Alapon

তুরস্ক আবারও ইসলামি দুনিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে যাচ্ছে...


আজকের তারিখটা স্মরণ রাখুন! খুব ভালোভাবে স্মরণ রাখুন। আজকের এই দিনটিতে মুসলিমদের জন্য নতুন একটি ইতিহাস রচিত হল। আজ ৮৬ বছর পর পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত মসজিদ আয়া সোফিয়ায় আবারও মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা হচ্ছে। আয়া সোফিয়া মসজিদের মিনার থেকে আবারও ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি শোনা যাবে। আজ মুসলিমদের জন্য একটি বিজয়ের দিন।

আজ থেকে ৮৬ বছর আগে কামাল পাশা আতাতুর্ক পশ্চিমাদের সন্তুষ্ট করতে আয়া সোফিয়াকে মসজিদ থেকে জাদুঘরে রূপান্তর করে। তারপর থেকে আয়া সোফিয়ায় নামাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেটাকে দর্শনার্থিদের জন্য টিকিটের বিনিময়ে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়।

আয়া সোফিয়াকে মসজিদ থেকে জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্দেশ্য ছিল, পশ্চিমা প্রভুদের সন্তুষ্ট করা। এবং এর মাধ্যমে তিনি সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হয়েছিলেন। একদিকে তিনি আয়া সোফিয়াকে জাদুঘরে রূপান্তর করেন, অন্যদিকে তুরস্কে ইসলাম চর্চাকে লিটেরারি নিষিদ্ধ করেন। আরবীতে আজান দেওয়া নিষিদ্ধ করেন এবং কুরআন পড়াও নিষিদ্ধ করেন। বিপরীত দিকে তুরস্কের সমাজে ব্যাপকভাবে পশ্চিমা সংস্কৃতির চর্চা হতে থাকে। ইসলামের অনুশাসন চর্চা থেকে দূরে থাকার কারণে খুব স্বাভাবিকভাবেই তুরস্কের সমাজব্যবস্থা পশ্চিমা ধাচের হয়ে পড়ল। যে তুরস্ক ছিল খিলাফাতের রাজধানী, সেই তুরস্ক হয়ে পড়ল পশ্চিমা সংস্কৃতির ধ্বজা-ধারী।

আর এভাবেই কামাল পাশা আতাতুর্ক এবং পশ্চিমারা ভেবেছিল, খেলাফতের রাজধানী তুরস্ক থেকে ইসলাম চিরতরে বিদায় নিয়েছে। ইসলাম বিদায় নিয়ে সেখানে পশ্চিমাদের অশ্লিলতা ও বেহায়াপনা স্থান করে নিয়েছে। কিন্তু তারা জানে না, ইসলামের আলো সংরক্ষণের দায়িত্ব স্বয়ং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের। মহান আল্লাহ কামাল পাশা আতাতুর্কের দুষ্ট চক্রান্ত থেকে উদ্ধার করতে তুরস্কের মাটিতে পাঠিয়েছিলেন বদিউজ্জামান সাইদ নূরসির মত মহান সাধককে। যিনি নিজের গোটা জীবনজুড়ে কেবল ইসলামেরই খেদমত করে গেছেন। আর তাঁর খেদমতের বদৌলতে কামাল পাশার রাষ্ট্রযন্ত্রের ইসলাম বিরোধীতা স্বত্বেও তিনি তুরস্কে নতুন করে ইসলামের চারাগাছ রোপন করেছিলেন।

তারপর সেই গাছের ছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেন নাজিমউদ্দিন এরবাকানের মত মানুষেরা। নাজিমউদ্দিন এরবাকানরা আবারও ধীরে ধীরে মানুষের মাঝে ইসলামের সুমহান বার্তা পৌঁছে দিতে শুরু করেন। সেই বার্তা‍ গ্রহিতাদের মধ্যে আজকের তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানও ছিলেন। আজ বদিউজ্জামান সাইদ নুরসি জীবিত নেই সত্য, নাজিমউদ্দিন এরবাকানও জীবিত নেই কিন্তু তাদের সেই আন্দোলনের ফসল রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান আবারও আয়া সোফিয়ায় মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণার আয়োজন করেছেন। এ বিজয় বদিউজ্জামান সাইদ নুরসির, এ বিষয় নাজিমউদ্দিন এরবাকানের, এ বিজয় সমগ্র মুসলিম উম্মাহর।

বিশ্বে যখন মুসলিমরা চারদিক থেকে সংকির্ণ অবস্থার মধ্যে রয়েছে, ঠিক তখনই আয়া সোফিয়ার মিনারে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি বলে দিচ্ছে, ইসলাম কোনো নিভে যাওয়া প্রদীপ নয়। ইসলাম এমন একটি প্রদীপ, যে প্রদীপ সর্ববস্থায় জ্বলছে। এই প্রদীপ কোনোদিন নিভভে না। যে তুরস্ক থেকে কামাল পাশারা ইসলামকে চিরতরে বিদায় করতে চেয়েছিল, সেই তুরস্কই আবার ইসলামি দুনিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে যাচ্ছে।

পঠিত : ১৮১ বার

ads

মন্তব্য: ০