Alapon

ঢাকার যানজট নিরসনে সেনাবাহিনী যেভাবে ভূমিকা রাখতে পারে...



অনেকদিন আগে একটা গল্প ‍শুনেছিলাম। একবার যানজট নিরোসনের জন্য বিদেশ থেকে একজন এক্সপার্টকে হায়ার করে আনা হয়। তিনি আবার বিশ্বাসগত দিক থেকে নাস্তিক ছিলেন।

৬ মাস তিনি ঢাকা শহরের যানজট নিয়ে গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ চালানোর পর ঘোষণা দেন, আমি আজ থেকে আস্তিক হয়ে গেলাম। কারণ, ঢাকা শহরের বিদ্যমান যানজটের সমাধান করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে, এই সমস্যার সমাধান আদৌও সম্ভব নয়। সেইসাথে আমার পুঁথিগত বিদ্যা বলে, এই শহরে যে পরিবার যানবাহন রয়েছে, তাতে এই শহর অচল হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তারপরও এই শহর সচল আছে এবং দৈনিক লক্ষ লক্ষ মানুষ এই যানজট পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করছে। কিন্তু একাডেমিক সিস্টেমে এটা অসম্ভব। এই শহরের যানবাহন সিস্টেম এখনো কীভাবে সচল আছে, তা আমার বোধগম্য নয়। একাডেমিক লজিক দিয়েও তা যাচাই করা সম্ভব নয়। পরিশেষে আমার অনুসিদ্ধান্ত বলে, নিশ্চয়ই একজন গড আছেন। আর সেই গড তাঁর বিশেষ পাওয়ার দিয়ে এই শহরের যান চলাচল সিস্টেম চালু রেখেছেন। তাই আজ থেকে আমি নাস্তিক থেকে আস্তিকে পরিণত হলাম।

এই গল্প সত্য নাকি মিথ্যা তা জানি না, তবে এ কথা সত্য, ঢাকা শহরের ট্রাফিক সিস্টেমটাই একটা বিষ্ময়!

দিন কয়েক আগে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট-এর ভিতর দিয়ে বাইকে করে যাচ্ছিলাম। ক্যান্টনমেন্ট যেন ঢাকা শহরের ভিতর আর এক শহর! আর এই শহরের আইন-কানুন ও সিস্টেম সবই আলাদা! ঢাকা শহরের মূল রাস্তা থেকে গাড়ি ক্যান্টনমেন্ট-এ প্রবেশ করা মাত্রই গাড়ির ড্রাইভার সতর্ক হয়ে যায়। তার স্ট্রিয়ারিং যেন আচমকা বাধ্য ছেলের মত নিয়ন্ত্রিন হতে থাকে। যে ড্রাইভার এতোক্ষণ অন্য গাড়ির সাথে পাড়াপাড়ি করছিল, আচমকা সে যেন বাধ্য আচরণ করতে শুরু করেছে। আর ঢাকা শহরের ভেতরে তো ট্রাফিক সিস্টেম এখনো এনালগ পদ্ধতিতে চলছে। আর ক্যান্টনমেন্ট সব গাড়ি ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলে। রাস্তাঘাট সব ফাকা কিন্তু ট্রাফিক সিগন্যাল রেড লাইট জ্বলে আছে, ক্যান্টনমেন্ট-এর ভিতরে সবাই থমকে দাঁড়ায়! ক্যান্টনমেন্ট-এ প্রবেশ করা মাত্রই সবার ভিতরে আইন মান্য করার অদ্ভুত প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। অথচ মূল সড়কে সব গাড়ি আইন ভঙ্গ করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়।

আমাদের সেনাবাহিনী তো দেশের বিভিন্ন জাতীয় সমস্যায় অগ্রনী ভূমিকা রাখে। যানজট বাংলাদেশের অন্যতম একটি জাতীয় সমস্যা। এই সমস্যা নিরসনে সরকার চাইলেই সেনাবাহিনীকে কাজে লাগাতে পারে। দুর্নীতির কারণে গাড়ির ড্রাইভাররা পুলিশকে সেভাবে গুরুত্ব না দেওয়া কারণেই মূলত মূল সড়কে ড্রাইভারদের মাঝে আইনভঙ্গ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। তাই আইনের কঠোর বাস্তবায়ন ও দুর্নীতির অভিযোগমুক্ত একটি বাহিনী অর্থাৎ সেনাবাহিনীকে যদি ঢাকা শহরের ট্রাফিক সিস্টেমের দায়িত্ব প্রদান করা হয়, তবে আমার বিশ্বাস ক্যান্টমেন্টের ভিতরে সাধারণ ড্রাইভাররা যেভাবে আইন মান্য করে চলে, একইভাবে রাজপথেও আইন মান্য করে চলবে। আর এতে করে ঢাকা শহরের ৪০% যানজট স্বয়ংক্রীয়ভাবে নির্মুল হয়ে যাবে।

পঠিত : ১১৯ বার

ads

মন্তব্য: ০