Alapon

ইমাম আবু হানিফা রাহিমাল্লাহুর কিছু উক্তি এবং আমাদের জন্য শিক্ষা...



ইমাম আবু হানিফা রাহিমাল্লাহু। তিনি নিজে যেমন ছিলেন যুগশ্রেষ্ঠ আলিম, তেমনই ছিলেন উত্তম শিক্ষক। ইমাম আবু হানিফা রাহিমাল্লাহু যেমন শিক্ষক হিসেবে অনন্য ছিলেন, তেমনই তাঁর ছাত্ররাও ছিল ভুবনখ্যাত। ইমাম আবু হানিফার বিখ্যাত ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রাহিমাল্লাহু।

একবার আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রাহিমাল্লাহু ভ্রমণের উদ্দেশ্যে শাম (সিরিয়া) দেশে গমণ করলেন। সেখানে গিয়ে তার সাথে শাম দেশের বিখ্যাত আলিম ইমাম আওযায়ির সাথে সাক্ষাৎ হয়। ইমাম আওযায়ি আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারকের পরিচয় জানতে পেরে বলেন, ‘কুফায় নাকি আবু হানিফা নামে নতুন মতবাদ প্রণেতার আবির্ভাব ঘটেছে?’
এ কথা শুনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক নিশ্চুপ হয়ে যান এবং সেদিনের মত ঘরে ফিরে যান।

এরপর আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রাহিমাল্লাহু তিন দিন ধরে ইমাম আবু হানিফার বিভিন্ন মাসয়ালার অনুলিপি তৈরি করেন। তারপর সেই অনুলিপি হাতে আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক ইমাম আওযায়ির সাথে সাক্ষাৎ করতে যান। ইমাম আওযায়ি তাঁর হাতে অনুলিপি দেখে বললেন, ‘এটা কীসের অনুলিপি?’
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক কোনো কথা না বলে অনুলিপিটি তাঁর দিকে এগিয়ে দিলেন।

ইমাম আওযায়ি প্রথম মাসয়ালাটা পড়েই জিজ্ঞেস করলেন, ‘এগুলো কার মাসয়ালা?’
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক বললেন, ‘আপনার এখানে আসার আগে আমি ইরাকের একজন প্রসিদ্ধা আলিমের সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তাঁর নাম ইবনে সাবিত (ইমাম আবু হানিফার বাবার নাম সাবিত। অর্থাৎ সাবিতের পুত্র)। এগুলো তাঁরই মাসয়ালার অনুলিপি। এরপর পুরো অনুলিপি পাঠ শেষে ইমাম আওযায়ি বলেন, ‘সুবহানআল্লাহ! তুমি তো বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ আলিমের সাক্ষাৎ পেয়েছো। এমন প্রজ্ঞাপূর্ণ মাসয়ালা যিনি দিতে পারেন, তিনি অবশ্যই শ্রেষ্ঠ আলিম।’
তখন আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক বলেন, আর এই আলিমের নামই ইমাম আবু হানিফা; যাকে আপনি নতুন মতবাদ প্রণেতা বলেছেন। তখন ইমাম আওযায়ি নিজের ভুল বুঝতে পারলেন।

শতাব্দির এই শ্রেষ্ঠ আলিম ইমাম আবু হানিফা তাঁর ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু উক্তি করে গেছেন। যেগুলো এখনো প্রাসঙ্গিক। আমরা যারা ইসলামের চর্চা করি এবং নিজেদের প্রাকটিসিং মুসলিম বলে দাবি করি, তাদের জন্য এই কথাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চলুন ইমাম আবু হানিফা রাহিমাল্লাহুর সেই বিখ্যাত উক্তিগুলো জেনে নেই...

• যে ব্যক্তির ইলম তাকে নিষিদ্ধ কাজ ও আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বিরত রাখে না, সে আলিম হয়েও ক্ষতিগ্রস্থ।
• যদি ফকিহ ও আলিমগণ আল্লাহর প্রিয় বান্দা না হন, তবে এই পৃথিবীতে আল্লাহর প্রিয় বান্দা বলতে কেউ নেই।
• ফরজ হজ আদায়ের পর আল্লাহর রাস্তায় একবার জিহাদ করা পঞ্চাশবার হজ করার চেয়েও উত্তম।
• যে ব্যক্তি যোগ্য হওয়ার আগে নেতৃত্ব চায়, সে সর্বদা লাঞ্চিত হয়।
• যে ব্যক্তি দুনিয়ালাভের উদ্দেশ্যে ইলম অর্জন করে, সে ইলমের কল্যাণ ও সুফল থেকে বঞ্চিত হয়। ইলম তার অন্তরে বদ্ধমূল হয় না। ফলে অন্যরাও তার দ্বারা উপকৃত হতে পারে না। অপরদিকে যে ব্যক্তি একমাত্র দ্বীনের জন্য জ্ঞান অর্জন করে, আল্লাহ তার জ্ঞানে কল্যাণ দান করেন। জ্ঞান তার চিন্তা, চেতনা ও মননে গভীর প্রভাব ফেলে। ফলে অসংখ্য মানুষ তার থেকে উপকৃত হতে পারে।
• সবচেয়ে বড় ইবাদত হলো আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন। আর সবচেয়ে বড় গুনাহ হল মহান আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস। সুতরাং, যে ব্যক্তি সবচেয়ে বড় ইবাদতটি করবে এবং সবচেয়ে বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবে, আশা করা যায়, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন।
• যে ব্যক্তি নিজেকে মূল্যায়ণ করে তার কাছে দুনিয়াবি বিত্ত-বৈভব ও দুঃখ-দুর্দশা তুচ্ছ মনে হয়। আর যে ব্যক্তি আখিরাতের শাস্তি থেকে মুক্তি চায়, তার কাছে দুনিয়ার সকল বিপদাপদ লঘু বলে বিবেচিত হবে।
• কে কী করল, আর কে কী বলল, তা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে নিজ নিজ কাজে মনোযোগী হও। দ্বীনের বিষয়ে পুরোপুরি বুৎপত্তি লাভ করো, দেখবে মানুষ এমনিতেই তোমার প্রতি ঝুঁকে পড়বে। একদিন সকলকেই তোমার দ্বারস্থ হতে হবে।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের উপরোক্ত কথাগুলোর উপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

পঠিত : ৮৭ বার

ads

মন্তব্য: ০