Alapon

মাদখালি সালাফীদের অতি সাম্প্রতিক দুইটি ভন্ডামিপূর্ণ দ্বিচারীতা



সালাফিজমের এত বেশি শাখা-প্রশাখা যে, এদের নিয়ে স্টাডি করতে গেলেই মাথায় প্যাঁচ লেগে যায়। তবে চরম সত্য কথা হলো আমাদের দেশের তথাকথিত সালাফীদের অধিকাংশই মাদখালি (যারা মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক রাবী' ইবনে হাদী আল-মাদখালি এর অনুসারী এবং 'আলে সৌদের' একান্ত অনুগত)। 'সালাফিজম' সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে শায়খ ইয়াসির কাদ্বীর লেকচারের এই অনুবাদ পড়তে পারেন।

অন্যদিকে যারা প্রচলিত গণতন্ত্রের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে মুসলমানদেরকে স্বপ্রণোদিত হয়ে কাফির-মুরতাদ ফতোয়া দিয়ে বেড়ায় তারা হচ্ছে তাকফীরি। আমার চোখে তাকফীরি এবং মাদখালী এইগুলা হলো 'ধর্মীয় লেবাসধারী শাহবাগী'। এরা যে পরিমাণ বিদ্বেষ পোষণ করে ভিন্নমতের প্রতি সেটা অকল্পনীয়। তাদের কট্টর অনুসারীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত যে অনলাইন মিডিয়া গুলো আছে সেখানে তাদের মতবাদের প্রচারের পাশাপাশি সার্বক্ষনিক চলে ভিন্নমতের উপর উগ্র আক্রমণাত্মক কথাবার্তা। তবে এই দুইটা শ্রেণীর মধ্যে জঘন্য নিকৃষ্টতর শ্রেণী হলো মাদখালী সালাফীরা। আমাদের দেশের মাদখালী সালাফিদের মধ্যে দুই জনপ্রিয় শায়েখ হলো মতিউর রহমান মাদানি ও শায়েখ আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া। যদিও আমি নিকৃষ্ট সৌদি শাসকগোষ্ঠীর অন্ধ আনুগত্য করা এদের 'শায়েখ' মানতে রাজি নয়।

এদের অতি সাম্প্রতিক দুইটি ভন্ডামিপূর্ণ দ্বিচারীতা তুলে ধরছিঃ



ইজিপ্টের মাদখালী সালাফিদের সর্ববৃহৎ সংগঠন আল নূর পার্টির বিশ্বাসঘাতকতা-
সালাফী আলেমরা গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভোট, গণতন্ত্র, নির্বাচন হারাম ফতোয়া দেওয়া তথা 'রাজনীতিকে দ্বীন কায়েমের পথ' না মানলেও এরা মিশরে ভোটে অংশ নেয়, পার্লামেন্টে যায়। এদের দ্বারা প্রভাবিত ও সমর্থিত মিশরের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সংগঠন এবং মাদখালী সালাফীদের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল আল নূর পার্টি ২০১২ সালে ব্রাদারহুডের ক্ষমতায় যাওয়ার পরপরই সৌদিদের মদদে ষড়যন্ত্র শুরু করে দিয়েছিল। এর পেছনে অন্যতম কারণ ছিল মধ্যপ্রাচ্যে 'রাজনৈতিক ইসলাম' জনপ্রিয়তা পেলে সৌদির মতো যে দেশগুলোতে রাজতন্ত্রের মোড়কে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম আছে তাতে জনতার আঘাত আসতে পারে। মিশরের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসের প্রথম প্রেসিডেন্ট শহীদ মুরসির পতনে এদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছিল। সৌদি-ইজরায়েলী ষড়যন্ত্রে এরা সরাসরি ড. মুরসির বিরুদ্ধে সারাদেশে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এরা হাজারো মিশরীয় শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে সিসিকে স্বাগত জানিয়েছিল এবং সিসির সাথে সখ্যতা গড়ে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ঠভোগের অংশীদার হয়েছিল আমাদের দেশের ফরীদউদ্দীন মাসউদ গংদের মতো।
সর্বশেষ গত ২০১৮ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশনেও অফিশিয়ালি কনফারেন্স করে আল নুর পার্টি বর্তমান পৃথিবীর সর্বনিকৃষ্ট স্বৈরশাসক সিসিকে সমর্থন দিয়েছিল এবং এখনো সমানে চেটে যাচ্ছে।



লিবিয়ায় চলমান সংঘাতে রাষ্ট্রের 'বৈধ শাসকের' বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া-
সৌদি সালাফী ও মাদখালীরা সরকারের কট্টর সমর্থক এবং তাদের মতে বৈধ শাসকের সমালোচনা করা ধর্মীয় দৃষ্টিতে একইসাথে বিচ্যুতি ও পাপ কাজ। অথচ এই মাদখালী সালাফিরা লিবিয়ায় জাতিসংঘের অনুমোদিত একমাত্র বৈধ শাসক জিএনএ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধবাজ বিদ্রোহী কমান্ডার হাফতারের হয়ে লড়াই করছে। একই সাথে হাফতারের নিয়ন্ত্রিত এলাকার মসজিদ সমূহের ইমামও তারা! এখানেও সেই একই কারণ জিএনএ ব্রাদারহুডের সাথে এলায়েন্স বিধায় এরা সৌদি ইন্ধনে লিবিয়ার 'বৈধ শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই' করছে তাদের নিশ্চিহ্ন করতে। এইখানে এসেও তারা ধূর্ততার সহিত চরম দ্বিচারীতার আশ্রয় নিল।

পঠিত : ২০৩ বার

ads

মন্তব্য: ০