Alapon

তার্কিশ সিরিয়াল দিরিলিস আরতগুরুল দেখা কি হারাম...?


লক ডাউন শুরুর পর কারও কারও সময় কাটানো মুশকিল হয়ে গেল। তাদের মধ্যে আমার বড় ভাই একজন। সে সাধারণত নাটক-সিনেমা দেখে না। সারাদিন অফিস করে কুল পায় না, সিনেমা দেখবে কখন!

অতি ব্যস্ত মানুষ যখন হঠাৎ করেই ব্যস্ততাহীণ হয়ে পড়ে, তখন কেমন লাগে — তা একমাত্র ভুক্তভোগী ছাড়ার আর কেউ বুঝবে না। সময় কাটানোর জন্য সে আমাকে বলল, ‘কয়েকটা মুভির নাম বলতো! আমি তাকে তার্কিশ সিরিয়াল দিরিলিস আরতরুলের লিংক দিলাম। তারপর...?
তারপর বাকিটা ইতিহাস।

লকডাউনের এই সময়টাতে সে দিরিলিস আরতগুরুলের ৫ টা সিজনের ১৫০ টা এপিসোড শেষ করেছে।

এই সময়টাতে যদি সে আরতগুরুল সিরিয়াল না দেখত— তাহলে নিশ্চয়ই কোনো না কোনো মুভি দেখত। আর সেই মুভিগুলো হতো হয় বলিউডের না হয় হলিউডের। কিন্তু সেসবের চেয়ে দিরিলিস আরতগুরুল দেখা যে ঢের ভালো— তা নির্দিধায় বলে দেওয়া যায়।

দিরিলিস আরতগুরুল দেখার পর কী ঘটেছে?

দিরিলিস আরতগুরুল দেখার পর উসমানী সাম্রাজ্যের ইতিহাস নিয়ে ‘সানজাক-ই উসমান: অটোমানদের দুনিয়ায়’ বইসহ আরও অনেক বই লিখিত হয়েছে। আর মানুষ সেই বইগুলো টাকা দিয়ে কিনেও পড়েছে। আর এ ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

অতি সম্প্রতি, দেওবন্দের আলেমগণ নাকি দিরিলিস আরতগুরুল দেখার উপর হারাম ফতোয়া আরোপ করেছেন। আমি এই ফতোয়ার বিরোধীতা করার জন্য এই পোস্ট লিখতে বসিনি— শুধু দুটো কথা বলতে চাই।

ছোট বেলায় দেখেছি, আমাদের বাড়িতে টিভি দেখা ছিল হারাম! কিন্তু হারাম হলেও কি টিভি দেখা বন্ধ ছিল? না, কোনো না কোনো উপায়ে টিভি কিন্তু দেখেছি। কারণ, আমাদের বিনোদিত হওয়ার মত বিকল্প কোনো অপশন ছিল না।

টিভি দেখা হারাম ফতোয়া দেওয়ার ফলাফলস্বরূপ এলাকার ছেলে-পেলেরা ঈদের সময় ভিসিআর ভাড়া করতো! একবার আমিও ভিসিআর দেখার চেষ্টা-তদবির করলাম। কিন্তু সিনেমা দেখার আগেই ছোট চাচ্চু কান ধরে হিড়হিড় করে টানতে টানতে বাড়িতে নিয়ে গেলেন! আর ভিসিআর দেখা আর হল না।

সিনেমা জগত নিয়ন্ত্রিত হয় বিধর্মীদের দ্বারা— এ কথা সত্য। কিন্তু তারা যেসব মুভি-সিনেমা বানায় সেগুলো আর দিরিলিস আরতগুরুল এক জিনিস নয়। বর্তমান সময়ে সিরিয়াল মানেই যৌনতা! আর বিনোদন দুনিয়ায় এটা এখন অতি স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু দিরিলিস আরতগুরুলে অন্তরঙ্গ দৃশ্য বলতে আদৌত যা বুঝায়— তার ছিটে ফোটাও নেই। তারপরও আমি বলছি না, দেওবন্দসহ আলেম-উলামারা বলুক দিরিলিস আরতগুরুল দেখা হালাল।

আমি শুধু বলতে চাচ্ছি, উলামারা ফতোয়া তো দিয়েছেন-ই— এখন তাহলে আমাদের হালাল উপায়ে বিনোদিত করার ব্যবস্থা করুন। যতটুকু ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা করেছি— তাতে ইসলামে বিনোদন হারাম নয়। বরঞ্জ, ইসলাম বলে মানুষের জীবনে বিনোদনের প্রয়োজন রয়েছে।

এখন আপনি নিশ্চয়ই বলবেন- ঘোড় দৌড়, তীঁর ছোড়া এসব খেলে বিনোদিত হও!

প্রিয় ভাই, আল্লাহর রাসূল কিন্তু বলেননি, ‘তোমাদের এসব করেই বিনোদিত হতে হবে।’ বরঞ্জ, এগুলো ছিল ততকালীণ সময়ের প্রধান বিনোদন। নদীর স্রোতের মত সময়ও অনেক বয়ে গেছে, বদলে গেছে মানুষের চাহিদা। তাই স্বাভাবিকভাবে ঘোড় দৌড় আর তীঁর ছোড়া এখন আর কোনো মৌলিক বিনোদনের অংশ নয়। বিনোদন নির্ধারিত হয় সময়ের আলোকে! তাই বর্তমান সময়ের আলোকে কী কী উপায়ে আমরা বিনোদিত হতে পারি— তার একটি তালিকা প্রনোয়ন করুন। হালাল সিনেমা, হালাল নাটক, হালাল সিরিয়ালের লিস্ট তৈরি করুন। আর যদি না থাকে— তাহলে এগুলো আগে বানান তারপর দিরিলিস আরতগুরুল দেখা হারাম— এই ফতোয়া প্রদান করুন। তবেই এ ফতোয়া পূর্ণতা পাবে।

ইসলাম কিন্তু শুধু বিধি নিষেধ আরোপের ধর্ম নয়; যুগের চাহিদা মেটানোরও ধর্ম। আর যদি হালাল উপায়ে বিনোদিত হবার উপায় বাতলে দিতে না পারেন— তবে সেটা আপনাদের ব্যর্থতা; ইসলামের নয়। নিজেদের ব্যর্থ প্রমাণ করতে কি খুবই ভালো লাগে?

পঠিত : ১৬৫ বার

ads

মন্তব্য: ০