Alapon

আসুন জেনে নেই, রাগ নিয়ন্ত্রণের কয়েকটি কার্যকর পদ্ধতি...


মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু কে?
এই প্রশ্নটি কখনো নিজেকে করেছিলেন কি?
নিজেকে প্রশ্ন না করলেও উত্তরটা আমিই দিয়ে দিচ্ছি, রাগ!

মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হল রাগ। এ কথা খুবই সত্যি। কেবল অতিরিক্ত রাগের কারণে মানুষের জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার! যে অন্ধকার আজীবনেও কাটবে কিনা সন্দেহ।

আমি নিজেও রাগের কারণে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সমস্যায় পড়েছিলাম। একবার রাগ করে তো চাকরিই ছেড়ে দিয়েছিলাম। তারপর কিছুদিন বেকার থাকার পর পুনরায় সেই চাকরিতে ফিরে যাই। অবশ্য তারাই আমাকে পুনরায় চাকরির অফার করেছিল- তাই চাকরিতে পুনরায় জয়েন করতে আমাকে তেমন কোনো বেগ পেতে হয়নি।

একবার আল্লাহর রাসূল তাঁর সাহাবীদের প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তোমরা কি জান, বীর পালোয়ান কে?’
সাহাবীরা বললেন, ‘যে মুষ্টিযুদ্ধে জয়লাভ করে সেইতো পালোয়ান।’
আল্লাহর রাসূল বললেন, ‘না! যে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রন করতে পারে, সে সবচেয়ে বড় পালোয়ান।’

আল্লাহর রাসূল এ কথা কেন বলেছিলেন, তা নিশ্চয়ই নিজের জীবন থেকে উপলব্ধি করতে পারছেন। রাগের কারণে যেন আমরা আর কোনো বিপদ বা সমস্যায় না পড়ি, তাই আমাদের রাগ নিয়ন্ত্রনের পদ্ধতি জানা দরকার। চলুন তাহলে রাগ নিয়ন্ত্রনের কয়েকটি পদ্ধতি জেনে নেই।

প্রথম পদ্ধতি: আল্লাহর শরনাপন্ন হোন। হ্যা, রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আপনাকে প্রথমেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। রাগ নিয়ন্ত্রণের এটাই সবচেয়ে সহজ ও প্রথম ধাপ। আপনি যখনই রেগে যাবেন, দাড়িয়ে থাকলে বসে পড়ুন এবং মহান আল্লাহর কাছে শয়তানের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করুন। বলুন, আয়ুযুবিল্লাহিমানাস শাইতনির রাজিম। তারপর এক গ্লাস পানি খেয়ে নিন এবং চিন্তা মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।

আল্লাহর রাসূল সা. বলেছেন, যদি কোনো ব্যক্তি রেগে যায় এবং তারপর বলে, আমি বিতাড়িত শয়তানের থেকে মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করছি, তাহলে তার রাগ দূর হয়ে যাবে।

সুলাইমান ইবন সারদ রা. বলেছেন, ‘একবার আমি আল্লাহর রাসূলের সামনে বসে ছিলাম। তার অদূরে দুজন ব্যক্তি ঝগড়া করছিল। তাদের মধ্যে একজনের রাগে মুখ লাল হয়ে গিয়েছিল এবং রাগে তার শরীর কাঁপতেছিল। তখন আল্লাহর রাসূল বললেন, ‘আমি এমন একটা কথা জানি, যা বললে সেই ব্যক্তির রাগ দূর হয়ে যাবে। কথাটি হল, বিতাড়িত শয়তান থেকে আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি।’

দ্বিতীয় পদ্ধতি: যথাসম্ভব কম কথা বলার চেষ্টা করুন। যদি কেউ কখনো আপনাকে আক্রমনাত্মক কিছু বলে রাগানোর চেষ্টা করে, তখন নীরব থাকুন। তার কথার জবাব দিতে যাবেন না। তার কথার বিপরীতে যদি আপনার কাছে উত্তম জবাবও থাকে, তারপরও বলবেন না। কারণ, এই সময় সে হিতাহিত জ্ঞান শূণ্য থাকবে এবং আপনার যুক্তিযুক্ত কথা তার বুঝে আসবে না।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, ‘কেউ যদি তোমার সাথে ক্রোধ প্রদর্শন করে, তবে তুমি নীরব থাকো।’

তৃতীয় পদ্ধতি: সবসময় রিল্যাক্স থাকা। যদি আপনি কখনো রেগে যান তবে যে স্থানে রাগ হয়েছিলেন সেখান থেকে দ্রুত কেটে পড়ুন এবং তারপর বসে পড়ুন। এরপরও যদি রাগ না পড়ে তাহলে শুয়ে পড়ুন। এ সময় নাক দিয়ে নি:শ্বাস গ্রহণ করুন এবং মুখ দিয়ে ত্যাগ করুন; এভাবে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করুন। যদি রাগের সময় আপনি দাঁড়িয়ে থাকেন, তাহলে হয়তো আপনি আরও রেগে যেতে পারেন। নিজের রাগ মেটানোর জন্য তখন কাউকে আঘাতও করতে পারেন।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, ‘কেউ যদি দাঁড়ানো অবস্থায় রেগে যায়, সে যেন বসে পড়ে। তারপরও রাগ না কমলে যেন শুয়ে। এরপরও যদি রাগ না কমে তাহলে যেন ওযু করে।’

উপরে উল্লেখিত পদ্ধতিগুলো মেনে চললে রাগ নিয়ন্ত্রণে আসবে, ইনশা আল্লাহ।

পঠিত : ১১৩ বার

ads

মন্তব্য: ০