Alapon

বাংলার সেক্যুলারগং আজন্ম ইসলাম বিদ্বেষী রয়ে গেল...


ছোটবেলায় যখন মেজ ফুফু আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসত, তখন বাড়িতে যেন রীতিমত উৎসব শুরু হয়ে যেত। আমার মনে পড়ে, একবার আমরা বাড়ির বাহিরে ক্রিকেট খেলছিলাম। এমন সময় একটি রিক্সা এসে সেখানে থামল। সেই রিক্সাটা একটা সাদা শাড়ি দিয়ে পেঁচানো। পেঁচানো শাড়িটা যখন খুলে ফেলা হল, সেখান থেকে নেমে এলেন মেজ ফুফু।

আম্মাকেও এভাবে বহুবার রিক্সায় করে বিভিন্ন জায়গায় যেতে দেখেছি। আমার মরহুম দাদীও ঠিক একইভাবে রিক্সায় করে বাবার বাড়ি বেড়াতে যেতেন। কিন্তু কই কখনো তো তাদের জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেনি। এমনকি তারা বাংলাদেশি মা কিনা- তা নিয়েও কেউ কখনো প্রশ্ন ‍তুলেনি। আমাদের দাদী নারীরা নিজেদের আপাদমস্তক কালো বোরখা দিয়ে আবৃত করে তবেই ঘর থেকে বের হতেন। এটাই বাংলাদেশি মায়েদের কমন কালচার। বাংলার মায়েরা এভাবেই নিজেকে আবৃত রেখে তাদের সন্তানদের মানুষ করেছেন।

আজ কতিপয় প্রগতিস্টিউট বোরখা পরিহিত এক মায়ের জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এতোক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমি কোন মায়ের কথা বলছি। অতি সম্প্রতি জাতীয় পত্রিকা ডেইলি স্টারের কল্যাণে এক মায়ের ছবি ভাইরাল হয়েছে। যে মা বোরখা পরে তার ৭ বছর বয়সী ছেলের সাথে ক্রিকেট খেলছিলেন। বেশ স্বতঃফূর্ত ও সাবলীলভাবেই ক্রিকেট খেলছিলেন। অথচ এই মায়ের ক্রিকেট খেলা দেখে কতিপয় চেতনার ব্যবসায়ী, বাবার মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট বিকিয়ে জীবন চালানো নষ্টা মহিলারা বলছেন, ‘এই ছবিতে নাকি বাংলাদেশি মাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি!’

অথচ এই প্রগতির ধারকবাহক দাবিকারীরাই নারীর পোশাকের স্বাধীনতা নিয়ে দিনরাত চিল্লাচিল্লি করে। তবে কি তাদের কাছে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা মানে, অর্ধ উলঙ্গ হয়ে ‍ঘুরে বেড়ানো! ওড়না বিহিন অবস্থায় নিজের শরীর প্রদর্শন করে বেড়ানো! অথবা পশ্চিমা সংস্কৃতিকে ফলো করে টাইট জিন্স আর শর্টস পরে বেড়ানোর নামই পোশাকের স্বাধীনতা। তাদের অবস্থা দেখে ঠিক তেমনটাই মনে হচ্ছে।

একদিকে তারা নিজেদের সেক্যুলার বলে দাবি করে, অন্যদিকে তারা আবার ঘৃণার চর্চা করে। আর ঘৃণাটা হল ইসলামের বিরুদ্ধে। সেক্যুলার বলতে বোঝায় পার্থিব,ইহজগতিক, ধর্মহীনতা। রাষ্ট্র আর ধর্মকে পৃথকরূপে প্রকাশ করা । কিছু নির্দিষ্ট প্রথা বা প্রতিষ্ঠানকে ধর্ম বা ধর্মীয় রীতিনীতির বাইরে থেকে পরিচালনা করাকে বোঝানো হয়। এক অর্থে ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মীয় স্বাধীনতাকে প্রকাশ করে। এবং অন্যের ধর্মমতকে শ্রদ্ধা করে।

অথচ বাংলাদেশি সেক্যুলার নাম্মিরা ইসলামের ব্যাপারে কখনোই নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থা প্রকাশ করতে পারেনি। ইসলামের কথা উঠলেই তারা নিজেদের সেক্যুলার পরিচয় ত্যাগ করে ইসলাম বিদ্বেষী চেহারায় আর্বিভাব করে। যে মা বোরখা পরে তার সন্তানের সাথে ক্রিকেট খেলেছে, সেই মাকে তো কেউ বোরখা পরতে বাধ্য করেনি। বরোঞ্জ তিনি নিজে থেকে বোরখা পরেছেন এবং ইসলামের বিধাননুসারে পর্দা পালন করছেন। পর্দার মাঝে থেকেও যে সন্তানের সাথে কোয়ালিটি টাইম কাটানো যায়- এই মা সর্বোত্তম উদাহরণ। অথচ প্রগতিস্টিউটরা এমন চোখ জুড়ানো দৃশ্যটাতে পজিটিভ কিছু খুঁজে তো পেলই না, উপরন্তু তারা সেখানে বাংলাদেশি মাও খুঁজে পেল না। অথচ বাংলার কোটি কোটি সন্তানকে জিজ্ঞেস করে দেখুন, তারা এই বোরখাপরিহিত মায়ের মাঝেই নিজের মাকে খুঁজে পায়। আর এই মা-ই প্রকৃত বাংলাদেশি মা।

দিনশেষে তাদের অবস্থা দেখে মনে হয়, তারা সবসময় আত্মসংঘাতে লিপ্ত রয়েছে।

পঠিত : ৮০ বার

ads

মন্তব্য: ০