Alapon

একমাত্র ইসলামই দুনিয়াতে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে...


দিন কয়েক আগে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ছাদে কয়েকজন বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিল। বন্ধু বলতে যদিও তারা আমার ক্লাসমেট নয়, কিন্তু কবিতা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র থেকে তাদের সাথে আমার পরিচয়। আর এই পরিচয় থেকেই বন্ধুত্ব। চাকরি, পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে আমরা বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ছাদে আড্ডা।

আড্ডার এক ফাকে এক বান্ধবী বলছিল, ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় নারীদের অধিকার নিশ্চিতে সবচেয়ে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে ধর্ম; তথা ইসলাম। যখন ইসলামের চর্চা শুরু হল, তখন থেকেই নারীরা অধিকার হারা হল। আর তারা সবচেয়ে বেশি অধিকার থেকে বঞ্জিত হয়েছে, বিয়েটাও নিজের ইচ্ছেমত না করতে পারার মধ্য দিয়ে। ইসলাম এসে এমন এক আইন জারি করল যে, বাপ-মা যেখানেই বলবে, সেখানেই বিয়ে করতে হবে! নিজের ইচ্ছার কোনো দাম নেই। এমন নিষ্ঠুর আইন আর একটাও আছে কিনা আমার সন্দেহ।

আমি তার কথা ধরে বললাম, তোমার কথার সাথে আমি একমত হতে পারলাম না। হতে পারে এটা তোমার জানার স্বল্পতা, কিন্তু তোমার জানার স্বল্পতার দ্বায় তো ইসলাম বা ইসলামের ইতিহাস নিতে পারে না।

তাকে বললাম, বিয়ে সংক্রান্ত আল্লাহর রাসূলের একটা হাদিস শোনাই; যেহেতু তুমি বিয়ে নিয়েই প্রশ্ন তুললে। আল্লাহর রাসূল সা. বলেছেন, ‘পূর্বে বিয়ে হয়েছে এমন নারীকে তার সম্পতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না। আর কুমারী মেয়েকে তার সম্মতি আছে কি না- তা জিজ্ঞাসা না করে বিয়ে দেওয়া যাবে না। প্রশ্ন করা হলো, কুমারী মেয়ের সম্মতি বোঝার উপায় কী? সে তো লজ্জায় হ্যাঁ বা না কিছুই বলবে না। তখন রাসূল সা. বললেন, কুমারী মেয়ের নীরবতাই তার সম্মতির লক্ষণ।’ ( বুখারী- ৬৪৫৫)

দ্বিতীয় আর একটা হাদিস শোনাই। এই হাদিসটা অনেকটা গল্পের মত, বুঝতে সহজ হবে।

একদিন মা আয়িশা রা.-এর কাছে এক মেয়ে এসে অভিযোগ করে, সামাজিক মান-মর্যাদা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আমার বাবা তার ভাইয়ের ছেলের সাথে আমার বিয়ে দেয়। আমি এই বিয়েতে মোটেও রাজি ছিলাম না। এক প্রকার জোর করেই আমার বিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় রাসূল সা. বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। তখন আয়িশা রা. বলেন, রাসূল সা. না আসা পর্যন্ত তুমি এখানেই অপেক্ষা করো। এরপর রাসূল সা. ঘরে ফেরার পর পুরো ঘটনা শুনে বললেন, কাউকে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া যাবে না। এখন তুমি যদি চাও, তবে এই বিয়ের সম্পর্ক অস্বীকার করতে পারো। ( নাসায়ি- ৩২১৭)

কোনো ধর্ম যদি নারীর অধিকার দিয়ে থাকে, তবে একমাত্র ইসলাম ধর্মই দিয়েছে। ইহুদিরা তো নারীকে পাপ মনে করে, আর হিন্দুরা নারীকে অপবিত্র মনে করে। কিন্তু ইসলাম বলে, যার প্রথম সন্তান কন্যা তার ঘরে আল্লাহ বারাকাহ দান করেন। যে দুটি কন্যা সন্তান লালন-পালন করে বিয়ের ব্যবস্থা করলো, সে যেন দুটো জান্নাতের হকদার হয়ে গেল।

আর নারীর স্বাধীনতার কথা বলছো! তুমি কোন ইতিহাস পড়ে এ কথা বলছো আমি ঠিক জানি না, তবে তুমি ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইতিহাস পড়ে দেখিও। উমর ইবনুল খাত্তাব রা. যাকে দেখলে ইবলিশ শয়তানও ভয়ে রাস্তা পরিবর্তন করতো, যিনি ইসলামের নিয়মনীতি মানার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোরতা অবলম্বন করতেন, সেই উমর ইবনুল খাত্তাব রা.-এর শাসনের সময় বাজার তদরকারির দায়িত্বে ছিলেন একজন নারী। তিনি রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা ছিলেন।

তাই এ কথা আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, পৃথিবীতে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে একমাত্র ইসলাম; আর কোনো ধর্মই নিা।

পঠিত : ১১০ বার

ads

মন্তব্য: ০