Alapon

মহিলাদের মদজিদে গমণ ও শরয়ী নীতিমালা:


নারীদের সালাত সংক্রান্ত অসংখ্য হাদিস আছে, যেগুলোতে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ঘরে সালাত পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের মসজিদে আসতে নিরুৎসাহী করা হয়েছে।
(১) আবদুল্লাহ (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ক্ষুদ্র কক্ষে নারীদের নামাজ বড় কামরার নামাজের তুলনায় উত্তম। ঘরের নির্জন কোণে নামাজ ক্ষুদ্র কক্ষের নামাজের তুলনায় উত্তম। ’
[আবু দাউদ, হা: ৫৭০, হাদিসটি সহিহ)]

(২) উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নারীদের ঘরে নামাজ পড়া ঘরের বাইরে নামাজ পড়ার চেয়ে উত্তম। ’
(আল মু’জামুল আওসাত, হাদিস : ৯১০১).

(৩) উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘নারীদের নামাজের উত্তম জায়গা হলো তাদের ঘরের নির্জন কোণ।
(মুসনাদে আহমাদ, হা: ২৬৫৪২, হাদিসটি হাসান)

(৪) আবু হুমাইদ আল সাঈদি থেকে বর্ণিত, একবার উম্মে হুমাইদ নামক একজন মহিলা সাহাবি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে গিয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনার সঙ্গে নামাজ আদায় করতে আগ্রহী। ’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আমি জানি তুমি আমার সঙ্গে নামাজ আদায় করতে পছন্দ করো। কিন্তু তোমার জন্য বড় কামরার তুলনায় গৃহের অন্দরমহলে নামাজ পড়া উত্তম। আবার বড় কামরায় নামাজ পড়া উত্তম বারান্দায় নামাজ পড়ার চেয়ে। বারান্দায় নামাজ আদায় করা উত্তম তোমার মহল্লার মসজিদের চেয়ে। মহল্লার মসজিদ উত্তম আমার মসজিদ (মসজিদে নববী) থেকে। ’ এ কথা শোনার পর উম্মে হুমাইদ (রা.) তাঁর গৃহের নির্জন স্থানে একটি নামাজের স্থান বানাতে নির্দেশ দিলেন। সেখানেই আজীবন নামাজ আদায় করতে লাগলেন। এ অবস্থায় তিনি ইন্তিকাল করেন।
(মুসনাদে আহমাদ, হা: ২৭০৯০; সহিহ ইবনে
খুজাইমা, হা: ১৬৮৯, হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) এর মতে, হাদিসটি হাসান, ফাতহুল বারি, ২/২৯০)

(৫) আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘জামাতে জুমার নামাজ পড়া প্রত্যেক মুসলমানের ওপর অকাট্য ওয়াজিব, তবে ক্রীতদাস, নারী, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব নয়। ’
(আবু দাউদ, হা: ১০৬৭; আল মুস্তাদরাক : ১/২৮৮, হাদীসটি সহীহ।)

(৬) মুহাম্মদ ইবনে কাব আল কুরাজি (রহ.) বলেন,, রাসুল (সা.) বলেন, ‘নারী ও দাসের ওপর জুমার নামাজ নাই। ’
(মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হা : ৫১৯৬, হাদিসটি সহিহ)

উল্লিখিত হাদিসগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে,

(ক) পুরুষদের দায়িত্ব পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে পড়া, আর মহিলাদের দায়িত্ব হলো ঘরে নামাজ পড়া।

(খ) রাসুলুল্লাহ (সা.) এর যুগে মহিলাদের জন্য জামাতে শরিক হওয়া ওয়াজিব, সুন্নাত বা অত্যাবশ্যকীয় ছিল না; বরং শুধু অনুমতি ছিল। তবে সেটিও অপছন্দ ও শর্তসাপেক্ষ ছিল।

রাসুল (সাsmile এর যুগে কিছু শর্ত সাপেক্ষে নারীদের মসজিদে আসার অনুমতি ছিল। শর্তগুলো হলো।

(ক) সম্পূর্ণ আবৃত ও পূর্ণ শরীর ঢেকে বের হবে।
(খ) সেজেগুজে খুশবু লাগিয়ে বের না হওয়া।
(গ) পুরুষদের ভিড় এড়িয়ে পাশ কাটিয়ে চলবে।
(চ) অপ্রয়োজনে কোনো বেগানা পুরুষের সঙ্গে
কথা বলবে না। সর্বোপরি তাদের এই বের হওয়া ফিতনার কারণ হবে না।
(সুনানে আবু দাউদ, হা : ৫৬৫,বাজলুল মাজহুদ : ৪/১৬১)

কিন্তু এই শর্তগুলো না মানার কারণে নারীদের মসজিদে আসার ব্যাপারে সাহাবিরা পতবর্তিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন

যেমন, (১) আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নারীরা যে অবস্থা সৃষ্টি করেছে, তা যদি রাসুল (সা.) জানতেন, তবে বনি ইসরাইলের নারীদের যেমন নিষেধ করা হয়েছিল, তেমনি তাদেরও মসজিদে আসা নিষেধ করে দিতেন। (সহিহ বুখারি, হা : ৮৬৯)

আল্লামা বদরুদ্দিন আইনি (রহ.) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, ‘আয়েশা (রা.) এর এই মন্তব্য তো রাসুলুল্লাহ (সা.) এর দুনিয়া থেকে বিদায়ের কিছুদিন পরের নারীদের সম্পর্কে। অথচ আজকের যুগের নারীদের উগ্রতা আর বেহায়াপনার হাজার ভাগের এক ভাগও সে যুগে ছিল না। তাহলে এ অবস্থা দেখে তিনি কী মন্তব্য করতেন?’ (উমদাতুল কারি : ৬/১৫৮)

(২) আবু আমর শায়বানি (রহ.) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) কে দেখেছি, তিনি জুমার দিন নারীদের মসজিদ থেকে বের করে দিতেন এবং বলতেন, আপনারা বের হয়ে যান। আপনাদের ঘরই আপনাদের জন্য উত্তম।
(আল মু’জামুল কাবির, হাদিস : ৯৪৭৫)

আল্লামা হাইসামি (রহ.) বলেন, এ হাদিসের সব বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।
(মাজমাউজ জাওয়াইদ : ২/৩৫)

(৩) জুবায়ের ইবনুল আওয়াম (রা.) তাঁর পরিবারের কোনো নারীকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজে যেতে দিতেন না।
(মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা: ৫৮৪৬, হাদিসটি সহিহ)

(৪) ইবনে ওমর (রা.) তাঁর স্ত্রীদের ঈদগাহে বের হতে দিতেন না। [মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ৫৮৪৫ (হাদিসটি সহিহ)]

পরবর্তী ফিকাহবিদরা ফিতনার ব্যাপকতার কারণে যুবতী ও বৃদ্ধা সবার জন্য সব নামাজে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করেছেন।
(শরহুস সগির : ১/৪৪৬, আল মাজমু : ৪/১৯৮, আল মুগনি : ২/১৯৩)

বাদায়েউস সানায়ে’ তে বলা হয়েছে যে যুবতী নারীদের মসজিদে যাওয়া ফিতনা।
(বাদায়েউস সানায়ে : ১/১৫৬)

আল্লামা ইবনে নুজাইম মিসরি ও আল্লামা হাসকাফি.(রহ.) বলেন, বর্তমান যুগে ফিতনার ব্যাপক প্রচলন হওয়ায় ফতোয়া হলো, সব নারীর জন্যই সব নামাজ মসজিদে গিয়ে জামাতে আদায় করা মাকরুহে তাহরিমি।
(আল বাহরুর রায়েক : ১/৬২৭-৬২৮, আদ্দুররুল মুখতার : ১/৩৮০)

Collect

পঠিত : ১২৪ বার

ads

মন্তব্য: ০