Alapon

জোসে মরিনহো : দ্যা স্পেশাল ওয়ান!


আপনাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অভূতপূর্ব টুর্নামেন্ট জয়ের ইতিহাস কোনটা? তাহলে আপনি কি বলবেন? লেস্টার সিটির প্রিমিয়ার লীগ জয়? গ্রীসের ইউরো জয়? হুম তা বলতেই পারেন নিঃসন্দেহে। যাই বলুন না কেন এই নামগুলোর ভীরে যে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত আলো ছড়াবে জোসে মরিনহোর পোর্তোর চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয় তা বলে দেয়াই যায়!

ফুটবলার হিসেবে জোসে মরিনহো তেমন ভাল করেন নি। পর্তুগালের ছোটদলের হয়ে খেলে নিজের সীমাবদ্ধতাকে বুঝে খেলা বাদ দিয়ে কোচিংয়ের দিকে ঝুকে পড়েন। ১৯৯০ সালে নিজের শহরের ক্লাব ভিটোরিয়া ডি সেতুবালের ইয়থ লেভেলের কোচ হয়ে কোচিং জীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৯২ সালে স্পোর্টিং লিসবনে স্যার ববি রবসনের সাথে কাজ করার সুযোগ পান। তার কাজ ছিল মূলত অনুবাদকের মত। রবসনের ট্যাক্টিক্স প্লেয়ারদের অনুবাদ করা বুঝিয়ে দিতেন।
১৯৯৩ সালে ববসন পোর্তের কোচ হলে জোসে মরিনহো সেখানেও তার সাথে যান। কাজ করেন সহকারী কোচ হিসেবে। এসময় পোর্তের হয়ে লীগ, কাপ, সুপার কাপ জিতেন তারা। ভাল পারফরমেন্স দেখানোর সুবাদে রবসন ও মরিনহো জুটি পাড়ি জমান বার্সেলোনাতে। সেখানে রবসন এবং মরিনহো জিতেন ইউরোপিয়ান কাপ উইনার্স কাপ, কোপা দেল রে, সুপারকোপা ডি এস্পানা। রবসন এরপরে বার্সেলোনা ছেড়ে চলে গেলেও মরিনহো থেকে যান বার্সেলোনাতে। বার্সেলোনার পরবর্তী কোচ লুইস ভ্যান গালের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। সেখানেই মূলত আলো ছড়ানো শুরু করেন। ভ্যান গাল মরিনহোর কাজের উপরে খুবই সন্তুষ্ট ছিলেন এবং তাকে Copa Catalunya কাপে দল চালানোর দায়িত্ব দেন। মরিনহো সেই কাপ জিতে নিতে ভুল করেন নি।

- সেপ্টেম্বর ২০০০ সালে মরিনহো বেনফিকার সহকারী ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিলেও লীগের মাঝপথে জুপ হেইংকেস বেনফিকা ছেড়ে চলে গেলে মরিনহো ম্যানেজারের দায়িত্ব পান। লীগে ভাল পারফরমেন্স দেখান স্পেশালি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পোর্টিংকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আলোচনায় আসেন। ক্লাব প্রেসিডেন্টের কাছে সিজনের মাঝেই কন্ট্রাক্ট নিয়ে বনিবনা না হলে মাত্র ৯ ম্যাচ পরেই দায়িত্ব ছেড়ে দেন।
এরপরে মধ্যম সাড়ির দল ইউনিয়াও দি লেইরিয়ার ম্যানেজার ছিলেন ২০০১ সালে। তাদের নিয়ে লীগ শেষ করেন পঞ্চম হয়ে যা তাদের ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে ভাল ফলাফল ছিল।

পোর্তোতে কোচ হিসেবে জয়েন করেন ২০০২ সালে। যখন দায়িত্ব নেন তখন পোর্তোর অবস্থা একদমই ভাল ছিল না। ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্ট জেতা তো দূরের স্বপ্ন, কোয়ালিফাই করাই ছিল দায়! মরিনহোর অধীনে পোর্তো ৩য় অবস্থানে লীগ শেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ খেলার সুযোগ পায়।
বাইয়া, কারভালহো, কস্তিনহা, ডেকো, আলেনিচেভ ও পস্তিগা, জর্জ কস্তা, নুনো ভ্যালান্তে, দেরলেই কে লেইরিয়া, পাওলো ফেরেইরা কে ভিক্টোরিয়া সেতুবাল, পেড্রো, বোয়াভিস্তা, জ্যাঙ্কাউস্কাস ও মানিশকে নিয়ে একটা মাঝারি সারির দল নিয়ে নামেন লীগ এবং উচলে।
নিরাশ করেন নি পোর্তোকে। রেকর্ড ৮৬ পয়েন্ট নিয়ে পোর্তো লীগ জিতে যায়। এছাড়া তারা পর্তুগীজ কাপও জিতে নেয় সেইবার।

২০০৪, ইতিহাস রচনার মঞ্চে মরিনহো: আপনাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অভূতপূর্ব টুর্নামেন্ট জয়ের ইতিহাস কোনটা? তাহলে আপনি কি বলবেন? লেস্টার সিটির প্রিমিয়ার লীগ জয়? গ্রীসের ইউরো জয়? হুম তা বলতেই পারেন নিঃসন্দেহে। যাই বলুন না কেন এই নামগুলোর ভীরে যে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত আলো ছড়াবে জোসে মরিনহোর পোর্তোর চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়!
খোদ পোর্তোর সমর্থকেরাও যা বিশ্বাস করে নি তা বাস্তবে করে দেখিয়েছিলেন জোসে মরিনহো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ১০% বাজেট নিয়ে যখন ওল্ড ট্রাফোর্ডে রাউন্ড অফ সিক্সটিনে স্যার এলেক্স ফারগুসনের ইউনাইটেডকে আউটক্লাস করে ড্রেসিংরুমে সেলিব্রেশন করতেছিলেন দলকে নিয়ে তখন খোদ স্যার এলেক্স ফারগুসন তার খেলায় মুগ্ধ হয়ে পোর্তোর ড্রেসিংরুমে যেয়ে মরিনহোকে অভিনন্দন জানালেন এবং বললেন এই জয় তোমাদেরই প্রাপ্য ছিল।
স্যার এলেক্স ফার্গুসনের সেই মূল্যবান কথাকে ফেলতে দেন নি মরিনহো। ২৬ মে ২০০৪ সালে রচনা করেন ইতিহাস! ৩-০ ব্যাবধানে প্রতিপক্ষ মোনাকোকে ফাইনালে উড়িয়ে দিয়ে পোর্তোকে নিয়ে বিজয় দামামা বাজান জোসে মরিনহো।
ইয়েস! ঠিকই শুনেছেন! পোর্তোকে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়।

পোর্তোর সাফল্যের পরে চেলসি এবং লিভারপুল মরিনহোকে কোচ বানাতে আগ্রহী হয়। পরবর্তিতে চেলসিতে যোগদান করেন ২০০৪ সালে। স্যার এলেক্স ফারগুসন বা আর্সেন ওয়েঙ্গারের দাপটের মাঝে মাত্র ৩ সিজনে ২ টি প্রিমিয়ার লীগসহ জিতেন ৬ টি ট্রফি। এরপরে ম্যানেজমেন্টের সাথে বনিবনা না হওয়াই চেলসি ছেড়ে পাড়ি জমান ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলানে যেখানে রচনা করেন আরেক ইতিহাস!

ইন্টার মিলান, মরিনহো এবং ট্রেবল :
২০০৮ সালে চেলসি থেকে পাড়ি জমান ইতালিতে। ইন্টার মিলানের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম বছরেই জিতে নেন সিরি আ লীগ। নগর প্রতিদ্বন্দী এসি মিলান এবং তুরিনের বুড়ি জুভেন্টাসের চেয়ে দশ পয়েন্ট বেশি নিয়ে লীগ জিতেন। জিতেন সুপার কোপা ইতালিও। লীগে ভাল করলেও চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ইন্টার মিলান সুবিধা করতে পারতেছিল না। কে জানত মরিনহো ম্যাজিক আবারো দুনিয়া দেখতে যাইতেছিল পরের সিজনেই!
৮২ পয়েন্ট নিয়ে আবারো জিতে নেন সিরি আ লীগ। জিতে নেন কোপা ইতালিয়াও। সবকিছু পরিপূর্ণতা পায় যখন ইন্টার মিলান বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের শিরোপা ঘরে তোলে। মরিনহো ইন্টারকে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিতানোর পথে সেমি ফাইনালে হারান কালজয়ী পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনা দলকে! হোম ম্যাচে ৩-১ গোলে জয় নিয়ে ক্যাম্প নূতে ১-০ গোলে হেরে ৩-২ এগ্রিগেটে লিজেন্ডারি বার্সেলোনা দলকে হারিয়ে ইন্টার মিলানকে ফাইনালে নিয়ে যান মরিনহো।
ফাইনালে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতার মাধ্যমে ট্রেবল জিতেন ইন্টার মিলানকে নিয়ে। ইন্টার মিলান ছাড়ার পর থেকে ইন্টার মিলান এখন পর্যন্ত কোন সিরি আ লীগ বা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিততে পারে নাই।

রিয়াল মাদ্রিদ এবং মরিনহো: রিয়াল মাদ্রিদ এবং ইন্টার মিলানের অনেক আলোচনার পরে মরিনহোর পারসোনাল চয়েজকে প্রায়োরিটি দিয়ে ইন্টার মিলান মরিনহোকে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হতে অনুমতি দিলে ২০১০-১১ তে রিয়াল মাদ্রিদে আসেন মরিনহো। যখন রিয়াল মাদ্রিদ টানা ২ সিজন ট্রফি বঞ্চিত! প্রথম সীজনে লীগে সেকেন্ড হলেও দলকে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেমি ফাইনালে নিয়ে যান এবং কোপা দেল রে জিতান যা ছিল তিন সিজনে মাদ্রিদের প্রথম ট্রফি!
লীগ জিততে বেশি দেরী করেন নি। পরের সিজনেই ১০০ পয়েন্ট (রেকর্ড) নিয়ে টানা তিন সিজন পরে রিয়াল মাদ্রিদের হাতে তুলে দেন লা লীগার শিরোপা। রিয়াল মাদ্রিদের পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সাফল্যের বিজটাও এই জোসে মরিনহোই গড়েছিলেন।
২০১২-১৩ সিজনে রিয়াল মাদ্রিদ আবারো সেমি ফাইনালে ওঠে কিন্ত জার্মান দল ডর্টমুন্ডের কাছে হেরে বিদায় নেয়। এদিকে ক্যাসিয়াসকে বেঞ্চ করানোসহ বিভিন্ন কারনে প্লেয়ার ম্যানেজমেন্ট ঝামেলায় জড়িয়ে ড্রেসিংরুমে কন্ট্রোল হারিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়েন মরিনহো। পাড়ি জমান আবারো চেলসিতে!

চেলসি : প্রথম সিজনে চেলসি মাত্র ৪ পয়েন্ট দূরে থেকে শেষ করে চ্যাম্পিয়ন সিটি থেকে। পরের সিজনে ফ্যাব্রেগাস, কর্তোয়া ও কস্তাকে নিয়ে আসেন দলে। তিন ম্যাচ বাকি থাকতেই লীগ শিরোপা জিতে চেলসি। এটি ছিল চেলসির হয়ে মরিনহো ৩য় লীগ জয়। চেলসির সাথে কয়েক বছর থাকার চুক্তি করলেও পরের সিজনে খারাপভাবে শুরু করায় এবং মালিক আব্রাহিমোভিচের সাথে ঝামেলায় মিউচুয়াল আলোচনায় চাকরি ছাড়েন মরিনহো।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড : স্যার এলেক্স ফারগুসন চলে যাবার পর থেকে নিজেদের হারিয়ে খোজা রেড ডেভিলদের দায়িত্ব নেন জোসে মরিনহো। প্রথম সিজনে কমিউনিটি শিল্ড জিতেন। জিতেন ইউরোপা লীগও।
২০১৭-১৮ সিজন প্রিমিয়ার লীগে ৮১ পয়েন্ট নিয়ে সেকেন্ড হয়ে শেষ করে ইউনাইটেড। এটি ছিল স্যার এলেক্স ফারগুসন যাবার পরে ইউনাইটেডের সর্বোচ্চ পয়েন্ট। ৮১ পয়েন্ট নিয়ে আগেরবার লিস্টার সিটি প্রিমিয়ার লীগ জিতে যা জোসে মরিনহো ১৭-১৮ সিজনে পেয়েছিল যা ম্যানসিটি ব্রিলিয়ান্সের নিচে ঢাকা পড়ে যায়।
কোচ হিসেবে ইউনাইটেড দায়িত্ব ছাড়ার আগে এত খারাপের মাঝেও জিতেছেন তিনটি ট্রফি।

মরিনহো যেখানে সেরা : প্রেসিং, কাউন্টার প্রেসিং, কাউন্টার এটাক, টিকিটাকা এমন অনেক ট্যাক্টিক্স আছে যা আধুনিক ফুটবলে কোচরা ব্যাবহার করেন। জোসে মরিনহো সবচেয়ে ভাল যেটা পারেন সেটা হলো কাউন্টার ট্যাক্টিক্স৷ মরিনহো খুব দ্রুত প্রতিপক্ষের দুর্বলতাগুলো খুজে বের করতে পারেন যদি সেটা সামান্যতমও হয়। ইতিহাসের অন্যতম সেরা সেই বার্সেলোনা দলকে কিভাবে হারানো যায় সেটা মরিনহোই প্রথম দেখিয়ে ইন্টার মিলানকে নিয়ে জিতেছিলেন ট্রেবল। পোর্তোকে নিয়ে ইউনাইটেডের শক্তিশালী দলকে আটকে দিয়ে জিতেছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স লীগ। চেলসিকে নিয়ে স্যার এলেক্স ফার্গুসন এবং আর্সেন ওয়েংগারের রাজত্ব ভেঙে দিয়েছেন।
মরিনহো একবার এমনটা বলেছিলেন, "সাধারণ গাড়ি নিয়ে আপন যখন ফেরারির সাথে রেসে যাবেন তখন আপনার রেস জিততে হলে হয় ফেরারির চাকা ফুটো করে দিতে হবে নতুবা তেলের মাঝে চিনি মিশিয়ে দিতে হবে।"
উনি করেনও তাই। প্রতিপক্ষ যখন ফেরারি লেভেলের ট্যাক্টিক্স নিয়ে অনেক কনফিডেন্স নিয়ে মাঠে নামে জোসে মরিনহো তখন সেই ট্যাক্টিক্সের সামান্যতম খুত ধরে নিজের দলকে নিয়ে মাঠ থেকে জয় ছিনিয়ে আনেন।
মরিনহোর মত প্রতিপক্ষের ট্যাক্টিক্স এত দ্রুত ডিটেক্ট করতে খুব কম কোচই পারেন। একটা দলের দুর্বলতা বের করার একটা সাম্প্রতিক উদাহরণ দেই। প্রায় মাস খানেক আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড একটানা অনেক ম্যাচে প্রচুর গোল করতেছিল। মরিনহো তখন পোস্ট ম্যাচ এনালাইসিসে বললেন, ইউনাইটেডের এই দলের গোল আটকানো অনেক সহজ। ২ স্তরের ডিফেন্স সাজাইলে এই ইউনাইটেড আর গোল করতে পারবে না। যেই বলা সেই কাজ! প্রতিপক্ষও তাই করা শুরু করলে একটানা অনেকদিন ইউনাইটেড একদম কম গোল করা শুরু করে।

এছাড়া তার স্পেশালিটি হলো তিনি এটাক কখন করতে হবে তার মোমেন্টাম ভাল ঠিক করতে পারেন। প্রতিপক্ষের সাথে ব্যাকওয়ার্ডে খেলতে খেলতে হঠাৎ মরিনহোর দল ১৫-২০ মিনিট প্রচুর প্রেসিং / ফাস্ট ফুটবল খেলা শুরু করে। প্রতিপক্ষ সেটার জন্য মোটেও প্রস্তুত থাকে না তখন। প্রতিপক্ষ সেটার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে সামান্যতম দেরী করে ফেললেই সেখান থেকেই গোল আদায় করে নিতে পারে তার দল। বড় ম্যাচে রেজাল্ট কিভাবে বের করে আনতে হয় তা মরিনহোর চেয়ে খুব কম মানুষই ভাল জানেন।

যুগে যুগে মরিনহোদের মত উইনাররা হাজারো সমস্যার ভীরে বারবার নিজেদের ব্রিলিয়ান্সের দামামা দেখিয়েছেন। অনেকে যখন তাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছেন তখন হয়ত জোসে মরিনহো আবারো পোর্ত বা ইন্টার মিলানের মত কোন দলকে নিয়ে ট্রেবল বা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতার প্ল্যান করতেছেন।
মরিনহো ফিরবে, অবশ্যই ফিরবে এবং রাজার হালেই ফিরবে। এটা যে তারই বানানো সাম্রাজ্য! কপি দ্যাট!

লিখেছেন: কনক

পঠিত : ৮৭১ বার

মন্তব্য: ০