Alapon

কেন আমরা রাসূল সাঃ এর জীবনী অধ্যয়ন করব?

????কেন আমরা রাসূল [ﷺ] এর জীবনী অধ্যয়ন করব?????
➤➤➤➤➤➤➤এমরান হোসেন

আমরা ইতিহাস বা জীবনী সম্পর্কিত অনেক বই-পুস্তক প্রায়ই পড়ে থাকি। কিন্তু আফসোসের বিষয় হল আমরা কয়জন এমন আছি যারা রাসূলুল্লাহ [ﷺ]এর জীবনী সম্পুর্ণ অধ্যয়ন করেছি? আমি দীর্ঘদিন ধরে একটা জরিপ চালিয়েছিলাম, অবশেষে আমার ধারণা বাস্তবে রুপ নিয়েছে। আমি প্রায় দুই শতাধিক মানুষকে একটাই প্রশ্ন করেছিলাম, আপনি কি রাসূল [ﷺ] এর জীবনী সম্পুর্ণ পাঠ করেছেন?? সম্ভবত দুইজন বলেছিলেন হ্যা! আর বাকি ১৯৮ জনের কাছ থেকে কি জবাব পেয়েছি তা আপনারাই বুঝে নেন।

আমরা যারা মুমিন-মুসলমান আমাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন রাসূল [ﷺ]। কেননা আমাদের অন্তরে রাসূলুল্লাহ [ﷺ] এর যথাযথ ভালবাসা বিকাশ করা এবং তাঁকে ভালবাসা ঈমানের অংশ। এমনকি রাসূল[ﷺ]এর আনুগত্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার আনুগত্যের অংশ এবং এটি আমাদের দ্বীনেরও অংশ। কেননা রাসুলুল্লাহ [ﷺ] ইরশাদ করেন "তোমাদের কেউ মু'মিন হতে পারবেনা, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তান এবং সব মানুষের চেয়ে বেশী প্রিয় হই" । এই বিষয়ে সম্যক ধারণা লাভের জন্য উল্লেখিত হাদীসটিই যথেষ্ট বলে আমি মনে করি।

রাসুলুল্লাহ [ﷺ] এর পথ অনুসরণ করার বিষয়ে ইবনে হাজম বলেছিলেন, যে ব্যক্তি পরকালের সন্ধান করবে, নৈতিকতা ও উন্নত চরিত্রের সন্ধান করে, সে যেন রাসূলুল্লাহ [ﷺ] কে অনুসরণ করে। নবী ছিলেন সেরা চরিত্রের নিখুঁত উদাহরণ। তাঁর সুন্দর চরিত্রের অনুসরণ করার জন্য আমাদেরকে অবশ্যই তাঁর জীবন অধ্যয়ন করতে হবে। আমরা যদি রাসূল [ﷺ] এর জীবনী  অধ্যয়ন করি তবে এটি তাঁর প্রতি আমাদের ভালবাসা বাড়াতে সহায়তা করবে। যদি আমরা তাঁকে সত্যই ভালবাসি, তবে তিনি যা করেছেন এবং আমাদেরকে যা শিখিয়েছিলেন তার অনুসরণ করা উচিত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: বলুন, 'তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাস, তবে আমাকে অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করবেন: নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।' [3:31]

রাসূল [ﷺ] এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহকে চিনেছি, মহান রবের প্রতি ঈমান এনেছি , সত্য ধর্ম ইসলাম পেয়েছি এমনকি কেয়ামতের দিন রাসূল [ﷺ] এর শাফায়াতের আশা রাখি। অথচ যিনি আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তির মাধ্যম, আমরা তিনার সম্পর্কে কিছুই জানিনা! আহ! কি হতভাগা আমরা।

আমরা রাসূলুল্লাহ [ﷺ] কে ভালোবাসি এটা সত্য। তবে এটাও সত্য যে, সত্যিকারের ভালবাসা কেবল তখনই গভীর এবং আন্তরিক হয় যখন আপনি সেই ব্যক্তিকে পুরোপুরি জানবেন। আপনি যদি তাঁকে পুরোপুরি না জানেন তবে আপনার ভালবাসা অগভীর থেকে যাবে। আমরা রাসূলুল্লাহ [ﷺ] কে যত বেশি জানব আমরা তাকে তত বেশি ভালবাসব এবং আমাদের ভালবাসা আরও গভীর হবে ইনশাআল্লাহ। আর রাসূল [ﷺ] সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে অবশ্যই রাসূল [ﷺ] এর জীবনী অধ্যয়ন করতে হবে।

সুহাইল ইবনে আমর কুরাইশের একজন নাগরিক ছিলেন যিনি মদিনায় রাসূলুল্লাহ [ﷺ] কে দেখতে এসেছিলেন। তিনি দেখেছিলেন যে সাহাবাগণ রাসুলুল্লাহ [ﷺ] এর সাথে কী আচরণ করেছিলেন এবং তিনি ফিরে এসে কুরাইশদেরকে  বলেছিলেন, আমি পারস্য সাম্রাজ্য, আবিসিনার নেগ্রাস, রোমান সাম্রাজ্যের নেতাদের সাথে দেখা করেছি, কিন্তু আমি আমার জীবনে কখনও এমন কোন নেতা দেখিনি। যে তার অনুসারীদের কাছে এতটা প্রিয়, অনুসরণীয় এবং সম্মানিত। আমি আরও আশ্চর্যজনক জিনিস দেখেছি। মুহাম্মাদ [ﷺ] যখন ওজু বানাতেন তখন তাঁর সাহাবীরা তাঁর শরীর থেকে গড়িয়ে পড়া জলের ফোঁটা ধরতে ছুটে যেতেন। কি অদ্ভুত প্রেম! তিনি তাদেরকে বলেছিলেন, আপনারা যা চান তা করুন তবে এরা এমন লোক যারা কখনও তাদের নবীকে ছেড়ে যায়না, তারা নিজেদের জীবন দিতেন এবং সমস্ত কিছু বলি দিতেন কিন্তু তাঁকে কখনও ছেড়ে যেতেন না। রাসূলুল্লাহ [ﷺ] এর প্রতি সাহাবীদের ভালবাসার যে গভীরতা ছিল, তার প্রমাণ সুহাইলের এই বক্তব্য। আমরা তাঁকে এমন ভালোবাসার দাবি করতে পারি না কারন আমরা তাঁর জীবন সম্পর্কে অজ্ঞ। তাই রাসূল [ﷺ] এর প্রতি আমাদের প্রেম-ভালবাসা বাড়াতে হলে অবশ্যই তার জীবনীগ্রন্থ অধ্যয়ন করতে হবে।

আপনি ভেবে দেখুন ইতিহাসের অন্য কোনও ব্যক্তির নাম অনুসারে এত লোক নেই। রাসূল [ﷺ] এর নাম বিশ্বব্যাপী প্রায়শই নাম হিসাবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিনিয়ত আজানের সময় রাসূল [ﷺ] এর নাম বলা হচ্ছে এবং তার নবুয়তের সাক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে। এমনকি যতবার আমরা তাঁর নাম শুনি আমরা তার প্রশংসা করি এবং বলি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]। ঠিক যেমন তাঁর নামের অর্থ প্রশংসিত। যিনি এত প্রশংসিত, এত সম্মানিত তিনার জীবনী পড়তে কিসে আমাদেরকে এত বাঁধা দেয়?

এছাড়া রাসূল [ﷺ] এর জীবন ইসলামী আন্দোলনের পদ্ধতিগত পদক্ষেপের চিত্র তুলে ধরে এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও ইসলামী রাষ্ট্রের পদক্ষেপগুলি আমরা তাঁর জীবনীতে দেখতে পাই।  গোঠা বিশ্বব্যাপী কীভাবে ইসলামের অনুশীলন এবং তা প্রতিষ্ঠা করা যায় সে সম্পর্কে আমাদের পক্ষে সেরা দিকনির্দেশনা হচ্ছে রাসূল [ﷺ] এর জীবন।

মুসলমানরা আজ মারাত্মকভাবে পরিচয় সংকটে পড়েছে। কারণ তারা তাদের অতীত ইতিহাস ভুলে গিয়ে বিভিন্ন পপ তারকা, নায়ক-গায়ক এবং খেলোয়াড়দেরকে অনুসরণ করছে। আমাদের একজন মুসলিম যুবক, একজন খেলোয়াড় সম্পর্কে যতটুকু জানে তার দশ ভাগের এক ভাগ কি আমাদের নবী, সাহাবী বা ওলীদের সম্পর্কে জানে? প্রশ্নটির উত্তর আপনারা নিজেরাই ভেবে দেখুন।

রাসূল [ﷺ] এর জীবনী অধ্যয়ন নিছক কোনো বিনোদনের জন্য নয়। আমরা আমাদেরকে চেনার জন্য তাঁর জীবনী অধ্যয়ন করতে হবে। কেননা আমাদের শিকড়, আমাদের ইতিহাস কী তা আমাদের অবশ্যই জানতে হবে। যদি আমরা নিজেরাই এটি না জানি তবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এটি কিভাবে পৌছাবো?(হৃদয় থেকে ভাবুন)

কোনো এক মনীষী বলেছেন, কোনও জাতিকে ধ্বংস করতে গেলে আপনাকে অবশ্যই প্রথমে তাদের শিকড় ধ্বংস করতে হবে। আমাদের শিকড়, আমাদের ঈমাণ হলেন রাসূল [ﷺ]। আমরা রাসূল [ﷺ] থেকে যতটা দূরে থাকব ততই আমাদের শিকড় দূর্বল হয়ে যাবে। এজন্যে আমাদেরকে রাসূল [ﷺ] এর কাছাকাছি থাকা উচিত। রাসূল[ﷺ] কাছাকাছি থাকতে হলে অবশ্যই রাসূল [ﷺ] কে অনুসরণ করতে হবে। আর রাসূল [ﷺ] কে পুরোপুরি অনুসরণ করতে হলে রাসূল [ﷺ] এর জীবনী অধ্যয়ন করা আবশ্যক। 

প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা, আলোচনার শেষপ্রান্তে এসে একটি সম্ভাব্য বাস্তব উদাহরণ দিচ্ছি আশাকরি এটা নিশ্চয় হৃদয়ে নাড়া দিতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।

ধর্ম নিয়ে যদি কোনো বিধর্মীর সাথে আপনার আলোচনা হয়। আর এই বিধর্মী আপনার ধর্ম সম্পর্কে  জানার আগ্রহ প্রকাশ করত বলে, আপনি আপনার ধর্ম ইসলাম কার মাধ্যমে পেয়েছেন? আপনি অবশ্যই জবাব দিবেন "নবী মুহাম্মদ [ﷺ] এর মাধ্যমে পেয়েছি"। এটা শুনার পর যদি ঐ বিধর্মী আপনাকে বলে,  যার মাধ্যমে আপনি আপনার ধর্ম পেয়েছেন তিনি নিশ্চয় কোনো শ্রেষ্ঠ মানব হবেন। দয়াকরে আপনার নবীর জীবন সম্পর্কে আমাকে কিছু বলেন! তখন আপনি কি করবেন? যদি রাসূল [ﷺ] এর জীবন সম্পর্কে আপনি অজ্ঞ থাকেন তাহলে একজন বিধর্মী যে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল তাকে কি জবাব দিবেন?  নাকি মিথ্যা বানোয়াট গল্প বলে নবীর নামে চালিয়ে দিবেন? যদি এমনটা করেন তাহলে যেনে রাখুন রাসূল [ﷺ] এর নামে মিথ্যা কিছু চালিয়ে দেয়ার পরিণাম হল জাহান্নাম! সুতরাং এরকম পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবে সামাল দিতে হলে অবশ্যই আপনাকে রাসূল [ﷺ] এর জীবনী অধ্যয়ন করতে হবে।

আশাকরি আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস আপনাদের হৃদয়ে একটু নাড়া দিবে। যদি আমার এই কথাগুলো একটু হলেও আপনাদের হৃদয় ছুঁতে পারে, তবেই আমার লেখা স্বার্থক হবে।

সহস্রাধিক পিডিএফ বই পেতে ভিজিট করুন আহলুস সুন্নাহ মিডিয়া ব্লগে।

পঠিত : ২২ বার

ads

মন্তব্য: ০