Alapon

মামুনুৃল হকের ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনের ইতিকথা ও ফরিদ উদ্দিন মাসউদের ধর্ম চিন্তা




কোন প্রকার মন্তব্যে যাবার আগে আমি মামুনুল হকের লেখা থেকে কয়েকটি অনুচ্ছেদ নিচে তুলে ধরছি।

তিনি লিখেছেন,'ভাস্কর্য বিরোধী এত বড় একটি আন্দোলন, অথচ এর নেতৃত্ব স্থানীয় পর্যায়ের ইমাম-আলেমগণ দিচ্ছেন । আর তাই তারা পড়েছেন প্রচন্ড চাপের মুখে । প্রশাসন ও সরকারী এজেন্সিগুলোর উপর্যপুরি জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অবস্থা নাকাল । এই পরিস্থিতিতে কী করণীয় তা নিয়ে তারা শীর্ষ ওলামা-মাশায়েখের সাথে সলাপরামর্শ করছেন । সেই সুবাদে এসেছেন আমার সাথেও কথা বলতে ।
আমি তাদের কাছে জানতে চাইলাম, কার কার কাছে গিয়েছেন এবং তারা কী বলেছেন ? তারা শোনালেন তাদের কারগুজারী । বিশেষভাবে বললেন দুজনের কথা । একজন মুহিউসসুন্নাহ হযরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান । আর অপরজন হলেন আল্লামা ফরিদ উদ্দিন মসউদ ।
ফরিদ মসউদ সাহেবের যে কথাগুলো তারা উদ্ধৃত করলেন, তা আমার কাছে ভালো লেগেছে । তিনি নিজে কী করতে পারবেন, এ বিষয়ে বলতে গিয়ে বলেছেন, “সরকারের উঁচু পর্যায়ে সম্ভব হলে আমি কথাগুলো পৌছাবো । এজন্য তিনি মাহমুদুল হাসান সাহেবের কথা বলেছেন যে তিনি যেহেতু কওমীর নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছ্ন, তাই তিনি পারেন একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে । সেখানে আমিও থাকব এবং প্রধানমন্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করব ।
ফরিদ মসউদ সাহেব দ্বিতীয় যে কথাটি বলেছেন, সেটি হল-শুধু আলোচনা করে সমাধান হবে না । আলোচনা ফলপ্রসু হতে হলে আগে মাঠ তৈরি করতে হবে । মাঠ গরম না হলে টেবিলের আলোচনায় কাজ হবে না । আর মাঠে জনমত তৈরি করতে হলে দুজন ব্যক্তির ভূমিকার কথা তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছেন । ফয়জুল করিম সাহেব এবং মামুনুল হক ।

ফরিদ মসউদ সাহেবের কথা তাদের কাছে যুক্তিপূর্ণ মনে হয়েছে বিধায় তারা আমার সাথে কথা বলতে এসেছেন । আমি তাদের দীর্ঘ কারগুজারী শুনলাম । তাদের মনোভাব বুঝলাম । আর তাদের প্রতি আমার সমর্থন ও যে কোনো সহযেগিতার প্রতুশ্রুতি দিলাম । সেমতে প্রাথমিক কথা এমনই সাব্যস্থ হলো যে, আমি এবং ফয়জুল করিম ভাই আমাদের দুজনকে রেখে একটা বড় রকমের মাঠ প্রোগ্রাম করা হবে । এমন একটা খসড়া পরিকল্পনার আলোচনা করে তারা আমার কাছ থেকে বিদায় নিলেন । এরপর ১৩ নভেম্বর বাদজুমা ধুপখোলা মাঠে বড় রকমের সমাবেশ হল ।

গতকাল রাতে নড়াইলের লোহাগাড়ার শামুখখোলা মাদরাসায় ছিল মাহফিল । কালনা ঘাটে ফেরি আটকে দিয়ে আমাকে ফিরিয়ে দেয়া হয় । মাহফিলটিকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যপক সাড়া পড়েছিল । জনসমাগমও হয়েছিল প্রচুর । কিন্তু আমি যেতে না পারায় মানুষের মধ্যে জন্ম নিয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ । এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সরকারদলের মধ্যেও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ।
আমি যখন আজ সকালে ঢাকা ফিরছিলাম, আমাকে ফোনকল করে কথা বললেন স্থানীয় সংসদসদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা । তিনি অনাকাঙ্খীত এই ঘটনার জন্য দু:খ প্রকাশ করলেন । স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ যেন এই ঘটনার জন্য তাকে দায়ী মনে না করে, সে আহ্বান জানালেন । সেই সাথে সময়সুযোগ করে আপ্যায়নের দাওয়াতও দিলেন ।

আমরা কখনই হটকারিতার পথে পা বাড়াবো না ইনশাআল্লাহ !! তবে সরকার যদি ভাস্কর্য নামে মূর্তিসংস্কৃতি এভাবেই ছড়িয়ে দিতে থাকে, ক্ষমতার জোরে যদি আমাদের ইসলামী ঐতিহ্যকে এভাবেই ধ্বংস করতে থাকে, তাহলে বহু কাঠখড়ি পুড়িয়ে ইসলামী মহলের সাথে যতটুকু দূরত্ব কমিয়েছে, ভাস্কর্য ইস্যুতে সরকারের মনোভাব অনড় থাকলে সেই দূরত্ব বাড়বে আবার যোজন যোজন !"এই ছিল মামুনুল হকের বয়ানের মূল বিষয়বস্তু।

ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনের একটি প্রতিনীধি দল গণজাগরণ মঞ্চের নেতা ফরিদ মাসউদ এর নিকট গলে তিনি মাঠ গরম করার জন্য প্রতিনীধি দলকে মামুনুল হক ও পীর চোরমোনই এর নিকট যেতে বললেন।

শেখ হাসিনার ডানের লোক ফরিদ উদ্দিন মাসউদের নিকট থেকে অভয় পেয়ে ফয়জুৃল করিম ও মামুনুৃল হক মাঠ গরম করতে এলোপাথাড়ি শব্দবোমা প্রয়োগ করতে লাগলেন।বড় আজিব ব্যাপার।মামুনুল হক তারর লেখার শেষ অনুচ্ছেদে নিজেই স্বীকার করেছেন যে,হাসিনা অনেক কাঠ খড়ি পুড়িয়ে কৌমি আলেমদের সাথে দুরুত্ব কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন।এক কথায় তিনি কৌমি জননী।তাহলে মাঠ গরম করার জন্য ফরিদ মাসউদ লোক ভাড়া করবেন কেন এবং মামুনুল হক ভাড়ায় খাটতে যাবেন কেন?
ধর্মপ্রাণ মানুষকে মাঠে নামিয়ে বিশ্বকে এ কথা জানান দেয়া যে,বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদির উত্থান হয়েছে,দেখুন আপনারা নিজ চোখে।এদের শায়েস্তা করতে হাসিনার বিকল্প নেই।

দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য রাসুল(সঃ)হিজরত করেছেন।মদিনায় গিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করেছেন।মক্কায় থাকতে তিনি কাবা ঘরের মূর্তি ভাঙ্গতে পারেন নি।সেই শক্তি ও সামর্থ তখন কোনটায় ছিল না।মক্কা বিজয়ের পর কাবা ঘরের মূর্তি ভেঙ্গে ফেলেন।একেই বলে ক্ষমতা।ক্ষমতা যদি ইসলামপন্থীদের হাতে থাকত তবে আজ অপরাধীর মত সরকারের কাছে হাতজোড় করে বলতে হত না,মূর্তি তৈরি করোনা,আমরা মুসলিম,ভাস্কর্য বা মূর্তি ইসলামের সাথে যায় না।রাষ্ট্রে ইসলাম থাকলে দেশের সকল মূর্তি আজ ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়া হত।যেমনভাবে কাবা ঘরসহ মক্কার আনাচে কানানাচে তথা ইসলামী রাষ্টের সীমানার মধ্যকার সকল প্রকার মূর্তিগুলো ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।
আহারে মুসলমান!রাষ্ট্রে ইসলামও কায়েম করবে,তাগুতের দেয়া বিরানী পোলাও খাবে,সরকারের নিয়োগকৃত লোকের অনুমতি নিয়ে লোক দেখানো সরকার বিরোধী আন্দোলন করবে, আবার গায়ে ফুলের টোকাও লাগতে দেবে না।জাতী হিসাবে আমরা সত্যি পাগল হয়ে গেছি।

পঠিত : ১২০০ বার

মন্তব্য: ১

২০২১-১২-০৮ ০১:৪২

User
আবু আহনাফ

শেষের কথাগুলো স্বপ্নবোনা❤️❤️

submit