Alapon

আপনার অতি আবেগী কর্মকাণ্ড যেন পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে না তোলে...


মিরপুরে গতকাল যিনি মারা গিয়েছিলেন, গনি ইসলাম, তিনি ছিলেন মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ।

তার কাছ থেকে তিনি যে ভবনে থাকতেন, ঐ ভবনের আরো কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অন্তত একজনের স্ট্যাটাস দেখেছি, যিনি অসুস্থ অনুভব করছেন।
যে ডাক্তার গনি ইসলামের চিকিৎসা করেছিলেন, তিনিও তার কাছ থেকে সংক্রমিত হয়েছেন। অসুস্থ হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

গনি ইসলামের আরেকজন প্রতিবেশী, মোজাম্মেল হকও সম্ভবত তার কাছ থেকেই সংক্রমিত হয়েছেন। আজ তিনিও মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি ছিলেন স্থানীয় মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি।

গনি ইসলামের শরীরে করোনা ভাইরাস কোথা থেকে এসেছে? তার সাথে প্রবাস ফেরত কারো দেখা সাক্ষাৎ হয়নি। তিনি বেশি কোথাও যেতেন না। তার ছেলেদের সন্দেহ, তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মসজিদে গিয়ে।

ঐ মসজিদ থেকে গনি ইসলাম বা এরকম আরো মুসল্লিদের মাধ্যমে ঠিক কতজনের শরীরে ভাইরাস ছড়িয়েছে, সেটা জানার কোনো উপায় নাই। কে জানে, এই গনি ইসলামও হয়তো হতে পারেন বাংলাদেশের পেশেন্ট-৩১।

একটু আগে মিরপুরের ঐ এলাকায় মাইকিং করে মসজিদে জামাত বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ভাইয়েরা, এই ঘোষণাকে শ্রদ্ধা করুন। অতি আবেগী হয়ে নির্দেশ অমান্য করে বিশৃঙ্খলা করবেন না।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে জামাত বাতিল হয়েছে - সৌদি-তুরস্ক-কুয়েত-আমিরাত-লিবিয়া। প্রতিটা দেশে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের সরকার ক্ষমতায়। প্রতিটা দেশের সর্বোচ্চ ফতোয়া কাউন্সিলের আলেম-ওলামারা ভিন্ন ভিন্ন আক্বীদার। কিন্তু বাস্তবতার প্রেক্ষিতে তারা সবাই একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবং এখন পর্যন্ত কোথাও এই নির্দেশ অমান্য করে মিছিলের সংবাদ শোনা যায়নি।

লন্ডন ইম্পেরিয়াল কলেজের মডেল অনুযায়ী ব্র্যাক, নর্থ সাউথ আর জন্স হপকিন্সের গবেষকরা গবেষণা করে দেখিয়েছেন, কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বাংলাদেশে আগামী ২ মাসে ৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে। শুধুমাত্র একদিনেই সর্বোচ্চ ৮০ হাজার মানুষ মারা যেতে পারে। সামনে ভয়াবহ বিপদ। এই সময় আপনার কোনো আবেগী কর্মকাণ্ড যেন পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে না তোলে।

@Toha

পঠিত : ১২৫ বার

ads

মন্তব্য: ০