Alapon

১৯৭১-এ কোন প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তান রাখার পক্ষে ভূমিকা নিয়েছিল?



জামায়াতে ইসলামী একা নয়। ভারতের প্রতি বিশ্বাস নেই, ভারতের আধিপত্যের আশংকা করে এমন সকল দল, যেমন: জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী, মুসলিম লীগের কয়েক গ্রুপ, নূরুল আমিন সাহেবের পিডিপি, শেরে বাংলার কে এসপি (তখন এ দলের নেতা ছিলেন সোলায়মান সাহেব) তারা কয়েক কারণে ভারতের সাহায্যে পূর্ব পাকিস্তানকে আলাদা করে স্বাধীন করার আন্দোলনে শরিক হতে পারেনি।

১৯৩৫ অ্যাক্ট-অনুযায়ী ১৯৪৭-এ যে গভর্নরগুলো হয়েছিল তখন ভারতের ৭টি প্রদেশে কংগ্রেসের সরকার গঠন করা হয়েছিল। তারা মুসলমানদের সাথে যে আচরণ করেছে, সেই কারণেই তো মুসলমানরা ভারত ভাগ করার জন্য আন্দোলন করলো। তাদের সে আচরণের কথা ভুলবার নয়। দ্বিতীয়ত : পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ভারত একদিনের জন্যও দেশটির সাথে ভালো আচরণ করেনি। কোনোদিন প্রতিবেশীসুলভ সদাচরণ করেনি। তারা সবসময় বিরোধী শত্রুসুলভ আচরণ প্রদর্শন করেছে।

আর এজন্যই জামায়াতে ইসলামীসহ উল্লেখিত দলগুলো নিশ্চিত ছিল, দেশ যদি পাকিস্তান থেকে আলাদা হয় তাহলে ইসলামাবাদের বদলে দিল্লির অধীন হবে। স্বাধীন হবে না। সেজন্য তারা স্বাধীনতা আন্দোলনে শরিক হতে পারেনি। এবং এ আশংকা লালনকারী সব দল যে ভূমিকা পালন করেছে জামায়াতে ইসলামী একই ভূমিকা পালন করেছে।

জামায়াতে ইসলামী একা আলাদা কোনো পলিসি গ্রহণ করেনি। তারা তখন টিক্কা খানের সাথে দেখা করে বলেছে, আপনারা যা করলেন তার সাথে তো আমরা একমত নই। কিন্তু যারা জনপ্রতিনিধি যারা তারা তো সবাই দেশ থেকে চলে গেছে, সুতরাং আর্মির বাড়াবাড়ির কারণে যারা বিক্ষুব্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা আমাদের কাছে এসেছে, ধরনা দিয়েছে। তখন আমরা এই ৬-৭ দল টিক্কা খানের সাথে দেখা করে বললাম, আর্মির বাড়াবাড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যারা আমাদের কাছে আসে তাদের কথা যেন বলতে পারি এমন লোক ঠিক করে দিন। এই উদ্দেশ্যেই জনগণকে সেফ করার জন্য পিস কমিটি করা হয়েছিল।

পিস কমিটি তো আর যুদ্ধ করেনি। তারা জনগণের সাথে এবং আর্মির ও সরকারের মাঝখানে ভূমিকা পালন করেছে। এ প্রচেষ্টা ছিলো জনগণকে রক্ষা করার জন্য। তাছাড়া এ দলগুলোর সকলেই বুঝতে পেরেছিল স্বাধীনতা যুদ্ধে শরিক হতে হলে তাদের ভারত যেতে হবে। (ওখানে গেলে ভারত সরকার তাদের মেরে ফেলবে না হয় তো জেলে দেবে। ভারতে আশ্রয় নেয়ার সাহস তারা করে নাই)। কারণ সেখানে গেলেও তাদের সাথে ভালো আচরণ করা হতো না, এ ব্যাপারে তারা নিশ্চিত ছিল।

মুক্তিযোদ্ধারা ভারত থেকে এসে পাকিস্তান আর্মির চলাচল বন্ধ করতে ব্রিজ ভেঙে দিতো, হামলা করতো। এসব বন্ধ করতে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী না থাকায় সরকার আগের আনসার বাহিনীর মতো রাজাকার বাহিনী গঠন করলো। সরকার ঢোল পিটিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারদের বাধ্য করে রাজাকার বাহিনীর জন্য লোক সংগ্রহ করে। কোনো দল এ বাহিনী গঠন করেনি। কোনো দল থেকে এটা করা হয়নি। যারা মনে করেছে, ভারতের সাহায্যে দেশ স্বাধীন হলে প্রকৃত স্বাধীন হবে না, ইসলামাবাদের বদলে দিল্লির হাতে বন্দি হবে, জামায়াতে ইসলামী তাদের মতো ভূমিকা পালন করেছে।

পঠিত : ৭৪৩ বার

মন্তব্য: ০