Alapon

তবে কি আমরা ধর্মীয় দিক থেকেও পরাধীন...?


বিভিন্ন নিউজে মনে হয়েছিল কর্তৃপক্ষ তাদের কর্মচারীদের জন্য নামাজ বাধ্যতামূলক করেছে। প্রকৃতপক্ষে তা সত্য নয়, মালিকপক্ষ শুধু বেতন তারতম্যের ঘোষনা দিয়েছিল। চাকুরিচ্যুতির কোন বিষয় সেখানে ছিল না। যা হোক, একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ তার কর্মচারীদের ধর্মাচরন পালনকে শ্রমনীতির সাথে যুক্ত করতে পারেন কিনা সে নিয়ে নানা মুনির নানা মত থাকতে পারে। কারো কাছে ঠিক মনে হতে পারে, আর কারো কাছে তা বেঠিক। কিন্তু বাংলাদেশে এটা নূতন কিছু নয় - বেশ কিছু মিশনারী প্রতিষ্ঠানে অনেক যুগ থেকেই কর্মচারীদের এরকম ধর্মাচরনের চর্চা হয়ে আসছে। যেহেতু সেসব অমুসলিম সংশ্লিষ্ট, সে কারনে সেক্যুলারদের কাছে তা গ্রহনযোগ্য। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের সেক্যুলারদের মূল আপত্তি থাকে ইসলাম নিয়ে।


এবার আমার নিজের মতামত দেই। নামাজ না পড়লে বেতন কর্তন করা হবে - এই ঘোষনাটি আমিও ঠিক সমর্থন করতে পারিনি।

কারন বেতন শ্রমনীতির মত ইহলৌকিক বিষয়ের সাথে জড়িত। আর নামাজ তো হৃদয়ের মুক্তি, আত্মার সমর্পন। নজরুলের সেই কবিতা আবার মনে পড়ে যায়:


"এমন সময় এলো মুসাফির গায়ে আজারির চিন্

বলে 'বাবা, আমি ভুকা-ফাকা আছি আজ নিয়ে সাত দিন!'

তেরিয়া হইয়া হাঁকিল মোল্লা - 'ভ্যালা হ'ল দেখি লেঠা,

ভুখা আছ মর গো-ভাগাড়ে গিয়ে! নামাজ পড়িস বেটা?

ভুখারী কহিল, 'না বাবা!' মোল্লা হাঁকিল - 'তা হলে শালা

সোজা পথ দেখ!' গোস্ত-রুটি নিয়া মসজিদে দিল তালা!

ভুখারি ফিরিয়া চলে,

চলিতে চলিতে বলে-

'আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তোমায় কভু,

আমার ক্ষুধার অন্ন তা'বলে বন্ধ করনি প্রভু'


হায় রে ভজনালয়,

তোমার মিনারে চড়িয়া ভন্ড গাহে স্বার্থের জয়!"


তা হলে প্রতিষ্ঠান কি ধর্মাচরনের বিষয় থেকে একেবারে মুক্ত থাকবে? না, তা হতে যাবে কেন! বরং একটি প্রতিষ্ঠানে নামাজ বা সেরকম ধর্মাচরনকে উৎসাহিত করে নানা পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। যেমন, যেসব কর্মচারী মাসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক নামাজ মসজিদে পড়বেন তাকে ধর্মীয় তহবিল থেকে কিছু পুরষ্কারের ব্যবস্থা, কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য কোরান হাদীসের প্রতিযোগিতা ইত্যাদি উৎসাহিতকরন পদক্ষেপ নেয়া যায়। এসব পদক্ষেপ বেতন এবং অফিসিয়াল কাজকর্মের বাইরে বলে সংবিধান লংঘনের তকমা লাগানো কঠিন হবে। সদিচ্ছা সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নেয়।

পঠিত : ১৫৯ বার

ads

মন্তব্য: ০