Alapon

ভাইরাস সংক্রমণ করার সুযোগ পেলে সে অবশ্যই সংক্রমণ ঘটাবে...


আমার পরিচিত এক দম্পত্তির বাচ্চা হাফেজি মাদ্রাসায় পড়ে। করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর তারা মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, নিজের বাচ্চাকে নিয়ে আসার জন্য। কিন্তু মাদ্রাসার হুজুরেরা আনতে দেননি। তারা বলেছিলেন- এখানে দ্বীনের খেদমত চলছে। এখানে করোনা ভাইরাস অ্যাটাক করবে না!

দিন দুয়েক আগে সেখানে এক বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ে। সবাই আশঙ্কা করছে, সেই বাচ্চা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এখন হুজুরেরা বাবা-মায়েদের খবর পাঠিয়েছেন, আসুন আপনাদের বাচ্চাদের নিয়ে যান!

অন্যদিকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে কিন্তু কওমি মাদ্রাসাগুলো এখনো বন্ধ দেয়নি। (সম্ভবত আজ বন্ধ দিয়েছে) এটা নিয়ে দু-একটা জাতীয় পত্রিকায় সংবাদও ছাপানো হয়েছে। আর তা দেখে কওমি ঘেষা একটা অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক সাহেব স্ট্যাটাস দিলেন, ‘দ্বীনের মারকাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। দ্বীনের মারকাজে কখনো করোনা ভাইরাস অ্যাটাক করবে না।’ সম্পাদক সাহেবে স্ট্যাটাসের সারমর্ম এমনই ছিল।

শিক্ষিত মানুষ হয়ে এসব আউল-ফাউল কথা আপনারা যে কেন বলেন, আমার বুঝে আসে না। ইসলামের ইতিহাস ঘেটে দেখুন। ভাইরাস থেকে দ্বীনের মারকাজ কেন, আল্লাহর রাসূলের সাহাবারা পর্যন্ত প্লেগ থেকে রেহাই পাননি। যারা স্বয়ং আল্লাহর রাসূলের সোহবতে ছিলেন, তাঁরাও প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এমনকি প্লেগের কারণে আমিরুল মোমেনিন উমর ইবনুল খাত্তাব রা. সফর স্থগিত করেছিলেন।

আজ মসজিদ বন্ধ করা না করা নিয়ে জাতি দুভাগ হয়ে গেছে। এখানে মসজিদ বন্ধ করা একটা বিষয়, আর নামাজ ঘরে পড়া একটা বিষয়। কেউই মসজিদ বন্ধ করতে বলছে না। মসজিদে আজান হবে কিন্তু নামাজ হবে ঘরে। আর ইসলামে সেই বিধান রয়েছে।

কিন্তু হঠাৎ করে বাঙালি মুসলমানদের ঈমান যেন জেগে উঠল! ঈমানের তেজে করোনা থেকে মুক্তির জন্য হাজার মুসল্লির জনসমাগম ঘটিয়ে দু’আ অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। হায় কপাল। কপালের নাম গোপাল...! আর সবকিছুতেই ইহুদি-নাসারাদের ষড়যন্ত্র খোঁজা বাদ দেন ভাই। এসব হাইস্যকর। কখনো কখনো মহা বিরক্তিকর।

ভাইগো, করোনা ভাইরাস দ্বীনের মারকাজ চেনে না। করোনা ভাইরাস মাদ্রাসা চেনে না। করোনা ভাইরাস মসজিদ চেনে না। ভাইরাসের ধর্মই সংক্রমণ করা। আর আল্লাহই সবকিছুকে নিজস্ব ধর্ম দান করেছেন। ভাইরাস তার ধর্মনুসারে কাজ করেই যাবে।

আপনি দ্বীনের মারকাজেই থাকুন আর গণভবনে থাকুন- যেখানেই থাকুন না কেন করোনা ভাইরাস সংক্রমণ করার সুযোগ পেলে সে অবশ্যই সংক্রমণ ঘটাবে। কে মন্ত্রী, কে প্রধানমন্ত্রী আর কে দ্বীনের খাদেম- ভাইরাসের এসব দেখার টাইম নাই। যাকে পাবে তাকেই খেয়ে ফেলবে।

পঠিত : ১৪৫ বার

ads

মন্তব্য: ০