Alapon

ইসলামের পথ রোধ করার জন্য এখন আর ইহুদি-নাসারদের দরকার নেই...


হাদীসে বর্ণিত আছে মুসলিমদের সবচেয়ে ঘৃণিত শত্রু হবে ইহুদিরা। যার কারণে, ছোট বেলা থেকেই ইসলামের বিভিন্ন ইতিহাস পড়ে সেখানে ইহুদি-নাসারাদের ষড়যন্ত্র দেখতে পাই। এছাড়াও বিশ্বের যেখানেই মুসলিম নির্যাতন ও প্রতিরোধের সম্মুক্ষিণ হচ্ছে সেখানেই ইহুদি-নাসারাদের সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া যায়।

কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে মনে হচ্ছে, ইহুদি-নাসারাদের আর খুব বেশি কষ্ট করার প্রয়োজন নেই। এখন ইহুদি-নাসারাদের যে কাজ ইসলামের গতি রোধ করা- তা কতিপয় মুসলিম নামধারী আলেমরাই সম্পাদন করছে। যার দরুন সময়ের আলোচিত ও জনপ্রিয় আলেম ও ওলামা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীকে বাধ্য হয়ে সমস্ত ওয়াজ মাহফিলের শিডিউল বাতিল করে দেশ ছাড়তে হলো।

মিজানুর রহমান আজহারীর দোষটা কোথায়...?

ছোট বেলা থেকেই আমরা বইয়ে পড়ে এসেছি- মানুষ মাত্রই ভুল। ফলে মিজানুর রহমান আজহারীও ওয়াজে বক্তব্য দিতে গিয়ে দুই-একটা ভুল করেছিলেন। পরবর্তিতে তিনি সেগুলো সংশোধন করেন এবং আলেম-ওলামাসহ দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আর প্রকৃতজ্ঞানীদের আচরণ তো এমনই হওয়ার কথা।

খলিফ উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছিলেন- জ্ঞানের তিনটি স্তুর। যে জ্ঞানের প্রথম স্তরে অবস্থান করে সে অহংকারি হয়। অর্থাৎ সে মনে করে আমি জগতের সব কিছু জেনে ফেলেছি। যে জ্ঞানের দ্বিতীয় স্তরে প্রবেশ করে- সে বিনয়ী হবে। আর যে জ্ঞানের সর্বোচ্চস্তরে প্রবেশ করবে- সে নিজের অজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে পারবে এবং নিজের সমস্ত কাজের জন্য অনুতপ্ত হবে।

আমরা দেখেছি মিজানুর রহমান আজহারী সাহেব নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়েছেন এবং ক্ষমা মার্জনা করেছেন। একজন জ্ঞানী এবং দ্বায়ী ইলাল্লাহর আচরণ তো এমনই হওয়ার কথা। নিজের অজ্ঞতা ও ভুল অকপটে স্বীকার করার মানসিকতাই প্রমাণ করে- তিনি কতো বড় আলেম।

কিন্তু তার এই বিনয়ই কতিপয় আলেমের গাত্রদাহের কারণ! তারা মিজানুর রহমান আজহারীর এই অনুতপ্ত হওয়া এবং ক্ষমা চাওয়ার মানসিকতাকে গ্রহণই করতে পারছে না। বরঞ্জ তারা সেসব বিষয়কে কেন্দ্র করে পানি ঘোলা করতে চাচ্ছে। যার দরুন আমরা দেখতে পাচ্ছি- জাতীয় সংসদে মমতাজের মত নর্তকী শিল্পীরা মিজানুর রহমান আজহারীর ওয়াজ বন্ধ করার ব্যাপারে কথা বলছে। আর ধর্ম প্রতিমন্ত্রীতো সরাসরিই বলেছেন- আজহারী জামায়াতের প্রোডাক্ট। তিনি সূক্ষ্মভাবে জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।

এর আগে আমরা দেখেছি- সিলেটে কতিপয় আলেম নামধারী ব্যক্তি আজহারীর ওয়াজ বন্ধ করে সেই মাঠে কনসার্টের আয়োজন করে। এসকল আলেমের কাছে এখন ইসলাম মুখ্য নয়; বরঞ্জ নিজেদের হকের ডিলার প্রমাণ করাটাই মুখ্য।

তাই বলতে বাধ্য হচ্ছি- মুসলিমদের এগিয়ে যাওয়া রুখে দেওয়ার জন্য এখন আর ইহুদি-নাসারাদের ষড়যন্ত্র করার প্রয়োজন নেই। এখন ইসলামের পথ রোধ করার জন্য কতিপয় উগ্র, সুযোগ সন্ধানী এবং বেয়াদব মুসলমানই যথেষ্ঠ; যারা কিনা ওয়াজের মাইকে অপর আলেমকে বলে বাটপার, ওরে বাটপার!

ইহুদিরা-নাসারা তো ইসলামের প্রকাশ্য শত্রু। তাই তাদের থেকে সাবধান থাকা যায়। কিন্তু এই বাটপার হুজুররা নিজেরাই মুসলমান। আবার মুসলমান হয়ে ইসলামের পথ রোধ করার চেষ্টা করছে। অর্থাৎ এরা ইসলামের জন্য আরও ভয়ানক শত্রু!

পঠিত : ২৬৫ বার

ads

মন্তব্য: ০