Alapon

দোয়া এক অব্যর্থ তীর........

জীবনের দীর্ঘ্য একটা সময় পর্যন্ত হতাশার অকূল পাথারে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন তিনি। কোনো কূল কিনারা করে উঠতে পারছিলেন না। জীবনের ব্যাপারে নিদারুণ বিতৃষ্ণ হয়ে পড়লেন। তাঁর মনে হতে লাগলো, ঈমান দুর্বল বলেই এমনটা হচ্ছে। ভালো মুসলিম হলে এতোটা ডিপ্রেসড্ হতেন না। এ জাতীয় ভাবনা তাঁর হতাশা আরও বাড়িয়ে তুললো।

কিন্তু ডিপ্রেশন সবসময় দুর্বল ঈমানের পরিচয় বহন করে না। এটা কখনও কখনও একটা মানসিক রোগ। মন খারাপ এবং ডিপ্রেশন; দুটো এক জিনিস নয়। মন খারাপ বা অবসাদগ্রস্থতা যদি দীর্ঘ্য সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে তার চিকিৎসাগ্রহণ আবশ্যক। তিনি ভাবলেন আর ভাবলেন। কিন্তু কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারলেন না। মানসিক সমস্যার চিকিৎসা নিতে গেলে লোকে আবার কি ভেবে বসে!

এরপর থেকে নিয়ম করে একটা কাজ করতে শুরু করলেন। দোয়া কবুলের সময়গুলো খুঁজে খুঁজে দোয়া করতে লাগলেন। দোয়া করার সময়টাতে মনে শান্তি অনুভূত হতো। আবার যখন দুনিয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন, তখন জাপটে ধরতো ডিপ্রেশন। নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে শেষ একটি অস্ত্র বেছে নিলেন- তাহাজ্জুদ।

এরপরের অনুভুতি তাঁর নিজের মুখেই বিবৃত করা সমীচিন মনে করছি। তিনি বলেছিলেন, “সত্যি বলতে, হয়তো সপ্তাহে একদিন পড়তে পারতাম। তবুও সেই একদিন এর দুয়াই আমার জীবন বদলে দিলো। তাহাজ্জুদের পর অবস্থা বদলে যেতে লাগলো। আমার আশেপাশের মানুষজন চেঞ্জ হয়ে গেলো। যা কল্পনাতেও ছিলো না, তা সহজ হয়ে গেলো। এরপর জীবনে এখন পর্যন্ত যখনই কোনো ব্যাপারে তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর সাহায্য চেয়েছি, প্রতিবারই ফল পেয়েছি। প্রতিবার!! আলহামদুলিল্লাহ।”

তায়েফে নির্মমভাবে নির্যাতিত হবার পর যখন রাসূল (সাঃ) এর কাছে ফেরেশতারা পুরো এলাকাটি ধ্বংস করে দেয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন, তখন রাসূল (সাঃ) তাদের জন্য ধ্বংস না চেয়ে বরং দোয়া করেছিলেন। তাঁর সেই ঐতিহাসিক দোয়ার একটি অংশে ছিলো, এই তায়েফ থেকেই যেন আল্লাহ ইসলামের কোনো কাণ্ডারীর জন্ম দেন।

ইতিহাস সাক্ষী, রাসূল (সাঃ) এর এ দোয়া অব্যর্থ তীরের মতো লক্ষ্যভেদ করেছিলো। এ ঘটনার ১০০ বছরের মধ্যেই তায়েফ এমন এক সন্তানের জন্ম দিয়েছিলো, যাঁর হাতে সিন্ধু বিজয় হয়েছিলো এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের আলোকমশাল প্রজ্জ্বলিত হয়ে উঠেছিলো। এই সেনাপতির নাম মুহাম্মদ বিন কাসিম।

হযরত মরিয়ম (আঃ) এর খালু যাকারিয়া ছিলেন নিঃসন্তান। তাঁর স্ত্রী ছিলো বন্ধ্যা। তাঁরা উভয়েই বয়স্ক হয়ে পড়েছিলেন এবং সন্তান হবার আর কোনো সম্ভাবনাই অবশিষ্ট ছিলো না। কিন্তু তাঁর দোয়ার মাধ্যমে এটিও সম্ভব হতে পেরেছিলো। তিনি দোয়া করলেন, "হে আমার রব! তোমার বিশেষ ক্ষমতাবলে আমাকে সৎ সন্তান দান করো। তুমিই প্রার্থনা শ্রবণকারী।" [সূরা আলে ইমরান-৩৮]

সত্যিকারার্থে, দোয়া এবং বিশেষ করে তাহাজ্জুদে দোয়া এক অব্যর্থ অস্ত্রের নাম। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "দোয়া ব্যতীত অন্য কোনো কিছুই তাকদিরকে বদলাতে পারে না।" [তিরমিজি-২১৩৯] দোয়া সম্পর্কে মুফতি মেনক্ অসাধারণ কথা বলেছেন, "পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, দোয়া করুন। খুশিতে দোয়া করুন। বিভ্রান্তি ও দুঃখে দোয়া করুন। যখন আঘাতপ্রাপ্ত হবেন, তখন দোয়া করুন। কোনো কিছু হারালে দোয়া করুন। যখন মানুষ আপনাকে উপহাস করছে তখন দোয়া করুন।"

পঠিত : ৭৬ বার

ads

মন্তব্য: ০