Alapon

সেনাবাহিনী কতৃক নির্যাতন এবং জনগণের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নীতি কতটা যৌক্তিক?


করোনা ভাইরাসের কারণে ইতোমধ্যে সরকার কতৃক অঘোষিত লক ডাউন চলছে। সাধারণ মানুষ যেন লক ডাউন মেনে চলে তাই স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তারই অংশ হিসেবে অতি উৎসাহী হয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষসহ, রিক্সাওয়ালা ও দিনমজুরদেরও শাস্তি দিয়েছে, শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পুলিশের চেয়েও একধাপ এগিয়ে ছিলেন মনিরামপুরের এসিল্যান্ড সাইয়েমা। তিনি দুজন বয়োবৃদ্ধ মানুষকে ধরে কান ধরতে বাধ্য করেন এবং কান ধরার সেই ছবি নিজের ফেসবুক ওয়ালসহ সরকারী ওয়েব সাইটে আপলোড করেন।

এসিল্যান্ড সাইয়েমা যে অতি উৎসাহী হয়ে এ কাজ করেছে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। আর সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ঝড় মূলধারার মিডিয়াকেও যে দারুণভাবে প্রভাবিত করে- তা এসিল্যান্ড সাইয়েমার ঘটনা থেকে নতুন করে বুঝতে পারলাম।

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবি ও ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েকটি টেলিভিশন ও পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। তারপর সেই এসিল্যান্ডকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের কাছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

আজ আরও একটি শাস্তির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। দুজন তরুণ বাইক নিয়ে ফিল্ডিং মারতে বেরিয়েছিল। সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের আটক করে জিজ্ঞেস করে- কোথায়, কোন উদ্দেশ্যে যাচ্ছে? তখন তারা বলে আমরা ছাত্রলীগ! তারপরই সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের বেদম প্রহার করে।

বলুন তো এইবার জনগণের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

অবাক করার মত হলেও, এই ঘটনায় জনগণ আনন্দ প্রকাশ করেছে। কেউ কেউ বলছে, দির্ঘ ১২ বছর ধরে এমন একটা দিনের অপেক্ষায় ছিলাম।

বলুন তো, জনগণ এখানে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আচরণ করছে কেন?

কারণ, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ছাত্রলীগের একের পর এক অত্যাচারে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাজি, হলের সিট বাণিজ্য, শিবির ট্যাগ দিয়ে হলের সাধারণ ছাত্রদের নির্যাতন, গেস্ট রুমে নির্যাতন, হলের ক্যান্টিনে ফ্রি খাওয়া, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়া সর্বশেষ ছাত্রলীগের নির্যাতনে বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ নিহতের ঘটনায় জনগণ যারপরনাই তাদের উপর বিরক্ত, মহাবিরক্ত!কিন্তু সরকারের ছাত্র সংগঠন হওয়ায় শত অপরাধ করার পরও উপরন্তু তারাই পুলিশ প্রটেকশন পেতো। আইনের বিচারে সাধারণ জনগণের যে বেনিফিট পাওয়ার কথা ছিল, ছাত্রলীগের বেলায় তা কখনোই পাওয়া যেত না।

উপরোক্ত নানাবিধ কারণে জনগণ বহুদিন থেকেই ছাত্রলীগের উপর ত্যাক্ত বিরক্ত। সেনাবাহিনী কতৃক ছাত্রলীগের দুজন কর্মীকে মাইর ধরের ঘটনায় জনগণের আনন্দ উদযাপন দেখে মনে হচ্ছে- জনগণ যদি কখনো সুযোগ পায় তাহলে গণধোলাই দিয়ে বঙ্গোপসাগরে সলিল সমাধি রচনা করবে।

এখন নিশ্চয়ই জনগণের এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নীতি নিয়ে আপনার ভিতরে আর কোনো প্রশ্ন নেই!

পঠিত : ১৭২ বার

ads

মন্তব্য: ০