Alapon

সুশীল সমাজ, নিজের বিবেককে একটু প্রশ্ন করে দেখবেন প্লীজ...?


দুপুরে বাংলাবাজার থেকে রিক্সা নিয়ে মতিঝিলের দিকে যাচ্ছি। রাস্তা মোটামুটি ফাঁকা, কিন্তু রিক্সাওয়ালা তার বহুদিনের অভ্যাস পরিত্যাগ করতে পারলেন না। রং সাইডে রিক্সা চালিয়ে দিলেন। ফলাফল, অপর দিক ছুটে আসা একটি রিক্সা কষা ব্রেক কষতে বাধ্য হলো!

সেই রিক্সায় বসা ছিলেন অতি রূপবতি এক নারী। রিক্সাজুড়ে বাজার খরচের ব্যাগ। আর তার হাতে ছিল ৫ লিটার সয়াবিন তেলের একখানা বোতল। রিক্সার হার্ডব্রেক করার কারণে সেই খরচের ব্যাগসহ নিজেকে সামলাতে পারলেও, হাতে থাকা সয়াবিন তেলের বোতলখানি সামলাতে পারলেন না। বোতলটা ধাস করে রাস্তায় পড়ে গেল। আমি তাড়াহুড়ো করে রিক্সা থেকে নেমে বোতলটা তার দিকে এগিয়ে দিলাম।

বোতল দিতে গিয়ে চার চোখ এক হয়ে গেল! বাংলা সিনেমা হলে এতোক্ষণে আমরা বন-জঙ্গলে গান গাইতাম আর কিম্ভুতকিমার নৃত্য করতাম।

কিন্তু বিধি বাম! সেই নারীর চোখে ছিল অবিশ্বাস। চাহুনি ছিল তৃক্ষ্ণ। তিনি অনেকটা ছোঁ মেরে আমার হাত থেকে তেলের বোতলটা নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। সম্ভবত, আমার রিক্সা থেকে তাড়াহুড়ো করে নামা দেখে সেই নারী ভেবেছিলেন, আমি তেলের বোতল নিয়ে দৌড় দিতে পারি!

আপাতত অধিকাংশের অবস্থা সেই নারীর মত! বাজারে যা পাওয়া যাচ্ছে সব ছোঁ মেরে নিয়ে আসতে চাচ্ছে।

বাঙালি কখনোই সামাজিক ছিল না। তারা কেবল নিজের কথা ভাবতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। বাঙালির আজন্ম শারীরিক ভাষ্য হল- ‘আগে নিজে বাঁচি। কে বাঁচলো আর মরল তা দেখার বিষয় নয়। নিজে বাঁচলেই বাপের নাম।’

বাঙালি কোনো সংকটকেই সামগ্রিকভাবে মোকাবেলা করতে জানে না। সব সংকটই ব্যক্তিগত সংকট মনে করে; জাতীয় সংকট ভাবার যে মানসিকতা প্রয়োজন বাঙালি তা আজন্ম লালন করতে পারেনি। আজও পারছে না। ফলাফল স্বরূপ বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। যাদের সামর্থ রয়েছে তারা সিএনজি, রিক্সা, প্রাইভেট কার ভরে খাবার দাবার কিনে নিয়ে যাচ্ছে। চাহিদা বেশি হলে তার দামও বেশি হয়- এটাই বাজারের নিয়ম। ফলে সব ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষদের। স্বল্প আয়ের মানুষের আয় স্বল্প চাহিদা স্বল্প কিন্তু বাজারে পর্যাপ্ত যোগান নেই। যা আছে তার আকাশচুম্বি মূল্য। অথচ সবাই যদি সমভাবে বাজার করার চিন্তা করতো তাহলে দাম কখনোই এতটা লাগাম ছাড়া পর্যায়ে পৌঁছাতো না।

আমরা দুজন মানুষ। বড় ভাইয়া আর আমি। ৫ কেজি করে চাল কিনে কিনে খাই। চাল কিনতে গিয়ে দেখি কেজি প্রতি ৭-১০ টাকা মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। দোকানদার বললেন, ভাই চালের বস্তা নিয়ে যান। দাম কিন্তু আরও বাড়তে পারে। কিন্তু আমরা কিনিনি। সামর্থ্য নাই এমনটা নয়। এমন ১০ বস্তা চাল কিনে রাখার মত সামর্থ্য আল্লাহপাক আমাদের দিয়েছেন। কিন্তু সবকিছু বোঝার পর আমিও যখন তাদের দলে সামিল হবো-তখন নিজের বিবেকের কাছে জবাব দিবো কীভাবে?

করোনা ভাইরাস একটি সংকট। এই সংকটে কোটিপতিরা যেমন চিন্তিত তেমনই চিন্তিত গরীবরাও। কোটিপতির চিন্তা কিন্তু পেটে খাবার পড়বে কিনা- তা নিয়ে নয়। কিন্তু খেটে খাওয়া মানুষগুলোর একমাত্র চিন্তা কীভাবে আগামীকাল পেটে খাবার জুটবে। সারাদেশে প্রায় কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। আয় ইনকাম সীমিত হয়ে গেছে। কিন্তু এর মাঝে যদি নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দাম বেড়ে যায়- তবে তাদের খাবার নিশ্চিত করাটাই কঠিন। আর এর পেছনে যদি আপনার পরোক্ষ ভূমিকা থাকে- তবে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন তো? পরপারে খোদার সামনে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবেন তো?

আসুন একটু ব্যালেন্সড আচরণ করি...

পঠিত : ১০০ বার

ads

মন্তব্য: ০