Alapon

ইসলামি দলগুলোর মাঝে কি আদৌ ঐক্য সম্ভব...?


সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামি দলগুলোর মাঝে ঐক্য নিয়ে আলোচনা শোনা যাচ্ছে। তবে সেই আলোচনায় ঘি ঢেলে দিয়েছেন চরমোনাই হুজুর মুফতি ফয়জুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সকল ইসলামি দল ঐক্য করলেও চরমোনাইওয়ালারা ঐক্যরা ঐক্য করবে না। কারণ, জামায়ত। জামায়াত যে ঐক্যের মাঝে থাকবে সেই ঐক্যে চরমোনাইওয়ালারা থাকবে না।’

এমনকি তিনি আরও বলেছেন, ‘যে দেশে কমিউনিষ্ট শাসন জারি থাকবে, সেই দেশে পুনরায় ইসলাম কায়েক করা সম্ভব হতে পারে। কিন্তু যে দেশে মওদুদী সাহেবের জামায়াতের শাসন কায়েম থাকবে, সেখানে কেয়ামত তক ইসলাম ফিরে আসতে পারে না।’

পরের কথাটি ভিন্ন বিষয়। মূল আলোচনা ঐক্য।

ঐক্য বলতে সাধারণত আমরা বুঝি- সকল রাজনৈতিক দল তাদের স্ব স্ব মতাদর্শ বিসর্জন দিয়ে এক দলের অভ্যন্তরে অবস্থান করবে। সেই দলের আন্ডারে সকলে এক যোগে কাজ করবে। তাদের নেতৃত্বেই সকল ইসলাম বিরোধী কাজের বিরুদ্ধে জিহাদ এবং ইসলামের বিজয়ের লক্ষ্যে দাওয়াতি কাজ অব্যাহত থাকবে।

আদৌত এই চিন্তা অত্যাধিক সুন্দর হলেও বাস্তব সম্মত নয়। এমন ঐক্য খুব সম্ভবত কেয়ামত তক দুনিয়ার বুকে প্রতিষ্ঠা পাবে না।

এখন তাহলে প্রশ্ন করবেন- তবে কি ইসলামি দলগুলোর ঐক্য সম্ভব নয়?

ঐক্য অবশ্যই সম্ভব। তবে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় আমাদের তিনটি মূলনীতিকে সামনে রাখতে হবে।

ঐক্যের প্রথম মূলনীতি হচ্ছে, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং তার অগ্রাধিকার নিরুপণে মতৈক্যে পৌঁছানো।

ঐক্যের দ্বিতীয় মূলনীতি হচ্ছে, অভীষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং মানহাজের প্রশ্নে একমত হওয়া।

ঐক্যের সর্বশেষ মূলনীতি হচ্ছে একনিষ্ঠতা, যথার্থতা এবং লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাদের সক্ষমতার ওপর আস্থার প্রশ্নে সমাধানে আসা।

এই তিনটি মূলনীতিকে সামনে রেখে ঐক্যের চিন্তা করা হলে একটি জামায়াতের ভেতর থেকে ঐক্য করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। কারণ, উপরোক্ত মূলনীতি গুলোর ব্যাপারে কখনোই কোনো দল এবং তাদের কর্মীরা একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না। যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে গেলেই সেখানে মানহাজের প্রশ্ন চলে আসবে। আবার সালাফি মানহাজের কেউ কেউ আকীদা নিয়েও প্রশ্ন তুলবেন হয়তো। তাই আদৌত এক জামায়াতের ঐক্য চিন্তা বাস্তবসম্মত নয়।

তাহলে করনীয় কী?

একক জামায়াতে ঐক্য সম্ভব না হলেও- পৃথক পৃথক দল থেকেও ঐক্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এক্ষেত্রে ইসলামি দলগুলোর মাঝে দলাদলি কমিয়ে আনতে হবে। পরস্পরের প্রতি যে বিদ্বেষ- তা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রত্যেককেই আন্তরিক হতে হবে। একই দলভুক্ত হতে হবে এমন কোনো শর্ত নেই- কিন্তু দলগুলো যেন পাশাপাশি অবস্থান করার মানসিকতা রাখে- সেটাই মূল লক্ষ্য।

আর কাজে ক্ষেত্রে- দাওয়াতি কাজের ধরণ হয়তো ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। কৌশল ভিন্ন হবে। কিন্তু ইসলামের মূলনীতির ক্ষেত্রে কখনোই কমপ্রোমাইজ করা যাবে না। সকলকে এই নীতিকে বলিয়ান থাকতে হবে- আমাদের কর্মপন্থা হয়তো ভিন্ন কিন্তু উদ্দেশ্য এক। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্য দিয়ে কুরআনের রাজ কায়েম করা। আর এটাই হবে কার্যকরী ঐক্য!

পঠিত : ১৬৭ বার

ads

মন্তব্য: ০