Alapon

একাত্তর টেলিভিশন বয়কট এবং কিছু কথা...



হাতেগোনা দুই একটা বাদ দিলে বাংলাদেশের সমস্ত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া হচ্ছে সরাসরি ভারতীয় দালাল। ৫ই মে যারা নাকে খত দিয়ে এই জমীনে ইসলামের বিরুদ্ধে ভারতীয় ইনকুইজিশানের তাবেদারীর শপথ নিতে পেরেছে, দেশে মেইনস্ট্রিম মিডিয়া হিসাবে কেবল তারাই টিকে আছে। বাকিদের নাম একে একে মুছে দেয়া হয়েছে।
আমার ২০১৮ সালের ৯ই এপ্রিল সন্ধ্যার কথা মনে পড়ছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের উত্তাল দ্বিতীয় দিন। ক্যাম্পাসে অবরুদ্ধ অন্তত ২০ হাজার ছেলেমেয়ে, যাদের ভেতর প্রায় অর্ধেক ছিল মেয়ে।

সন্ধ্যা নামতেই ক্যাম্পাসের রাস্তার যাবতীয় ইলেকট্রিক বালব নিভিয়ে দেয়া হল। পুলিস অবস্থান নিল একদিকে দোয়েল চত্বর, আরেকদিকে শাহবাগ মোড় হয়ে পলাশীর দিকে।
ঢাকা কলেজের দিক দিয়ে ডাকসুর দিকে ঝাকে ঝাকে এদেশীয় শিবসেনারা উন্মুক্ত রামদা, চাপাতি হাতে ক্যাম্পাসে ঢুকলো। এদের অনেকের কাছেই ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। এই ঘটনার ভিডিও রয়ে গেছে বহু মানুষের কাছে। এদের লক্ষ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বুকে আরেকটা ৫ই মে ঘটানো। ঠিক এই সময় মিডিয়া ব্ল্যাকআউট হল। সাংবাদিকরা ঘোষনা দিলেন তারা কোটা সংস্কার আন্দোলন বয়কট করবেন। তাদের সাথে নাকি গোস্তাখি হয়েছে।

পরিস্থিতি এত থমথমে ছিল যে সাথে থাকা মেয়েদের ইজ্জত বাচানোর জন্য নিরুপায় হয়েই রাত ৮টার পর ক্যাম্পাস খালি করে দিতে আন্দোলনকারীরা বাধ্য হয়। পরবর্তীতে সেদিন রাত সাড়ে নয়টা থেকে দশটার মাঝামাঝি সময়ে ক্যাম্পাসের মহসীন হল-এফ রহমান হল হয়ে নীলক্ষেত যাওয়ার যে রাস্তা, ঐ রাস্তার ফুটপাত দিয়ে দুজন বিবস্ত্র, উদ্ভ্রান্ত তরুণীকে হেটে যেতে দেখা যায়। পরে পথচারীরা তাদের উদ্ধার করে রিকশায় তুলে দেয়। এই ঘটনা জিয়া হাসান ভাই সহ অনেক এক্টিভিস্ট সেদিন শেয়ার করেছিলেন। এই কাজ কারা করেছে তা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও কাদের দ্বারা সম্ভব তা বুঝতে রকেট সায়েন্টিস্ট হতে হয় না।

এই রকম একটা সময়েও ভারতচাটা সাংবাদিকের দল মিডিয়া ব্ল্যাকআউট অব্যাহত রাখে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের তৎপরতার খবর রাতের ভেতরেই গ্লোবাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে যায়। টিআরটি, ডেইলি সাবাহ, আল জাযিরা, ভয়েস অফ আমেরিকা, এপি, এএফপি সহ বেশিরভাগ টপক্লাস গ্লোবাল মিডিয়াতে পরদিন নিউজ আসে।

ভারতচাটা প্রগতিস্টিটিউট সাংবাদিকদের কেউ গোনে না বুঝতে পেরে একদিন পর তারা আবার আন্দোলনের নিউজ কাভার করতে শুরু করে। এই হচ্ছে আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার চরিত্র। আন্দোলনকারী ছাত্রদের এরা তখনই বয়কট করতে ছাড়ে নাই, এখন তো অনেক ভাল সময়।

আপনারা বয়কট করেন। আমরাও করি। জনগনকে বয়কট করে আপনাদের খবরের ব্যবসা কয়দিন চলে দেখা যাক।

একাত্তর টিভি বয়কট কেবলমাত্র শুরু। সামনে আরো আসছে।
বাংলাদেশে থেকে ভারতকে সিজদা দেয়া চলবে না।

- সজল

পঠিত : ১২৯ বার

ads

মন্তব্য: ০