Alapon

আনুশকা ধর্ষণের শিকার না বিকৃত যৌনতার শিকার...?



আজ সারাদিনই সোশাল মিডিয়ায় আনুশকতা তথা ইংলিশ মিডিয়া স্কুলের শিক্ষার্থী আনুশকতার ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা চলছে। পত্রিকা মারফত জানতে পারলাম, অভিযুক্ত দিহান ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু দিহানের এই স্বীকারোক্তি কতটা ঔচ্ছিক আর কতটা জোরপূর্বক তা এই মুহুর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, পুলিশ ঘটনাটাকে ধর্ষণ বলেই প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। এতে মামলার ধারা সাজাতে পুলিশকে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না বলেই আমার বিশ্বাস।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে ধর্ষণের সংজ্ঞা হল, ‘যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতি ছাড়া বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তার সম্মতি আদায় করে, অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে গণ্য হবেন।’

চলুন ঘটনাটা জেনে নেওয়া যাক। সাংবাদিক, পুলিশ ও ভিক্টিমের মায়ের ভাষ্যনুসারে, আনুশকা সকাল ১১টায় তার মাকে গ্রুপ স্ট্যাডির কথা বলে তার বন্ধুর বাড়ি চলে যায়। বন্ধু বলতে দিহানের বাড়ি চলে যায়। আর সেই সময় দিহানের বাড়িতে আর কেউই উপস্থিত ছিল না। এরপর বেলা ১২ টার কিছু পরে দিহান আনুশকার মাকে ফোন দিয়ে বলে, আনুশকা নোটস নিতে এসে অজ্ঞান হয়ে গেছে। তাই তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। অন্যদিকে, হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার ফোন করে পুলিশকে। বলে, জনৈক তরুণ একজন মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে, তার শরীর থেকে ব্লেডিং হচ্ছে। তখন পুলিশ ডাক্তারকে বলে, সেই ছেলেকে আটকে রাখুন, আমরা আসছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জানতে পারে, আনুশকা মারা গেছে। তারপর তারা দিহানকে আটক করে নিয়ে যায়।’

দিহানকে আটক করার পর পুলিশের কাছে যে স্বীকারোক্তি দিয়েছে, তাতে জানা যাচ্ছে, ‘দিহান ও আনুশকার মধ্যে ৩ মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছে। বাসায় কেউ না থাকায় দিহান আনুশকাকে বাসায় আসতে বলে। আর আনুশকাও তার মাকে গ্রুপ স্ট্যাডির কথা বলে, দিহানের বাড়িতে চলে যায়। এরপর দিহান কোমল পানীয়ের সাথে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে আনুশকাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের কারণে ব্লেডিং হয় এবং এক পর্যায়ে দিহান আনুশকাকে হাসপাতালে ভর্তি করায়।’

গ্রেফতারের পর দিহানের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এটাকে ধর্ষণই মনে হচ্ছে। কিন্তু এটা কি আদৌ ধর্ষণ ছিল?

আমি ব্যক্তিগতভাবে এটাকে ধর্ষণ মনে করতে পারছি না। কারণ, আনুশকা প্রথমেই তার মাকে মিথ্যা বলে বাসা থেকে বেরিয়েছে এবং দিহানের বাড়িতে গিয়েছে। আর দিহান কেন আনুশকাকে তার বাড়িতে ডেকেছে, তা নিশ্চয়ই আনুশকতার অজানা ছিল না। আর অজানা থাকবেই বা কী করে, যেভাবে বাংলা নাটকগুলোতে রুম ডেট আর লিটনের ফ্ল্যাটের বর্ণনাভঙ্গি উপস্থাপন করা হচ্ছে, তাতে এখন একজন ক্লাস ফাইভের মেয়েও জানে, কোনো ছেলে বন্ধু তার বাড়িতে ডাকা মানেই বিশেষ কোনো ইঙ্গিত। আর সেই ইঙ্গিত বুঝতে পেরেই আনুশকতা দিহানের বাসায় গিয়েছে।’

তাহলে বিপত্তিটা ঘটল কোথায়?

বিপত্তি ঘটেছে অন্য জায়গায়। দুটো বিষয় হতে পারে। প্রথম বিষয়, যৌনাঙ্গ বিষয়ক জ্ঞান না থাকা। দ্বিতীয় বিষয়, পর্নোগ্রাফির প্রভাব হিসেবে বিকৃত যৌনচার চালানো।

প্রথম বিষয়, যৌনাঙ্গ বিষয়ক জ্ঞান না থাকা। এই জ্ঞান না থাকার ফলে যা হতে পারে, দিহান কোনটা মূত্রাঙ্গ আর কোনটা যৌনাঙ্গ তা বুঝতে পারেনি। যার কারণে যৌনসঙ্গমের সময় সে আনুশকার মূত্রাঙ্গে নিজের যৌনাঙ্গ প্রবেশ করাতে পারে। ফলাফলস্বরূপ যা হবার তাই হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। আর রক্ত দেখে ভড়কে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বেশ দেরি করে ফেলেছে। আর হাসপাতালে নিতে নিতে আনুশকা মারা গেছে।

দ্বিতীয় বিষয়, বিকৃত যৌনাচার। আপনাদের মনে আছে কিনা, গত বছর ভারতে এক তরুনী বিকৃত যৌনাচারের শিকার হয়ে মারা গেছে। অর্থাৎ সেই তরুণীর বয়ফ্রেন্ড তার সাথে বিকৃত উপায়ে যৌনসম্পর্ক করতে গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। তারপর এক পর্যায়ে সেই তরুণী মারা যায়।

বিকৃত যৌনাচারের প্রভাব তাদের উপর বেশি দেখা যায়, তারা পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত। শুধু আসক্তই না, ভয়াবহ পর্যায়ের আসক্ত। এই আসক্তদের আর সফটকোর পর্ন দেখে তৃপ্তি আসে না। তাদের ভায়োলেন্সমূলক পর্ন দেখার পরই তৃপ্তি আসে। আর এই আসক্তরা নিজেরাও তাদের সঙ্গির সাথে এমন ভায়োলেন্সমূলক যৌনসম্পর্ক স্থাপন করতে চায়। আর এটা করতে গিয়ে প্রায়শই নারীকে আঘাত পেতে হয়, ব্যথা পেতে হয়, কখনো কখনো রক্তক্ষরণও হয়।

আনুশকা ও দিহানের ঘটনা ঠিক কোন পর্যায়ের- তা আর কখনো প্রকাশিত হবে কিনা আমি জানি না। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে এই ঘটনাকে আমার কোনোভাবেই ধর্ষণ মনে হচ্ছে না।

পঠিত : ১৫২ বার

ads

মন্তব্য: ০