Alapon

রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান কি একজন স্বৈরশাসক...?



পশ্চিমা মিডিয়ায় এরদোয়ানের যে চিত্র আকা হয় তা আসলে কতটা সত্য। একজন স্বৈরশাসক বা পপুলিস্ট নেতা হিসেবে এরদোয়ানের সমালোচনা শুরু হয় মূলত ২০১৩ এর পর থেকে। এর আগে এরদোয়ান পশ্চিমাদের পছন্দের একজন নেতা ছিল। মধ্যপন্থী মুসলিম নেতাদের মডেল। ২০১৩ সালের মধ্যে এরদোয়ান তার ঘর ঘুছিয়ে নিয়ে পশ্চিমাদের পররাষ্ট্রনীতির বাইরে গিয়ে তুরস্কের জন্য নিজস্ব পলিসি নির্ধারণ করতে থাকে। তুর্কিদের নিজস্ব ইতিহাস ও ভবিষ্যত আকাঙ্খার সমন্বয়ে নির্ধারিত নীতির সাথে পশ্চিমাদের স্বার্থের সংঘাত শুরু হয়। ফলে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত মিত্র মুহূর্তেই হয়ে যায় স্বৈরশাসক। পপুলিস্ট। কিছু প্রশ্ন ও উত্তর।

১. এরদোয়ান কি আরব রাজা বা সেনা শাসকদের মতো জোর করে ক্ষমতায় এসেছে বা আছে?
উত্তর: না।

২, তুরস্কের নির্বাচন ব্যবস্থা কি স্বচ্ছ?
উত্তর? যে কোন ইউরোপীয় নির্বাচনের মতো স্বচ্ছ। ইস্তাম্বুলের মতো শহরে পরাজয়ের পরও দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের কোন কারচুপি না করে হেরে গেছে ও মেনেও নিয়েছে।

৩. এরদোয়ান কি তার নির্বাচনী প্রচারণায় বিরোধীদল বা মাইনরিটিদের বিরোদ্ধে ঘৃনা ছড়ায় ?
উত্তর: না। এমনকি চরম সেক্যুলার কামাল আতাতুর্কের বিরুদ্ধেও কিছু বলে না। কৌশলে এড়িয়ে যায়।

৪. এরদোয়ান কি নির্বাচনে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়?
উত্তর না। এরদোয়ান তার প্রায় সব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে। অসম্ভব ধরনের মেগা প্রজেক্টগুলোও সময়ের আগে বাস্তবায়ন করেছে। ফলে বার বার নির্বাচনে তুরস্কের জনগন তাকে ভোট দিয়েছে।

৫. এরদোয়ান কি তার দলে থেকে চলে যাওয়া কাউকে কারাবন্দি বা নির্যাতন করেছে?
উত্তর: না। বরং সাবেক প্রেসিডেন্ট গুল ও প্রধানমন্ত্রী দাউদগলু সরকারী পেনশন ও সুযোগ পাচ্ছেন। নিজ দলের কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ মাথাথিরের মতো নেতা কার কথার বাইরে যাওয়ায় তার দীর্ঘ দিনের মন্ত্রী আনোয়ারকে পিটিয়ে মেরুদন্ড ভেঙ্গে ১০ বছর জেল খাটিয়েছিল।

৬. এরদোয়ান কি জনগনের মৌলিক চাহিদা না মিটিয়ে মেগা প্রজেক্ট করে চলেছেন?
উত্তর: লিরার অনেক দরপতন সত্ত্বেও কাচাবাজার হাতের নাগালে, নেই লোডশেডিং, যানজট অথবা ভূতরে বিল।

এরদোয়ানের পপুলিস্ট রেটরিকগুলো কি বিষয়ের তাইলে।

উত্তর: তুর্কিদের গৌরবোজ্জল ওসমানী ইতিহাস ও বিজয়ের কাহিনী, নতুন তুরস্কের বিশ্বশক্তি হওয়ার স্বপ্ন, উন্নত ও স্বাবলম্বী তুরস্কের মেনিফেস্টো ও বিশ্বব্যাপী মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে বজ্র কন্ঠ। যদি কোন গ্রুপের বিরুদ্ধে ঘৃনার চাষ না করে নিজ জাতিকে তার অতীত ইতিহাস ও ভবিষ্যত উন্নতির স্বপ্ন দেখানো পলুলিস্ট কাজ হয়, তবে অবশ্যই অবশ্যই এরদোয়ান একজন পপুলিস্ট নেতা। পশ্চিমা মিডিয়ার লাগামহীন প্রপাগান্ডার পরও নিজ জাতির কাছে এখনো সবচেয়ে প্রিয় নেতা।

গনতান্ত্রিক নেতা হওয়ায় বার বার জনগেনর কাছে ভোটের জন্য যেতে হয়। তুরস্কের নির্বাচন এমন ভাবে সাজানো যে ৫ বছর নয় প্রতি বছরই নির্বাচন হয়। যেমন কখনো জাতীয় নির্বাচন, কখনো পৌরসভা নির্বাচন, গনভোট বা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এটা এরদোয়ানের ডিজাইন করা। জনগন নির্বাচনের মাঠে থাকলে সেনাবাহিনী মাঠে নামার সাহস পাবে না। তবে এতোগুলো নির্বাচনে শুরু কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে তো জয় লাভ সম্ভব না। তাই জনগনের জন্য কাজ করে যেতে হয় এরদোয়ান ও তার দলের লোকদের। তবুও এটি তার পছন্দ। অন্তত ক্ষমতার জন্য প্রেসিডেন্ট সিসির মতো ওয়াশিংটন. প্যারিস বা তেলআবিবকে খুশি করানোর চেয়ে নিজের দেশের জনগনকে খুশি করানোকে বেছে নিয়েছে এরদোয়ান।

তুরস্কের মানুষ যে তাকে কতটা ভালবাসে তা ১৫ জুলাই ২০১৬ সালে দেখা গেছে। তার একটি ভিডিও বার্তা শুনে লক্ষ লক্ষ নিরস্ত্র মানুষ ইউরোপের সবচেয়ে বড় সেনাবাহিনীর সামনে দাড়িয়ে গিয়েছিল। তুরস্কে এসে যেটি দেখলাম, তুর্কিরা পশ্চিমা গনমাধ্যমের চোখ দিয়ে দুনিয়া দেখে না। দুনিয়া দেখে নিজেদের চোখ ও বিবেক দিয়ে। তারা খুব ভাল করে বুঝে কে দেশের জন্য কাজ করার যোগ্য। তারপরও চলছে এরদোয়ানের বিরুদ্ধে লাগামহীন প্রপাগান্ডা।

জনগনের ভোটে বার বার নির্বাচিত হলেও সিসি. এমবিএস বা খলিফা হাফতার নয় এরদোয়ানই পশ্চিমা মিডিয়ায় সবচেয়ে বড় স্বৈরশাসক!

তৃতীয় বিশ্বের দেশে দেশে এরকম জনগনের ভোটে নির্বাচিত ‍"
" ‌‌স্বৈরশাসক" থাকলে কি জাতির জন্য ভালো হতো না?

- জাহিদুল ইসলাম

পঠিত : ১২১ বার

ads

মন্তব্য: ০