Alapon

একে ফজলুল হক যেভাবে শেরে বাংলা উপাধি পেলেন...



বরিশাল টাউন হলে মিটিং চলছিল।মিটিংয়ে ঝালকাঠির একটি মসজিদে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী কর্তৃক মুসলমানদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে।আলোচনায় সভাপতিত্ব করছিলেন এ কে( আবুল কাশেম) ফজলুল হক।

তো হক সাহেব জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়েই চলছেন।এক পর্যায়ে তিনি মারাত্মক উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং সামনে থাকা ডায়েস টেবিলে কবজি দিয়ে আঘাত করেন। তার কবজির আঘাতে পুরো টেবিল ভেঙে গিয়েছিল!উপস্থিত সকলেই ভয় পেয়ে যান এবং সমস্যার সমাধানে কাজ করেন দ্রুত!

১৯১৭ বা ১৯১৮ সালের দিকে এপিফেনি নামক এক ইংরেজ প্রাবন্ধিক আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশ করে যা ভারতীয় একটি দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছিল।আর এই আপত্তিকর মন্তব্যের ইন্ধনদাতা ছিলেন একজন পাদ্রী।ফলে পুরো ভারতবর্ষের মুসলিমরা জেগে ওঠে এবং রাস্তায় নামে। আন্দোলন দমানোর উপায় না পেয়ে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী রাস্তায় মুসলিমদের ওপর গুলি চালায়।মুসলমানদের রক্তে লাল হয় কলকাতার জাকারিয়া স্ট্রিট।

আলোচনার জন্য ব্রিটিশ সরকার হক সাহেবকে ডাকেন।আলোচনা চলার সময় তিনি রাস্তায় গুলিবর্ষণের শব্দ পান।তিনি দ্রুত গুলিবর্ষণ বন্ধ করতে বলেন।ব্রিটিশ সরকার বাহাদুরের কর্মকর্তারা রাজি না হলে তিনি আলোচনার টেবিল থেকে উঠে পড়েন এবং বলে ফেলেন আপনারা আপনাদের পথ দেখুন আমরা আমাদের পথ দেখছি।

তিনি রাস্তায় নেমে এসে সবার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং কামানের সামনে নিজের বুক পেতে বলতে থাকেন আগে আমার বুকে গুলি চালাও তারপর অন্যদের ওপর চালাবে।সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায় গুলি।দ্বিতীয় বার আলোচনার টেবিলে ডাকলে তিনি অ্যাপিফেনি ও পাদ্রীকে ১ ঘন্টার মধ্যে ভারত ছাড়ার এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও নিহতদের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।ব্রিটিশ সরকার আবার গড়িমসি করলে তিনি টেবিল থেকে উঠার ইঙ্গিত দিতেই সব দাবিগুলো মেনে নেয় এবং একটি বিশেষ জাহাজে করে তাদেরকে লন্ডন পাঠিয়ে দেওয়া হয়,আপত্তিকর মন্তব্য প্রত্যাহার করা হয়।

একবার লৌখনোতে( বর্তমান ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী) মুসলিম লীগের সম্মেলনে সভাপতি ছিলেন তিনি।তো সম্মেলন আগেই শুরু হয়েছিল এবং জিন্নাহ ভাষণ দিচ্ছিলেন।হক সাহেব ঐখানে উপস্থিত হওয়ার সাথে সাথে লাখো উর্দুভাষী জনগণ অশান্ত হয়ে ওঠে এবং হকের নামে স্লোগান দিতে থাকে। কেউ আর জিন্নাহর ভাষণ শুনছিলো না এজন্য ভাষণ বন্ধ করে দেন।

১ ঘন্টা পরে জনগণ শান্ত হলে জিন্নাহ বলেন " বাঘকে খাচায় পুরা গেছে, এখন সবাই শান্ত হউন এবং নিজেদের কাজ শুরু করুন।

হকে সাহেব বক্তৃতা দেওয়া শুরু করলেন উর্দুতে।জনতা নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছে।একজন বাঙালি কিভাবে এত সুন্দর উর্দু বলতে পারে? তার এই বুদ্ধিমত্তা দেখে লৌখনোবাসী ঐদিন ফজলুল হককে শেরে বাংলা উপাধি দেয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় মানুষটির ভূমিকা কখনো অস্বীকার করার মত নয়...

তথ্যসূত্রঃ শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক- সিরাজ উদ্দীন আহমেদ

- সৌরভ

পঠিত : ২৫৯ বার

ads

মন্তব্য: ০