Alapon

ইসলামি সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখুন, ইসলাম টিকে থাকবে...


সভ্যতা (civilization) আর সংস্কৃতি (culture) এক নয়। একে অপরের হাত ধরে চলে। সভ্যতাকে আমরা এর ইংরেজি civilization প্রতি শব্দেই জানি। ইংরেজিতে এই civilization বা সভ্যাতে সংগায়ীত করতে গিয়ে বলা হচ্ছে;

The process by which a society or place reaches an advanced stage of social development and organization.
অর্থাৎ এটা একটা প্রক্রিয়া যার ভেতর দিয়ে কোনো জনপদ বা জনগোষ্ঠী একটি উন্নত সামাজিক স্তরে পৌছায়।

আমরাও এ কথা জানি যে, একটা দেশ ও জনপদের অধিবাসী ও তাদের সাধারণ কিছু রীতি প্রথা, আদর্শ, শিক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় জীবন ধারনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্জিত সফলতা বা ব্যর্থতা, সেগুলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য, আমোদ-বিনোদন, খেলা-ধুলা, রীতি-নিতি ও সংশ্লিষ্ঠ সকল কর্মকান্ড, কোনোরকম ভৌগলিক গন্ডীর সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ না থেকেই এগুলো নিয়ে গড়ে উঠে একটি সভ্যতা।

সংস্কৃতি হলো এ থেকে ভিন্ন একটা বিষয়। পুরোমাত্রায় বুদ্ধিবৃত্তিক, আত্ম-মানসিক ও নৈতিক (Spiritual, Intellectual and Ethical) এর উৎপত্তি ঘটে একজন মানুষের মনের গভীরে, চেতনার রাজ্যে, এর পরে তার বিকাশ দেখতে পাওয়া যায় কর্মকান্ডে, আচারে-আচরণে।

সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ; culture এর সংগা দিতে গিয়ে বলা হচ্ছে; The ideas, customs, and social behavior of a particular people or society.
অর্থাৎ কোনে নির্দিষ্ট এক জনগোষ্ঠীর বোধ-বিশ্বাস ও নীতি আদর্শ যার উপরে ভিত্তি করে গড়ে উঠে তাদের আচার-আচরণ ও কর্মকান্ড।

সংস্কৃতি এমন একটা জিনিস যে, এটা ধরা যায় না, তবে সর্বদাই বোঝা যায়। সভ্যতাকে ঘিরেই এর উৎপত্তি, বিকাশ ও বিস্তৃতি। সংস্কৃতি ছাড়া সভ্যতা অচল, স্থবির। সংস্কৃতি যত বেশি বিকশিত হবে, যত বেশি শানীত হবে, সভ্যতাও ততবেশি পরিপুষ্ঠ হয়ে উঠবে।

সভ্যতা ধ্বংস হলে সংষ্কৃতি মরে যায় না, সে টিকে থাকে। কিন্তু সংস্কৃতির মৃত্যু ঘটলে সভ্যতা টিকতে পারে না, সে মরে যায়। সংস্কৃতি টিকে থাকা মানেই হলো সভ্যতা টিকে থাকা । সংস্কৃতির উত্থান মানেই সভ্যতার উত্থান।

সংস্কৃতির ভিত্তি হলো নীতি-নৈতিকতা, আদর্শ ও জ্ঞান। উন্নত আদর্শ বা জ্ঞান উন্নত সংষ্কৃতির জন্ম দেয়। এ যেন উন্নত বীজ থেকে উন্নত গাছ জন্ম নেওয়া। সংস্কৃতির উপরে ভিত্তি করেই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র গড়ে উঠে। আর এই সংস্কৃতিকে ভিত্তি করেই সভ্যতা গড়ে উঠে।

বিষয়টা আরও একটু খোলাসা করে বোঝার জন্য আসুন আমরা সৃষ্টির একেবারে শুরুতে ফিরে যাই। হযরত আদম আ: কে পৃথিবীতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার খলিফা বা প্রতিনিধি করে প্রেরণের আগে তাকে এই বিশ্বের সকল কিছুর নাম, পরিচিতি ও তাদের বর্ণনা ব্যবহার শিখিয়ে দিলেন (দেখুন আল কুরআন ২: ৩১-৩৩)।

দেখা যাচ্ছে যে হযরত আদম ও বিবি হাওয়া আ: পৃথিবীতে এসে একটি সভ্যতার সূচনা করার আগেই তাদেরকে নীতি-নৈতিকতা, জ্ঞান ও আদর্শ শিখিয়ে দেয়া হয়েছে।

একই ঘটনা ঘটেছে আমাদের প্রিয় রাসুলুল্লাহ সা: এর বেলাতেও। নবী হিসেবে মানব সমাজ ও সভ্যতাকে সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে এপিক উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করার মিশনের একেবারে প্রারম্ভেই তাঁকে জ্ঞানচর্চার কথা বলা হয়েছে, বলা হয়েছে পড়া ও কলমচর্চার কথা ( দ্রষ্টব্য সুরা আল আলাক)।

আর তাঁকে যে চারদফা কর্মসূচী দেয়া হয়েছিল (আল কুরআন ২: ১৫১ দ্রষ্টব্য) তার প্রতিটিই হলো জ্ঞানচর্চা, তথা, জানা ও জানানো এবং সংষ্কৃতিক পরিশুদ্ধিতার কর্মকান্ড ভিত্তিক।

উক্ত চারদফার মধ্যে একটি কর্মসূচীও এমন নেই যেখানে বলা হয়েছে, শক্তিশালী সেনাবাহিনী বানাও কিংবা বিশাল অট্টালিকা, প্রাসাদ বা দূর্গ বানাও কিংবা অঢেল সম্পদের মালিক বনে যাও। প্রিয় রাসুল সা: কে এসবের জন্য না পাঠিয়ে পাঠানো হয়েছিল জ্ঞান দানের জন্য, ব্যাক্তি চরিত্র সংশোধনের জন্য। ব্যক্তি ও গোষ্ঠী মানস তথা সংস্কৃতির মৌলিক উপাদান নীতি ও আদর্শকে তুলে ধরার জন্য।

উন্নত যোগাযোগ মাধ্যম, বড় বড় ভবন আধুনিক প্রযুক্তি এগুলো দেখা যায়, দেখে একটি সভ্যতাকে অনুধাবন করা যায়। কিন্তু এসবের পেছনে যে জ্ঞান, যে আদর্শ ও চেতনা, সেগুলোকে দেখা যায় না, সেগুলো লুকিয়ে থাকে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চেতনায়। সেটাই আমরা দেখতে পাই প্রিয় রাসুল সা: ও তাঁর আসহাবদের জীবন ও কর্মে।

সভ্যতা ও সংস্কৃতি নিয়ে এই মৌলিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দৃষ্টিসীমায় রাখুন আর একবার আপনার নিজের কর্মকান্ডকে বিচার করুন। আপনি এই দেশ ও সমাজের উন্নয়ন চান, কিন্তু সেই উন্নয়নের জন্য উন্নত নৈতিক আদর্শ বিস্তার ও বিকাশের জন্য কিছু করেছেন কী? সেটা যদি না করে থাকেন, তবে বলতেই হয়, আপনার এ আকাংক্ষা বিফলে যেতে বাধ্য।

অতএব এখনও সময় আছে। সমাজ বদলাতে হলে উন্নত আদর্শ ভিত্তিক সংষ্কৃতির চর্চা করুন, সেরকম চর্চায় সহযোগীতা করুন। ইসলামি সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখুন, তা হলেই ইসলাম টিকে থাকবে।

-zia

পঠিত : ৯১ বার

ads

মন্তব্য: ০