Alapon

রাগ মানুষের শরম কমিয়ে দেয়...


গড়া বাধলে রাগী মানুষ নির্ধিধায় তার মনের ঝাল মিটিয়ে নেয়। অন্তরের পুরো ঝাল না মেঠা পর্যন্ত সে স্থান ত্যাগ করেনা। ঝগড়ায় কোন কথা বলতে পারেনি, পরে সে কথা মনে পড়লে প্রয়োজনে পুরানো ঝগড়াকে আবার প্রাণবন্ত করে সেই কথাটি বলে দিয়ে তবেই ফিরে আসবে।

রাগ হল সকল নৈতিকতাকে ভূলুণ্ঠিত কারী বদ-গুন। শয়তান তার কাজের শুরুতে ব্যক্তির রাগ কেমন সেটাকে প্রথমে যাচাই করে নেয়। মোটামুটি যিনি অল্পে রেগে যেতে পারঙ্গম, শয়তানের খাতায় তাকে প্রথমে রাখা হয়। রাগী মানুষকে নিয়ে শয়তানের দুঃচিন্তা কম থাকে। আইটেম হিসেবে তার নাম খাতায় রেখে দেওয়া হয়; সুযোগ মত যুতসই যায়গায় হাজির করে দিলেই হয়, বাকিটা রাগী মানুষ নিজের দায়িত্বেই করে নিবে। রাগ দুনিয়ার সকল ভাল গুনকে নিমিষে ধ্বংস করে। বহু দিনের পুরানো বন্ধুত্ব হুমকির মুখে পড়ে এবং স্ত্রীর মত কাছাকাছি থাকে এমন মানুষও তার উপর আস্তা আনতে পারেনা।

দুনিয়ার বেশীর ভাগ রোগের উৎপত্তি মানসিক অবস্থা থেকে। যে ব্যক্তি শত্রুর বিপক্ষে যদি কোন ভাবেই মনের ঝাল মিটাতে পারে, সে শান্ত ও পরিতৃপ্ত হয়। এই ক্ষেত্রে রাগী মানুষ অগ্রগণ্য। নতুন কোন অঘটন না ঘটা পর্যন্ত তার চরিত্র পানির মত কোমল হয়ে যায়। ফলে গত পরশু যার সাথে লঙ্কাকাণ্ড মার্কা ঝগড়া বাধিয়েছিল আজকে সেই ব্যক্তিকে দেখলে তার সাথে যেচে গিয়ে কথা বলতেও তাদের বিবেকে বাধে না। অথচ তার কথার আঘাতে ক্ষত হওয়া সে ব্যক্তির কলিজা এখনও শুকোয় নাই। অন্তরের বিক্ষত ঘা নিয়ে, তার পক্ষে সহজ হয়ে কথা বলতে দু'দিন নয়, কখনও দু'যুগ ও লেগে যাতে পারে।

রাগী মানুষ বুঝতে অক্ষম, কথার আঘাতের ক্ষত কত কঠিন কত, কত নির্মম, কত পীড়ন তাতে। তাই সে পুনরায় আহত ব্যক্তির সাথে ভাব জমিয়ে জানতে চায়; কি তার সমস্যা? যখন জানতে পারে যে, বহু দিন আগে রাগের মাথায় তার বলা একটি কথার কারণে আজো সে মনক্ষুন্ন, আজো তার কলিজায় চিক-চিক করা ব্যথা উঠে। এ কথা শুনে রাগী মানুষ আন্তরিকতার সহিত অট্টহাসি দিয়ে বলবে, "সেই পুরানো কথা! আজো মনে রেখেছেন? আমি তো সেটা ভুলেই গেছি!" প্রকৃত সমস্যাটা এখানেই! যিনি রাগ করে দু'কথা শুনিয়ে অন্যের হৃদয়ে ঘা করেছেন, এটা তিনি ভুলে গিয়েছেন অথচ এটা তার মনে রাখা দরকার ছিল। অন্যদিকে যিনি রূঢ় কথা শুনে আজো মনের ব্যথা, অন্তরে চেপে রেখেছেন, এটা তার ভুলে যাবার দরকার ছিল কিন্তু তিনি এটা ভুলেন নি। অথচ এটা মহা-মানবদের অন্যতম গুন।

শয়তান একদা মুসা (আঃ) কে পরামর্শ দিয়েছিল, হে আল্লাহর নবী, আপনি আমার একটি উপকার করেছেন, তাই আমিও আপনার একটি উপকার করে তার বদলা দিতে চাই। "আপনি কখনও রাগ করবেন না। যখন রাগ হবে, মনে করবেন, ওটা আমার প্রভাবেই হয়েছে, যা আপনার অন্তরে প্রভাবিত হয়েছে। আর সেই সময় আমার চোখ আপনার চোখের মধ্যে বসানো থাকে এবং আমি সেই সময় আপনার রক্তের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করতে থাকি"।

রাসুল (সা) বলেছেন, "শক্তিশালী সে নয় যে কাউকে কুস্তিতে পরাজিত করে, প্রকৃত শক্তিশালী সেই, যে তার রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে।" তাই আসুন আমরা রাগ পরিহার করি। জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান মানুষের জন্য রাগ শোভনীয় নয়। মনের ভিতরে বহু লুকায়িত কথা রাগের মাথায় বের হয়ে যায়। এতে মানুষকে আরো লজ্জিত হতে হয়। তখন একটি কথার খেসারত সারা জীবন বইয়ে বেড়ালেও কোনদিন উপশম হয় না। তাছাড়া কোন রাগী মানুষের স্থান জান্নাতে হবে না।

Nazrul Islam Tipu

পঠিত : ৮১ বার

ads

মন্তব্য: ০