈ ও শোভন ভাঈকে পদ হারাতে হলো।

এটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র মেহনতি মানুষের জন্য। মেনন ভাঈ এসব পার্সেন্টেজ গ্রহণ করেন শুধুমাত্র মেহনতি মানুষের মুখে আহার তুলে দেয়ার জন্য। অনেকে জিজ্ঞাসা করে উনি কোন মেহনতির মুখে এসব খাবার তুলে দিয়েছেন? কমবখতরা জানেই না মেনন ভাঈ নিজেই তো মেহনতি মানুষ।

পঠিত : ১৬৯৫ বার

মন্তব্য: ০