Alapon

নিজের নাক কেটে নুরের যাত্রাভঙ্গ -পিনাকী ভট্টাচার্য



নিজের নাক কেটে নুরের যাত্রাভঙ্গ
-পিনাকী ভট্টাচার্য


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ডাকসুর সাবেক ভিপির বিরুদ্ধে লেগেছেন। আমি বিষয়টা খুবই কৌতুকের সঙ্গে লক্ষ্য করছি। বেশ কয়েক বছর আগে একদিন ফরহাদ মজহার আমাকে একান্ত এক আলাপের সময়ে স্নেহের সুরে বলেছিলেন, সাবধান পিনাকী আপনি বাংলাদেশের সো কল্ড স্যেকুলারদের পিছনে যেভাবে লেগেছেন আপনাকে এরা শেষ করে দেবে। আমি এদের চিনি, এরা হেন কর্ম নাই যা করতে পারে না।

সত্যি সত্যিই তারা তা করেছে, আমাকে কয়েক বছরের মধ্যে দেশ ত্যাগে বাধ্য করেছে। শুধু তাই নয় হেন অপপ্রচার নাই যা আমার বিরুদ্ধে তারা করে নাই। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন তারা এই কাজ করে? এইখানেই লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের স্যেকুলারদের অন্তর্নিহিত চরিত্র। বাংলাদেশের স্যেকুলারিজম ভারতের আশীর্বাদে ও পরিকল্পনায় নির্মিত এক প্রপঞ্চ। এটার পরতে পরতে আছে প্রচ্ছন্ন ইসলামবিদ্বেষ। এই স্যেকুলার এস্টাবলিশমেন্টকে সহজে আপনি শজে দেখতে পারবেন না, কিন্তু এরা সব জায়গায় তার নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করে। এদের মুল আশ্রয় বামদের মধ্যে। সেইখান থেকেই এরা নারী সংঠন, সংখ্যালঘু সংগঠন, মিডিয়া এই সবকিছুতেই তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এরা ভারতের ইন্টেলেকচুয়াল ফ্রন্ট যারা বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতার মুল শক্তিগুলোকে শায়েস্তা করে। নুর এই কারনেই এই তথাকথিত স্যেকুলার কুলের টার্গেট হয়েছে।

নুর যেহেতু প্রকাশ্য ভারত বিরোধী অবস্থান নিয়েছে তাই এই তথাকথিত স্যেকুলারকুল নুরের বিরুদ্ধে সুযোগ পেলেই ঝাপিয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক।
আপনি খেয়াল করলে দেখবেন নুর সেই ছাত্রিটিকে “দুশ্চরিত্রা” বলাতে নুরের বিরুদ্ধে ভার্চুয়াল কৃপাণ নিয়ে নেমেছে প্রথম বামেরা। তারা এতোদিনে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলো, সুযোগ পেয়েই ঝাপিয়ে পড়েছে।
কিন্তু সেই ছাত্রীকে যে আওয়ামী লীগ নুরের বিরুদ্ধে নামিয়েছে তা দেশবাসীর কাছে স্পস্ট। আপনারা দেখুন, নুরের বিরুদ্ধে ছাত্রীর অভিযোগ কী? অভিযোগ একটাই নুরের সংগঠনের একজন সদস্য বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেছে। নুর এই বিষয়ে মিমাংসা করে দেয়নি, তাই নুর সেই ধর্ষণের ঘটনার সহযোগী। আমি এই অভিযোগের বিষয়ে পরে আসছি। কিন্তু দেখেন এরপরে বাংলাদেশের মিডিয়া নুরের বিরুদ্ধে কী ছাপলো?

“নুর-মামুনসহ আরও চার জনের গ্রেফতারের দাবিতে সেই ছাত্রী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গত ৮ অক্টোবর রাত থেকে অনশনে বসে।” বাংলা ট্রিবিউন ১২ অক্টোবর ২০২০
যে তাকে ধর্ষণ করেছে বলে অেিভ্যাগ করছে তার গ্রেফতারের দাবী কিন্তু পরে আগে সে নিয়েছে নুরের নাম। তার কথিত ধর্ষক ছাত্রীটির টার্গেট নয়, টার্গেট হচ্ছে নুর।

আরেকটি দৈনিকের শিরোনাম দেখা যাকঃ

“নুরের বিরুদ্ধে একই বাদীর ধর্ষণ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা”
সমকাল ২২ সেপ্টেবর ২০২০
শিরোনাম দেখে মনে হবে নুরই ধর্ষণটা করেছে। আরো একটা সংবাদের প্রথম লাইন দেখেন।

“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে।”
সময় টিভি ২১ সেপ্টেম্বর
আপনাদের মনে হতে পারে এইসব তেমন গুরুত্বপুর্ণ মিডিয়া নয়। তাহলে দেখেন বাংলাদেশের প্রধান সুশীল জাতীয় দৈনিকের শিরোনাম। তারা শিরোনাম দিলো।

“ভিপি নুরুলের বিরুদ্ধে ঢাবি ছাত্রীর ধর্ষণ মামলা”
প্রথম আলো ২১ সেপ্টেম্বর
সুশীল পত্রিকা প্রথম আলো কী সাংবাদিকতার রীতি বা এথিক্স এই সংবাদের শিরোনাম দেয়ার ক্ষেত্রে ন্যুনতমভাবে মেনেছে? না মানে নাই। তাহলে প্রথম আলোর মত মিডিয়া কেন এই ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার রীতি মানলো না? এইবার আমি আপনাদের আমার এই লেখার প্রথম থেকে পড়তে অনুরোধ করবো। প্রথম আলো বাংলাদেশের সেই তথাকথিত স্যেকুলারকুলের মিডিয়া। এরা ভারতবিরোধীদের শায়েস্তা করার কোন সুযোগ ছাড়বে না। তাই নুরের বিরুদ্ধে এই মিডিয়া প্রোপাগাণদায় যোগ দিতে তাদের বিন্দুমাত্র গ্লানি হয়নি।

সেই ছাত্রী তার বিরুদ্ধে ঘটা যৌন অপরাধকে আর জেন্ডার পরিচিতিকে যেভাবে ঘটনার সাথে দুরতম সম্পর্ক না থাকা নুরকে শায়েস্তা করার কাজে ল্গিয়েছে সেই একই কাজ করেছে প্রথম আলো।
এবার আসুন সেই ছাত্রীর অভিযোগ সম্পর্কে। সেই ছাত্রী বলেছে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যৌন সম্পর্ক করা হয়তো যায় কিন্তু সেটা তো ধর্ষণ নয়। অধিকাংশ বিচারব্যবস্থায় ধর্ষণ বলতে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক অন্য কোনো ব্যক্তির অনুমতি ব্যতিরেকে তার সঙ্গে যৌনসঙ্গমে লিপ্ত হওয়া কিংবা অন্য কোনোভাবে তার দেহে যৌন অনুপ্রবেশ ঘটানোকে বুঝায়। কিন্তু এই ছাত্রী তো প্রলোভিত হয়েই সম্পর্ক করেছে। হ্যা তবে এই ছাত্রী সংশ্লিস্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ আনতে পারেন কিন্তু সেটাকে ধর্ষণ বলে চিহ্নিত করার কোন আইনি বা নৈতিক গ্রাউন্ড আছে বলে কোন যুক্তিবান মানুষ মনে করবে না।

বাংলাদেশে দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩৭৫ এ ধর্ষণের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, কোন পুরুষ নিম্নোক্ত পাঁচটির যে কোন অবস্থায় কোন নারীর সহিত যৌনসঙ্গম করলে সে ধর্ষণ করেছে বলে গন্য হবে।

প্রথমত, স্ত্রীলোকটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে

দ্বিতীয়ত, স্ত্রীলোকটির সম্মতি ব্যতিরেকে

তৃতীয়ত, স্ত্রী লোকটির সম্মতিক্রমেই,যেক্ষেত্রে মৃত্যু বা জখমের ভয় প্রদর্শন করে সম্মতি আদায় করা হয়।

চতুর্থত, স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে পুরুষটি জানে যে, স্ত্রীলোকটি তাকে এমন একজন পুরুষ বলে ভুল করছে, যে পুরুষটির সাথে সে আইন সম্মত বিবাহিত হয়েছে বা বিবাহিত বলে বিশ্বাস করে।

পঞ্চমত, স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমে বা সম্মতি ব্যতিরেকে, যদি স্ত্রীলোকটির বয়স চৌদ্দ বৎসর এর কম হয়।

যেই ছাত্রীটি তার সাথে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের অভিযোগ উত্থাপিত করেছে, সে কী কোনভাবেই তার উপরে ঘটা ঘটনাকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে “ধর্ষণ” বলে অভিহিত করতে পারে?

ছাত্রীটির এই অবস্থায় নুর কী করতে পারতো? সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মিমাংসা করে দেয়া কী নুরের কাজ ? নুর কী কোন প্রাইভেট আদালতের প্রধাণ? দুই প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির একান্ত পারষ্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে নুর কি তার জাজমেন্ট বা ইচ্ছা একজনের উপরে চাপিয়ে দিতে পারে বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিয়ে করতে বাধ্য করতে পারে? আদালত কীভাবে এই মামলা বিবেচনায় নিলো সেটা আরেক বিস্ময়।

কীভাবে স্যেকুলার এস্টাবলিশমেন্ট, মিডিয়া এবং আদালত নুরের এই কেইসটা ডিল করেছে তা ভবিষ্যতের গবেষকদের আগ্রহের বিষয় হতে পারে। আর এই ছাত্রীটি বুঝে হোক বা না বুঝে হোক নিজের নাক কেটে ফ্যাসিবাদের দালালদের দিয়ে প্ররোচিত হয়ে নুরের যাত্রাভঙ্গ করতে চাইতে তা নিয়ে আর কোন সন্দেহ নেই।

পঠিত : ৩৮৩ বার

ads

মন্তব্য: ০