Alapon

ইন্টারনেট বট কি, কেন এবং কিভাবে কাজ করে?



বট কি?

ROBOT শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ BOT(বট) । বট হলো এক ধরনের প্রোগ্রাম যা সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে এবং সত্যিকার ইউজারদের মতো আচরণ করে৷ কিন্তু তাদের আসল উদ্দেশ্য ভিন্ন ৷ বট ফার্ম বলতে মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া একাউন্ট তৈরির সংঘবদ্ধ স্বয়ংক্রিয় প্রয়াসকে বোঝানো হয়। ভুয়া এই একাউন্টগুলো থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করা হয়। ফেসবুক ও টুইটার প্রায়ই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর, ভুয়া ও বিদ্বেষমূলক তথ্য ছড়াই স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী।

বট কেন?

মূলত ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বট নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তিনটি কারণ সবসময়ই সামনে চলে আসে।

১. বিরোধী রাজনৈতিক দলকে কোণঠাসা করা। (যেটা স্বৈরাচারী রাষ্ট্রগুলোতে সচরাচর প্রত্যক্ষ করা হয়)
২. ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়া। (ভারতে আরএসএস, বিজেপি নিয়মিত করে থাকে)
এবং ৩. রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল। (বিশ্বের প্রায় দেশেই এটা দেখা যায়)

বট কিভাবে কাজ করে?

বট একধরণের প্রোগ্রাম যা সামাজিক গণমাধ্যমে ভুয়া একাউন্ট চালায়। তারা আসল ইউজারদের মতো লাইক দেয়, কমেন্ট করে কিংবা পোস্ট করে। যদিও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামাজিক গণমাধ্যম টুইটারেই বটের ছড়াছড়ি সবচেয়ে বেশি। টুইটারে এক তৃতীয়াংশ বট একাউন্ট। বটগুলো কিভাবে প্রোগ্রাম করা হয় তার উপর এদের কাজের ধরণ নির্ভর করে। প্রায়ই এই বটগুলোকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হয়। একটি বিষয় থেকে দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে নেয় বট, ভুয়া খবর ছড়ায় এবং নির্দিষ্ট করে দেয়া মানুষকে অনলাইনে আক্রমণ করে।

কিভাবে বট চিহ্নিত করবেন?

ইউজার প্রোফাইলটি ভালো করে খেয়াল করুন, যত কম ব্যক্তিগত তথ্য এটি দেবে, তত এটির বট হবার সম্ভাবনা বেশি। কখনো বট বিদঘুটে নামের হয়, এলগরিদমের কারণে নামটি তৈরি হয়। আসল মানুষেরাও অদ্ভুত নাম ব্যবহার করতে পারেন, তবে সংখ্যায় তা বেশি নয়। প্রোফাইলের ছবিগুলো দেখুন কোন ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করেনা সব ফেইক ছবি। তবে বট অনেক সময় অনেকের ব্যক্তিগত ছবি চুরি করে ব্যবহার করে। আপনি সেই ছবিটি রিভার্স সার্চ দিয়ে মানুষটিকে খুঁজতে পারেন, দেখবেন একই ছবির আরো একাউন্ট পাচ্ছেন। তাদের বন্ধুতালিকা/ফলোয়ার চেক করুন, সাধারণত অন্যান্য বটরাই বটদের বন্ধু হয়। বটরা অনলাইনে প্রচুর একটিভ থাকে। অথচ একজন স্বাভাবিক মানুষ সারাদিন অনলাইনে থাকতে পারেন না তার খাওয়া ও ঘুমের সময় দরকার। তাদের মন্তব্য, পোস্ট গুলো দেখবেন একটা নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে একই টোনের হয়ে থাকে।

আপনার করণীয় কি?

অনলাইনে যেকোন তথ্য একটু ঘেটেঘুটে দেখে তারপর বিশ্বাসযোগ্যতায় পৌঁছানো। সন্দেহজনক কোন সংঘবদ্ধ প্রচারনা চোখে পড়লেই চোখ কান খোলা রেখে পর্যবেক্ষণ করা। অবশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে যেহেতু অনেকেই প্রাইভেসির জন্য ছদ্মনামে আইডি ব্যবহার করে তাই শুরুতেই কারো ব্যপারে অনুসিদ্ধান্তে না পৌঁছে তাদের সন্দেহজনক আচরণের দিকে খেয়াল রাখুন এবং এডমিন্সট্রেটরকে রিপোর্ট করেন। তারাই ব্যবস্থা নিবে।

বাংলাদেশে ইন্টারনেট বটের কার্যক্রমঃ


বাংলাদেশের সরকার বিরোধী বিভিন্ন এক্টিভিস্টদের আইডি বা সরকার বিরোধী পেজ গুলোতে ঢুঁ মারলেই এই বটের অস্তিত্ব খুঁজে পাবেন। সংঘবদ্ধ ভাবে বিভিন্ন ফেইক আইডি ও ফেইক পেজ থেকে নিয়মিত সরকারের বিরোধী মতের সমালোচনা করে তীর্যক মন্তব্য করা হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে এদের আসল আইডি মনে হলেও প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট এজেন্ডা নিয়ে সংঘবদ্ধ ভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। যারা রীতিমতো সরকারী অব্যবস্থাপনা সমূহ ঢাকার জন্য অনলাইনে যুদ্ধ করে। এছাড়াও তারা বিভিন্ন বড় বড় গ্রুপ গুলোতে সরকারের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ঘাপটি মেরে থাকে আর বিভিন্ন সরকারী পদক্ষেপের ইতিবাচক আলোচনা করে নিয়মিত ভাবে পোস্ট করে থাকে। সম্প্রতি বাংলাদেশের করোনা সংক্রান্ত সবচেয়ে বড় গ্রুপ 'করোনা আপডেট বাংলাদেশ' গ্রুপের PHOTOS অপশনে গেলেও দেখতে পাবেন সরকারের পক্ষে কিভাবে সংঘবদ্ধ ভাবে প্রতিনিয়ত চটকদার পোস্টার বানিয়ে ইতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যেটা অন্যান্য বড় গ্রুপ গুলোতেও নিয়মিত প্রত্যক্ষ করা হয়।



বাংলাদেশের সরকার সিআরআই, মোহাম্মদ এ আরাফাতের সুচিন্তা বাংলাদেশ, কে- ফোর্স, বাংলা ইনসাইডারসহ বেশ কিছু অনলাইন পোর্টালকে পৃষ্টপোষকতা দেন। একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) ও আইসিটি বিভাগের নামও অনেক সময় উঠে আসে। তবে এক্ষেত্রে বারংবার শেখ হাসিনার ভাগ্নে ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছোটমেয়ে শেখ রেহানার ছেলে রিজোয়ান মুজিব সিদ্দিকীর পরিচালিত সিআরআই বা সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন নামক কথিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির নাম সবার আগে আসে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশে টুইটারেই সবচেয়ে বেশি বটের কার্যক্রম দেখা গেলেও আমাদের দেশের মানুষেরা যেহেতু ফেইসবুকেই বেশি সক্রিয় তাই সুবিধাবাদীরা এই প্লাটফর্মকেই বেছে নিয়েছে। ২০১৭ সালের একটি জরিপ থেকে জানা যায় সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারীর তালিকায় ঢাকা বিশ্বে ২য়।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কিত ১৫টি টুইটার একাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে টুইটার কতৃপক্ষ। সমন্বিতভাবে এই প্ল্যাটফর্মকে তাদের স্বার্থে অপব্যবহারের চেষ্টা করছিল।
বিবিসি নিউজ লিঙ্ক- [নিউজটি পড়তে এইখানে ক্লিক করুন]

বিভিন্ন পেজ এবং আইডি থেকে সরকারপন্থী বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট দেওয়ার কারণে ৯টি ফেসবুক পেজ ও ৬টি ফেসবুক আইডি বন্ধ করে দিয়েছে ফেইসবুক কতৃপক্ষ। “সমন্বিতভাবে ভুয়া পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে”।
ঢাকা ট্রিবিউন নিউজ লিঙ্ক - [নিউজটি পড়তে এইখানে ক্লিক করুন]


বৈশ্বিক রাজনীতিতে ইন্টারনেট বটের ভূমিকাঃ

ফেইসবুক কতৃপক্ষের ভাষ্যমতে শুধুমাত্র ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর, এই ছয় মাসে প্রায় ৩২০ কোটি ভুয়া একাউন্ট বন্ধ করেছে ফেসবুক কতৃপক্ষ।
ডেইলি স্টার নিউজ লিঙ্ক - [নিউজটি পড়তে এইখানে ক্লিক করুন]

সামাজিক যোগাযোগ পোর্টাল রেডিটের সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১৮ হাজার ভুয়া একাইন্ট ব্যবহার করে ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার নিজেদের পক্ষে অনবরত প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
নিউজ লিঙ্ক - [নিউজটি পড়তে এইখানে ক্লিক করুন]

দ্যা প্রিন্ট এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গেছে ভারতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ভুয়ো অ্যাকাউন্টের নিরিখে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আইটি সেলের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপির আইটি। ওই প্রতিবেদনের সমীক্ষায় এমনটাই জানানো হয়েছে। বিজেপির হয়ে ৪ লক্ষ ‘ফেক অ্যাকাউন্ট’ভুয়ো খবর ছড়িয়ে থাকে।
The Print News Link : [নিউজটি পড়তে এইখানে ক্লিক করুন]

নেতানিয়াহুকে জেতাতে ইসরায়েলে 'টুইটার বট'
নিউজ লিঙ্ক - [নিউজটি পড়তে এইখানে ক্লিক করুন]

ফেইক নিউজ বা ভুয়া খবর ছড়ায় এমন ২৬০টিরও বেশি ওয়েবসাইটের সন্ধান পেয়েছে যারা বিশ্বব্যাপী ভারত সরকারের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে।
নিউজ লিঙ্ক - [নিউজটি পড়তে এইখানে ক্লিক করুন]

ইরানে তৈরি ভুয়া অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলছে ফেসবুক, টুইটার।
নিউজ লিঙ্ক - [নিউজটি পড়তে এইখানে ক্লিক করুন]


তথ্যসূত্রঃ DW,BBC,The Print,Dhaka Tribune,Daily Star

পঠিত : ৮৮ বার

ads

মন্তব্য: ০