Alapon

তবে কি আমেরিকাও কোভিড-১৯ -এ আক্রান্ত হতে যাচ্ছে?


কিছুক্ষন আগে ট্রাম্প কোভিড-১৯ আউটব্রেক এর উপর অয়ার্নিং জানিয়ে ভাষণ দিলো। আমেরিকা কোভিড-১৯ এর আউটব্রেকের জন্য রেডি হচ্ছে। ট্রাম্প বলেছে ৩ মাসের মধ্যেই এর ভ্যাক্সিন বের হবে, কিন্তু এক্সপার্টেরা বলছে ভ্যাক্সিন আসতে মিনিমাম ১ বছর লাগেব। অচিরেই আমেরিকা কিছু দেশের সাথে ট্র্যাভেল ব্যান করতে যাচ্ছে, অলরেডি সাউথ কোরিয়ার সাথে তাদের জয়েন্ট মিলিটারি এক্সারসাইজ বাতিল করেছে।


"Dr. Nancy Messonnier, director of the National Center of Immunization and Respiratory Diseases, told reporters Tuesday that the U.S. should prepare for a coronavirus outbreak.

"It's not so much of a question of if this will happen anymore but rather more a question of exactly when this will happen," Messonnier said. "We are asking the American public to work with us to in the expectation that this could be bad." Newsweek, by Jeffery Martin, 2/26/20 at 11:25 PM EST.


আপাতত আমেরিকার সকল অফিস, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল এই কোভিড-১৯ বিরোধী ব্যবস্থা নেয়া শুরু করে দিয়েছে। আমার অফিসও অলরেডি এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছে। যেমনঃ


১) সকল অফিশিয়াল ট্র্যাভেল কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখবে। আমরা যারা ঘন ঘন ট্র্যাভেল করি তারা এখন টেলে প্রেসেন্স আর স্কাইপের মাধ্যমে ইন্টার অফিস কাজ সারব।


২) সবাইকে ঘন ঘন হাত ধোয়ার জন্য অফিসে প্রচুর নোটিশ লাগানো হবে। যারা এখন পর্যন্ত ফ্লূ শট নেয় নাই তাদের আবারও বিনা পয়সায় ফ্লূ শট দেয়ার ব্যবস্থা করবে। আমি অবশ্য প্রথম বারেই গেলো সেপ্টেম্বরে ফ্লু শট নিয়েছি। আমার অফিস প্রতি বছর অফিসের সবাইকে আর তাদের পরিবারকে বিনা পয়সায় ফ্লু শট দেয়ার ব্যবস্থা করে। কারন যত কম এমপ্লয়ি অসুস্থ হবে, তত বেশ কাজ হবে; আর যত বেশি কাজ তত বেশি রেভেনিউ।


২) হ্যান্ড স্যানিটাইজার আর মাস্ক অফিস থেকেই সাপ্লাই দিবে বলছে। তবে অলরেডি নাকি দোকানগুলো বলছে কারো কাছে বিপুল পরিমানে মাস্ক বিক্রয় করা হবে না, যাতে করে কেউ মাস্ক মজুত করতে যেন না পারে। এছাড়াও মাস্ক নাকি চীনে রপ্তানি করা হচ্ছে। আমি অবশ্য আমাজন থেকে অলরেডি কিনে ফেলেছি অল্প কিছু সঠিক মাস্ক। দাম পড়েছে অনেক।


৩) ম্যানেজমেন্টের আমাদের সবার ল্যাপটপ আছে, এখন বাকি ইঞ্জিনিয়ারদেরকেও ল্যাপটপ দেয়া হবে যাতে শহরে আউটব্রেক হলে সবাই বাসায় থেকে ভিপিএন এর সাহায্যে কানেক্ট হয়ে কাজ করত পারে। তবে প্রোডাকশান ফ্লোর এর এফিশিয়েন্সি অনেক কমে যাবে, যাতে ডেলিভারি ব্যহত হবে। কোম্পানির রেভিনিউ কমে যাবে। ক্যাশ ফ্লো এর খুব ক্ষতি হবে।


৪) কারো যদি সিক লিভ না থাকে আর সে যদি অসুস্থ হয় বাসায় থাকে সেই জন্য তার বেতন কাটা হবে না। অর্থাৎ সবাইকে এনকারেজ করা হবে অসুস্থ হলে বা অসুস্থ ফিল করলে যেন বাসায় থাকে।


৫) জানা গেছে একবার করোনায় অসুস্থ হলে প্রায় ৩-৪ মাস লাগছে পুরাপুরি সুস্থ হয়ে কাজে ফিরতে। তাই কেউ যদি অসুস্থ হয়ে ৩ মাসের জন্য কাজে ফিরতে না পারে তকে শর্ট টার্ম ডিজেবালিটি দেয়া হবে। অর্থাৎ সে ৩ মাসের জন্য বাসায় বসে ৬০% বেতন পাবে।


৬) করোনায় আক্রান্ত কেউ চাকুরি হারাবে না সেই নিশ্চয়তা দেয়া হবে যাতে মানুষ অসুস্থ হলে চাকুরি হারানোর ভয়ে অফিসে না আসে।


ওদিকে সানফ্রানসিসকো কোভিড-১৯ এর অয়ার্নিং হিসাবে স্টেট অফ ইমারজেন্সি ডিক্লেয়ার করেছে। ট্রাম্প মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে করোনা বিরোধী জার (Czar) হিসাবে নিয়োগ দিয়েছে। আমেরিকায় এইচআইভি এর মহামারির সময় মাইক পেন্স ইন্ডিয়ানার গভর্নার ছিল। সব স্টেট যখন এইচআইভি বিরোধী যুদ্ধে স্টেটের হেলথ কেয়ার বাজেট বাড়িয়ে দেয় মাইক পেন্স তখন তা কমিয়ে দিয়েছিল। যেই কারনে তার স্টেটে সর্বাধিক পরিমানে এইচআইভি রোগের ক্রাইসিস হয়। তার আবার উদ্ভট সব বিশ্বাস আছে, যেমন সে মনে করে না যে ধূমপান থেকে কোন ক্যান্সার হয় আর বিশ্বে গ্লোবাল অয়ার্মিং হচ্ছে। এই ব্যাক্ত এখন করোনা বিরোধী জার।


এতো গেলো আমেরিকায় আমাদের খবর। বাংলাদেশে তো কোন করোনার খবর পাচ্ছি না। অথচ আসেপাশের সব দেশেই এসে গেছে কোভিড-১৯। এমনকি ভারত, নেপাল, পাকিস্তানেও। ইরানের অবস্থা খারাপ থেকে খারাপের দিকে যাচ্ছে। ইরানের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি ১ মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা দিয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে কোভিড-১৯ আক্রান্ত দেশ থেকে কাউকে আপাতত উমরাহ ভিসা দেয়া হবে না।


আপনাদের খবর কি শুনি। মনে হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের ইমিউন সিস্টেম অত্যন্ত কড়া, যেখানে কোভিড-১৯ দেহে ঢুকে অটোম্যাটিক মারা পড়ছে। জোক্স এপার্ট, আসলেই বাংলাদেশের খবর কি? বাংলাদেশে কোন রোগী কি আসলেই ধরা পরে নাই? এরচেয়ে কম ফেটাল ডেংগুতেই ঢাকার অবস্থা গেলবার কাহিল হয়েছিল অথচ কোভিড-১৯ এর এখন পর্যন্ত দেখাই নাই। আর না আসলেই ভালো। দোয়া করছি ঘন বসতি এই দেশে কোভিড-১৯ না আসে।


অনেকেই কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত কে ফ্লু বলতে চাচ্ছে, কিন্তু ফ্লুয়ের ফ্যাটালিটি যেখানে ০.১% , কোভিড-১৯ এর সেখানে ২% অর্থাৎ প্রায় ২০ গুন।


আপনারা সবাই সুস্থ থাকুন আর আমাদের জন্য দোয়া করবেন আমরাও যেন সুস্থ থাকি। এবং বেশি বেশি করে হাত ধুতে ভুলবেন না। আর আপাতত হ্যান্ডশেইক না করে দেখা হলে একে অপরকে হাত তুলে সালাম দিবেন। সাবধানের মার নেই।

@Sabina Ahmed

পঠিত : ১৬৭ বার

ads

মন্তব্য: ০