Alapon

বিশ্বসেরা মন্ত্রীর হাত ধরে দেশের অর্থনীতি কোন পথে...?



অবশেষে বিশ্বসেরা অর্থমন্ত্রী আমাদের আ হ ম মোস্তফা কামাল স্বীকার করতে বাধ্য হলেন যে, দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়। এতোদিন পর্যন্ত উন্নয়ন উন্নয়ন করে আর জিডিপি বৃদ্ধির হার বারবার টেলিভিশন ও পত্রিকার মাধ্যমে প্রচার করে দেশের অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা চাপা দিয়ে রাখলেও, মন্ত্রী সাহেব এবার নিজমুখে স্বীকার করে নিলেন যে- দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়। কিন্তু তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে- এ বছরের শেষের দিকে অর্থনীতির এই মন্দাবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

কিন্তু এই মন্দাবস্থা কীভাবে কাটিয়ে উঠবে, কোন জাদুর বলে বা আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্য এসে আমাদের এই লুট হয়ে যাওয়া অর্থনীতির চাকা চাঙ্গা হয়ে উঠবে সেকথা কিন্তু বিশ্বসেরা অর্থমন্ত্রী মোস্তফা সাহেব বলেননি।

তবে তার এই আশাবাদ আমাকে আশান্বিত করতে পারেনি; বরঞ্জ শঙ্কিত করেছে। কারণ, মোস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বলেছিলেন- এবার ঋণ খেলাপির হার কমে আসবে। তিনি সাংবাদিকদের সামনে বারংবার এই কথা উচ্চারণ করেছিলেন। কিন্তু তার দায়িত্বের ১১ মাস পর দেখা যায়- ঋণ খেলাপির হার কমা বা স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছাতো দূরের কথা বরঞ্জ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং ঋণ খেলাপির হার দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।

অন্যদিকে বিশ্বসেরা মন্ত্রী সাহেব ঋণ খেলাপির জন্য ব্যাংকারদের দোষারোপ করেছেন। তিনি ব্যাংকারদের হুমকি দিয়ে বলেন- আপনাদের কারণে আমাকে সংসদে গিয়ে ঋণ খেলাপির জন্য জবাবদিহি করতে হয়।

অথচ এ কথা সর্বজনবিদিত যে, ঋণ মূলত ব্যাংকের মালিকপক্ষ থেকেই নিশ্চিত করা হয়। ব্যাংক কর্মকর্তা চাইল আর এমনি একজনকে কোটি কোটি টাকা ঋণ দিয়ে দিল- এটা অন্তত সারা বিশ্বের বিষ্ময় আমাদের বাংলাদেশে হয় না। এখানে ব্যাংকের মালিক পক্ষ যাকে ঋণ দিতে চাইবে, কেবল তাকেই কোটি কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হবে। আর পরোক্ষভাবে ব্যাংক লুটের সঙ্গে ব্যাংকের মালিকপক্ষও জড়িত। কিন্তু মন্ত্রী সাহেবের ভূমিকা দেখে তার বোঝা যাচ্ছে- মন্ত্রী সাহেব লুটেরাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আর লোকদেখানো শাসন সুলভ তিনি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের চোখ রাঙাচ্ছেন। এসব আইওয়াশ ছাড়া আর কিছুই না। তাই বছর শেষে দেশের অর্থনীতির অবস্থা চাঙ্গা হয়ে যাবে, বিশ্বসেরা মন্ত্রীর এই কথাকে বিন্দু পরিমাণ বিশ্বাস করতে পারলাম না।

গার্মেন্টস অঙ্গন শেষ, ব্যাংক সেক্টর থেকে টাকা লুট করে পাচার করা শেষ। এবার সরকারের চোখ পড়েছে স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো। গত বুধবার জাতীয় সংসদে স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর উদ্বৃত্ত তহবিলের একাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নেওয়ার ব্যাপারে বিল উত্থাপন করা হয়। এই বিল পাস হয়ে গেলে স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রায় ৬১ টি প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়। আর এই টাকার পরিমাণ হতে পারে ২৫-৩০ হাজার কোটি টাকা। এবার এই টাকাগুলোও উন্নয়নের নামে লুটপাট করে বিদেশে পাচার করতে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। তারপর?
তারপর কোন খাত থেকে সরকার লুটপাট করবে?

এভাবে নিজেরাই সব টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করছে- অন্যদিকে বলছে, বছর শেষে দেশের অর্থনীতির অবস্থা চাঙ্গা হবে।

আর শেষ কথা হল- যার হাতে আমরা দেশের অর্থনীতির দায়িত্ব তুলে দিয়েছি, সেই বিশ্বসেরা মন্ত্রী এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের হাত ধরেই দেশের শেয়ারবাজারে ভয়াবহ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে। শেয়ারবাজারকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলেছে। তবে এবার কী পুরো দেশকে ধ্বংস করতে যাচ্ছে?
কারণ, একটি দেশের স্থিতিশীলতা নির্ভর করে অর্থনীতির উপর। অর্থনীতিই যদি দেউলিয়া হয়ে যায় তবে সেই দেশের অবশিষ্ঠ বলে আর কিছু থাকে না। প্রকারান্তরে দেশটাও বিদেশি ঋণের ভারে দেউলিয়া হয়ে যায়।

পঠিত : ১৬৮ বার

ads

মন্তব্য: ০