Alapon

পিরামিডের অজানা রহস্য......

মিশর অনেকগুলো কারণে আমার প্রিয় একটি দেশ। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হলো- পিরামিড। বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো সভ্যতাগুলোর গড়ে উঠেছিলো মিশরে। যারা মিশরীয়দের নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা করেনি তারাও মিশরকে চিনবে পিরামিডের জন্য। প্রাচীন এই স্থাপত্য মিশরকে যেমন দিয়েছে পরিচিতি, তেমনি এর রহস্য মানুষকে কাছে টেনেছে বারবার। মিশরের পিরামিড পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তম আশ্চর্যের একটি।


এ পিরামিডগুলোর সামনে দাঁড়ালে যে কারো মনে প্রথমেই প্রশ্ন জাগবে যিশু খ্রিষ্টের জন্মেরও ৩১৫০ বছর আগে, শ্যামলা গাত্রবর্ণের রহস্যময় মানুষের মধ্যে কী এমন ছিল- যা এত বিশাল জ্যামিতিক সূক্ষ্ম নির্ভুল মাপের পিরামিডগুলো বানাতে সক্ষম হয়েছিলো? পাথরগুলোই বা কাটা হলো কীভাবে! আবার ভেতরেই বা কেন এত অভিশাপে মুড়ানো প্রতিটি ফারাও রাজার শয়নকক্ষ? প্রশ্নগুলোর উত্তর পাবেন অনেক, কিন্তু গোলকধাঁধা থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই!


ছোটবড় মিলিয়ে মিশরে প্রায় ৭৫টি পিরামিড রয়েছে। সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষণীয় হচ্ছে গিজা’র পিরামিড। এটি খুফু’র পিরামিড হিসেবেও পরিচিত। খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ৫ হাজার বছর আগে এই পিরামিডের সৃষ্টি বলে ধারণা করা হয়। এর উচ্চতায় প্রায় ৪৮১ ফুট এবং এটি ৭৫৫ বর্গফুট জমির উপর অবস্থিত। প্রায় ২০ বছর ধরে ১ লাখ শ্রমিকের দ্বারা এটি তৈরি করা হয়। এটি তৈরি করা হয়েছিল বিশাল বিশাল পাথর খণ্ড দিয়ে। পাথর খণ্ডের ওজন ছিল প্রায় ৬০ টন, দৈর্ঘ্য ছিল ৪০ ফুটের মতো।


মিশরের প্রথম পিরামিডের স্থপতি ইমোটেপ ছিলেন প্রচুর প্রতিভা সম্পন্ন। তিনি একাধারে ছিলেন স্থপতি, মহাযাজক, গণিতবিদ সেই সঙ্গে মিশরীয় চ্যান্সেলর ছিলেন। তিনি বেঁচে থাকতে তার প্রতিভার তেমন সমাদর পাননি। তবে ইমোটেপের মৃত্যুর তিন হাজার বছর পর থেকে তার সুনাম ও প্রতিভা ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।


প্রাচীন মিশরের শাসক বা রাজাদের ফিরাউন ফারাও বলা হতো। মূলত তাদেরকে কবর বা সমাধি দেয়ার জন্যই পিরামিড নির্মাণ হতো। অনেকদিন ধরেই মানুষের মধ্যে একটা ধারণা ছিলো পিরামিড বানানোর কাজে ফারাওরা দাসদের ব্যবহার করতেন। আবার অনেকের মতে পিরামিড তৈরির জন্য সমগ্র মিশর থেকেই দক্ষ শ্রমিকরা আসতেন। আর কাজ করতে গিয়ে কারো মৃত্যু হলে সম্মান দেখিয়ে তাকে ফারাওয়ের পাশেই কবর দেয়া হতো। তবে, এ নিয়ে রয়েছে বিতর্ক।


বলা হয়ে থাকে, প্রাচীন মিশরীয়রা স্বাভাবিক মানুষদের চেয়ে আলাদা ছিল। আর এ কারণেই তারা এ বিশাল বিশাল পিরামিড বানাতে পেরেছিলো। অনেকের আবার ধারণা এর পেছনে হয়তো কোন অদৃশ্য শক্তি ছিলো।


মিশরে সাধারণত এপ্রিল-মে মাসের দিকে পর্যটকরা সবচেয়ে বেশি ভিড় জমায়। বহু কাল ধরে এ পিরামিডগুলো এক অচেনা রহস্য! স্বপ্ন বুনি, একদিন দেশ- বিদেশ ঘুরবো। আর আমার দর্শনেচ্ছার তালিকায় সর্বাগ্রে থাকবে মিশরের পিরামিড।

পঠিত : ৬৩ বার

ads

মন্তব্য: ০