Alapon

করোনা ভাইরাস নিয়ে কি সরকার রাজনীতি করছে...?



বিগত কয়েকদিন করোনা ভাইরাস নিয়ে সরকারে উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের বিভিন্ন মন্তব্য লক্ষ্য করলাম। তাদের মন্তব্য দেখে মনে হল- তারা করোনা ভাইরাস নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয়। করোনা ভাইরাসকে তারা হয়তো বিএনপির মত প্রতিদ্বন্দি কিছু একটা মনে করছে। যার সরকারের মন্ত্রীরা বিএনপিকে প্রতিরোধ বা নির্মূল করার জন্য যেমন হুংকার দিত এবং বলত, যে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে বিএনপি কিছুই করতে পারবে না। অনুরূপভাবে এখনো তারা বলছে, যে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে করোনা ভাইরাস নিয়ে কোনো চিন্তা নেই। অতএব সারা দুনিয়া করোনা ভাইরাসের কারণে অনেকটা অবরুদ্ধ জীবনযাপন করলেও বাঙালি জাতির চিন্তার কোনো কারণ নেই। কারণ, তাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে করোনা ভাইরাস এসে কানে কানে বলে দিয়ে গেছে, ওগো মানবতার আম্মু! তুমি যেই দেশের প্রধানমন্ত্রী সেই দেশের মানুষকে আমরা কীভাবে সংক্রমন করি! এতো বড় বেয়াদবি কী করা যায়!

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথাবার্তা শুনলে এমনই মনে হচ্ছে। যেন করোনা ভাইরাস আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ভাসুর লাগে। অনেকটা বিরক্ত হয়েই উপরের কথাগুলো লিখতে বাধ্য হলাম। অন্যদিকে আমাদের বিএনপিও কম যায় না। করোনা ভাইরাসের জন্যও তারা সরকারকে দ্বায়ী করছে। হ্যা এটা ঠিক, সরকার ভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। কারণ, সরকারের হাতে হয়তো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মত সামর্থ নেই। সেটা স্বীকার না করাটা তাদের দেউলিয়াপনা। কিন্তু এই অবস্থায় করোনা ভাইরাস নিয়ে ব্লেইম ব্লেইম গেম খেলাটা একটা মহা অন্যায়!

সকালের পত্রিকায় দেখলাম, ঢাবি এবং বুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেইসাথে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার দাবি জানাচ্ছে। অন্যদিকে অভিভাবকরাও চিন্তিত। কিন্তু এরপরও সরকারের কোনো হেলদোল নেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয় বলছে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়। আর শিক্ষা মন্ত্রনালয় যে কার পাকা ধানে মই দিতে গেছে তা আমরা আদার ব্যাপারী হয়ে কী করে বলি।

আমাদের পাশ্ববর্তি রাষ্ট্র ভারতে এখন পর্যন্ত প্রায় শতাধিক করোনা আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। তার মাঝে ১ জন মারাও গেছে। সেখানে গণজামাত নিষিদ্ধ প্রায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ করা হচ্ছে। কারণ, এটাকে প্রতিরোধ করার মত অবস্থা নেই। তাই সুযোগ থাকতেই তারা সাবধান হচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশের সরকার এখানেও ক্রেডিট নেওয়ার জন্য মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছেন।

আমার বিশ্বাস বাংলাদেশে করোনা রোগীর সংখ্যা প্রায় শতকের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কিন্তু সনাক্তকরার মত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকার কারণে কিংবা সনাক্ত হবার পরও সরকারি চাপের কারণে তা হয়তো গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে না। সারাবিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসের ভয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অফিস আদালত বন্ধ করে দিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ সরকার সবকিছু খোলা রেখে একটা ক্রেডিট নেওয়ার সুযোগ নিতে চাইবে। এরপর আওয়ামী লীগ বিল বোর্ডে বিল বোর্ডে গোটা দেশ ভরিয়ে দিয়ে বলবে, আমাদের আম্মু শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করেছেন। তিনি ছিলেন বলেই করোনা ভাইরাস প্রতিহত করা গেছে।

ওহে সরকার বাহাদুর! এইটা রাজনীতির ময়দান নয়। এইটা একটা মহামারী। মহামারী নিয়ে রাজনীতি কি না করলেই নয়! মনে রাখবেন, মহামারী প্রধানমন্ত্রী চেনে না। মন্ত্রী এমপি সচিব আমলা চেনে না। যেদিন সংক্রমন হওয়া শুরু হবে সেদিন আপনারাও রেহাই পাবেন না। ওই এসি গাড়ির বদ্ধ জানালা আপনাদের রক্ষা করতে পারবে না।

কড়োজোরে অনুরোধ করছি, সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে আপনারা বহু রাজনীতি করেছেন। কিন্তু এভাবে জুয়া খেলবেন না। নিজেদের সামর্থের ব্যাপারে আমাদের বেশ ভালোই জানাশোনা আছে। চীন যেভাবে রাতারাতি একটা আলাদা হাসপাতাল নির্মাণ করার সামর্থ রাখে আমরা তা রাখি না। যদি মহামারীরূপ ধারণ করে তবে চীনের মত করে নিরাময় করার মত অবস্থা বা সামর্থ আমাদের কোনোটাই নেই। তাই দয়া করে সংক্রমন হওয়ার আগেই সাবধান হোন। অন্তত সপ্তাহের জন্য হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করুন। সাধারণ মানুষগুলোকে বিপদের মুখে ঢেলে দিবেন না, প্লিজ।

পঠিত : ৯৯ বার

ads

মন্তব্য: ০