Alapon

মাওলানা মামুনুল হকের ঘটনা এবং আমার কিছু ভাবনা...



আজকের ঘটনার সবচাইতে সিগনিফিক্যান্ট দিক হলো, মামুনুল হক আক্রান্ত - এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর, হেফাজতের লোকজন রাস্তায় নেমে এসেছে, পুলিশের "হেফাজত" থেকে ছিনিয়ে নিজেদের নেতাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এসেছে। যদি, তারা নেমে না আসতো, তবে, মামুনুল হককে হয়তো আইনের ধারা কতো প্যাঁচানো, তা দেখতে হতো। জয় সংগ্রামী জনতার জয়!

সিগনিফিক্যান্ট, একারণে যে, দেশে একটি মৌলিক পরিবর্তন ঘটে গেছে। বায়তুল মোকাররমে সেদিন কোনো কর্মসূচী ছিল না, কিন্তু পরিকল্পিতভাবে পুলিশ ও লীগের যৌথ হামলায় মোদিকে খুশি করতে গিয়ে, খোঁচা দিতে গিয়ে ঘাঁ হয়ে গেছে; চিটাগাং এ প্রথমে এবং তার ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে।

শক্তি প্রয়োগেও, প্রাণ সংহার করেও সেই প্রতিরোধ টলানো যায় নাই। এমন কি রাজধনীর রাজপথে "জাকাত-ফেতরা খাওয়া" হুজুররা ছাত্রলীগ-যুবলীগকে ঐতিহাসিক পল্টন এলাকায় উপর্যুপরি ধাওয়া দিয়েছে।

এই যে, বুড়োরা বসে মিটিং করে কর্মসূচী দিবে, সেই অনুসারে সভা সমাবেশ হবে, সেটা আসলে স্বাভাবিক নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথ। তবে, স্বৈরাচার বা ফ্যাসিস্টদেরকে উৎখাত করতে হলে, এই দ্বিতীয় ধাপে উত্তরণ না হলে আশা নাই।

সেদিনের হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হরতালের রাজধানী হয়ে আজকের সোনার গাঁ - স্বতঃস্ফূর্ত জনতার স্রোত অনেক বড় প্যারাডাইম শিফট।

কোনো দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এটি হয়ত আগেই বুঝে গেছে। আজ রিকনফার্ম হয়েছে। কিন্তু এদেশে রাজনীতির মাঠে যে স্টেক হোল্ডাররা আছে, তারা কি এটা রিড করতে পারছে?

এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ; একারণে গুরুত্বপূর্ণ যে, হেফাজত রাজনৈতিক সংগঠন নয়, রাজনৈতিক সংগঠন হয়ে ওঠাও এদের পক্ষে সম্ভব নয়। হেফাজত মাঠ গরম করতে পারবে, পরিস্থিতি চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবে, কিন্তু ডিসাইসিভ হাতুরি ঠোকাটা কোনো রাজনৈতিক শক্তিকেই করতে হবে।

অবস্থা অনেকটা এরকম যে, যেনো দেশে এখন কোনো রাজনৈতিক দল নাই। ফলে, এমন হতে পারে, অনেক মূল্য দিয়ে, কাল ক্ষেপন হয়ে, সরকার পতন হলো, এবং এর মধ্যে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উন্মেষ হলো। যদি তা না ঘটে, তবে হয়ত, খেলাফত মজলিশ প্রাধান্য নিয়ে সরকার গঠন করলো। কিন্তু, তারা দেড় মাসও সরকার চালাতে পারবে না। ঘুরে ফিরে বলটি গড়িয়ে বিএনপির দিকে যেতে চাইবে।

এখন বিএনপির জন্যে প্রয়োজন ছিল, তারা সরকার গঠন ও দেশ পরিচালনায় প্রস্তুত - এই সিগনাল ছড়ানো। কিন্তু, তারা তা করছে না। বিএনপি এখন বড় রাস্তার সিগনালের ভিক্ষুকের মতো, নিজেদের ল্যাংড়া লুলা অবস্থা দেখিয়ে সহানুভুতি চায়। যারা এদেশের মানুষ, তারা সবাই জানে, বিএনপি কী অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে; জখম দেখিয়ে সহানুভুতি কুড়ানোর কিছু নাই।

মানুষ যেমন তেলা মাথায় তেল দেয়, এদেশে ভোটের আগে মাগনা চা খেয়ে জিজ্ঞেস করে, কে যাইবো! কে যোগ্য - এটা কিন্তু জিজ্ঞেস করে না। তেমনি, রাজনীতিতে করুণা করে কাউকে সমর্থন করে না; এই খেলায় যে জিতে, সে-ই আলেকজান্ডার। কাজেই, জখম দেখিয়ে সহানুভুতি কুড়ানোর চেষ্টা নয়, এখন বিএনপির জন্যে প্রয়োজন, তারা সরকার গঠন ও দেশ পরিচালনায় প্রস্তুত - এই সিগনাল ছড়ানো।

দেখুন, এই যে হেফাজতের ছেলেরা, যাদেরকে পরিহাস করার বেলায় বিএনপিও অন্য কারো চেয়ে কম যায় না, তারা যে এক সপ্তাহের মধ্যে বিশজন মরে গিয়ে হলেও প্রতিরোধ টিকিয়ে রাখলো, বিএনপি কি এতোটা দেখাতে পেরেছে? পারে নাই। তারা দিনে দিনে একজন দুই জন করে মরেছে। মরতে মরতে সংখ্যাটি অনেক বেশী হয়েছে বটে, কিন্তু প্রতিরোধে রুখে দাঁড়ায় নাই।

আমি চ্যালেঞ্জ করলাম, হেফাজতের লাশের দামতো খুবই সস্তা, এতেই দেশে এতো বড় পরিবর্তন; বিএনপি যদি রুখে দাঁড়াতো, এক সপ্তাহে বিশটি লাশ পড়তো, তাহলে, তারপরে আর লাশ পড়া লাগতো না, সপ্তাহ তিন চারেকের মধ্যে সরকার পতন হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় বসে যেতো।

অবশ্য, একদিক দিয়ে হয়ত ভালোই হচ্ছে, বিএনপি এখন ভিকটিম, সেটা ঠিক আছে, তবে এই অবস্থায় তারা যে ব্যার্থতার পরিচয় দিচ্ছে, সেটাও জনগণের দেখা হয়ে যাচ্ছে।

এখন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে, হেফাজতের নেতৃত্ব ব্যার্থ হলেও, তাদের মূল যে ভিত্তি, ছাত্রসমাজ (অভিধান বলবে তালেবান) - তারা কিন্তু স্পন্দিত, তারা ঘৃণা সয়ে সয়ে কামারশালায় পেটানো লোহা হয়ে গেছে। শাহ্‌বাগীদের দফা রফা না করে এরা দমবে না।

আজ সোনারগাঁয়ে যা ঘটেছে, তা কী বলা যায়? বায়োস্কোপের মতো বলতে হয়, কী চমৎকার দেখা গেলো! সাংবাদিক পরিচয়ধারী টানবাজারে জন্ম বেশ্যার বাচ্চা কয়েকটি মিলে একজন মানুষকে এইভাবে হয়রানি করে, আবার সেটা লাইভ করেছে। কতোটা অর্কেস্ট্রেইটেড এই নাটক, টিভিতে প্রচার হয়ে গেছে - "মামুনুল হক আটক"! আবার বলা যায়, লাইভ করে, টিভিতে আটকের খবর প্রচার করে, তারা মামুনুল হকের উপকার করেছে। এসব না করলেতো জনতা রাস্তায় নামার অবস্থা তৈরী হতো না। মামুনুল হক আটক থেকে গ্রেফতার হয়ে কোর্টে চালান হয়েই যেতো।

অনেক কনসেন্ট মারানীকেও দেখছি, বৈধ স্ত্রী কি না, এই প্রশ্ন করছে! সেই ফালতু আলাপে অংশ নেয়াও অনুচিত। রিসোর্টে কী হয়, কতোটা হয়, সেটা এইসব মোর‍্যাল পুলিশরা জানেনা? একজন মামুনুল হক কাকে নিয়ে রিসোর্টে গেছে, এই প্রশ্ন উঠলো কেনো? উঠেছে রাজনৈতিক কারণে; কাজেই এর জবাব রাজনৈতিকভাবেই হওয়ার কথা।

জনতা রাস্তায় নেমে এসেছে, তাদের নেতাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এসেছে, জনতাকে অভিবাদন। পলিটিক্সে ক্ষমতা দেখাতে এবং জায়গা বুঝে প্রয়োগ করতে হয়। আমি অবশ্য প্রজেক্টের কাজে এভরি লিটল ডিটেইলকে গুরুত্ব দিতে চাই। টানবাজারে জন্ম যে বেশ্যার বাচ্চাগুলো, আলেম সমাজের একজনের সাথে ঐ রকম আচরণ করলো, তাদেরকে স্পটে কি "ভইরা দেওয়া" হয়েছে? দেয়া দরকার ছিল। স্থানীয় হেফাজতিদের উচিৎ হবে, ভিডিওটিতে যাদেরকে কুত্তার মতো ঘেউ ঘেউ করতে দেখা গেছে, খুঁজে খুঁজে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরিচয় প্রকাশ করা। তারা সবচেয়ে নীচু লেভেলের ভাড়াখাটা গোলাম হতে পারে, কিন্তু ছাড় দেয়া উচিৎ হবে না।

শবমেহের, মাফ করিস বোন, টানবাজারের বেশ্যা গালি দিচ্ছি ক্ষোভ থেকে; কোনো পেশাজীবীকে অশ্রদ্ধা করতে চাই না।

মামুনুল হক সোনারগাঁয়ে জুলুমের শিকার হয়েছে, তাকে সহানুভুতি জানানো ঠিক আছে। হেফাজতের একজন হিসেবে সে টার্গেটেড ভিকটিম হয়েছে, এজন্যে হেফাজত তাকে মুক্ত করে নিয়ে এসেছে, এটাও ঠিক আছে।

কিন্তু, মামুন "রিসোর্টে" যায় কেনো? এ তার কেমন রুচি? কওমিদের মধ্যে আমি সবচাইতে সন্দেহের চোখে দেখি, "আহলে মুহতামিম"দেরকে। এই মামুনের কথাই ধরুন, "ছাহেবজাদা" পরিচয় না থাকলে, এই মামুনকে কওমি জগতে কেউ চিনতোই না। নিজের যোগ্যতায় সে হেফাজতে পদ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। যাক সে আলাপ আজ লম্বা করতে চাই না।

তবে, আগেও বলেছি, আজ আবার বলি, ফয়জুল্লারা খারাপ ছিল, হেফাজতের ক্ষতি করেছে, কিন্তু, মামুন আরো বড় ক্ষতির কারণ হবে। বলদ দিয়ে হালচাষ হয় না। এখন বারিধারার হজরতও নেই, ঢাকায় বিজ্ঞ ও ওজনদার কেউ দায়িত্ব না নিলে কীভাবে হয়? তাকে অব্যাহতি দিয়ে, হেফাজতের নিজেদেরকে হেফাজত করা ভীষণ জরুরী। রিসোর্টে গিয়ে ভেজাল বাঁধানোর মতো বেয়াক্কেল কোনো আলেম হতে পারে?

সামনে সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকেই যার যার রোল প্লে করতে হবে। যতো ভুল হবে, মূল্য ততো বেশী দিতে হবে।

- আজকের ঘটনার সবচাইতে সিগনিফিক্যান্ট দিক হলো, মামুনুল হক আক্রান্ত - এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর, হেফাজতের লোকজন রাস্তায় নেমে এসেছে, পুলিশের "হেফাজত" থেকে ছিনিয়ে নিজেদের নেতাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এসেছে। যদি, তারা নেমে না আসতো, তবে, মামুনুল হককে হয়তো আইনের ধারা কতো প্যাঁচানো, তা দেখতে হতো। জয় সংগ্রামী জনতার জয়!

সিগনিফিক্যান্ট, একারণে যে, দেশে একটি মৌলিক পরিবর্তন ঘটে গেছে। বায়তুল মোকাররমে সেদিন কোনো কর্মসূচী ছিল না, কিন্তু পরিকল্পিতভাবে পুলিশ ও লীগের যৌথ হামলায় মোদিকে খুশি করতে গিয়ে, খোঁচা দিতে গিয়ে ঘাঁ হয়ে গেছে; চিটাগাং এ প্রথমে এবং তার ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে।

শক্তি প্রয়োগেও, প্রাণ সংহার করেও সেই প্রতিরোধ টলানো যায় নাই। এমন কি রাজধনীর রাজপথে "জাকাত-ফেতরা খাওয়া" হুজুররা ছাত্রলীগ-যুবলীগকে ঐতিহাসিক পল্টন এলাকায় উপর্যুপরি ধাওয়া দিয়েছে।

এই যে, বুড়োরা বসে মিটিং করে কর্মসূচী দিবে, সেই অনুসারে সভা সমাবেশ হবে, সেটা আসলে স্বাভাবিক নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথ। তবে, স্বৈরাচার বা ফ্যাসিস্টদেরকে উৎখাত করতে হলে, এই দ্বিতীয় ধাপে উত্তরণ না হলে আশা নাই।

সেদিনের হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হরতালের রাজধানী হয়ে আজকের সোনার গাঁ - স্বতঃস্ফূর্ত জনতার স্রোত অনেক বড় প্যারাডাইম শিফট।

কোনো দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এটি হয়ত আগেই বুঝে গেছে। আজ রিকনফার্ম হয়েছে। কিন্তু এদেশে রাজনীতির মাঠে যে স্টেক হোল্ডাররা আছে, তারা কি এটা রিড করতে পারছে?

এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ; একারণে গুরুত্বপূর্ণ যে, হেফাজত রাজনৈতিক সংগঠন নয়, রাজনৈতিক সংগঠন হয়ে ওঠাও এদের পক্ষে সম্ভব নয়। হেফাজত মাঠ গরম করতে পারবে, পরিস্থিতি চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবে, কিন্তু ডিসাইসিভ হাতুরি ঠোকাটা কোনো রাজনৈতিক শক্তিকেই করতে হবে।

অবস্থা অনেকটা এরকম যে, যেনো দেশে এখন কোনো রাজনৈতিক দল নাই। ফলে, এমন হতে পারে, অনেক মূল্য দিয়ে, কাল ক্ষেপন হয়ে, সরকার পতন হলো, এবং এর মধ্যে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উন্মেষ হলো। যদি তা না ঘটে, তবে হয়ত, খেলাফত মজলিশ প্রাধান্য নিয়ে সরকার গঠন করলো। কিন্তু, তারা দেড় মাসও সরকার চালাতে পারবে না। ঘুরে ফিরে বলটি গড়িয়ে বিএনপির দিকে যেতে চাইবে।

এখন বিএনপির জন্যে প্রয়োজন ছিল, তারা সরকার গঠন ও দেশ পরিচালনায় প্রস্তুত - এই সিগনাল ছড়ানো। কিন্তু, তারা তা করছে না। বিএনপি এখন বড় রাস্তার সিগনালের ভিক্ষুকের মতো, নিজেদের ল্যাংড়া লুলা অবস্থা দেখিয়ে সহানুভুতি চায়। যারা এদেশের মানুষ, তারা সবাই জানে, বিএনপি কী অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে; জখম দেখিয়ে সহানুভুতি কুড়ানোর কিছু নাই।

মানুষ যেমন তেলা মাথায় তেল দেয়, এদেশে ভোটের আগে মাগনা চা খেয়ে জিজ্ঞেস করে, কে যাইবো! কে যোগ্য - এটা কিন্তু জিজ্ঞেস করে না। তেমনি, রাজনীতিতে করুণা করে কাউকে সমর্থন করে না; এই খেলায় যে জিতে, সে-ই আলেকজান্ডার। কাজেই, জখম দেখিয়ে সহানুভুতি কুড়ানোর চেষ্টা নয়, এখন বিএনপির জন্যে প্রয়োজন, তারা সরকার গঠন ও দেশ পরিচালনায় প্রস্তুত - এই সিগনাল ছড়ানো।

দেখুন, এই যে হেফাজতের ছেলেরা, যাদেরকে পরিহাস করার বেলায় বিএনপিও অন্য কারো চেয়ে কম যায় না, তারা যে এক সপ্তাহের মধ্যে বিশজন মরে গিয়ে হলেও প্রতিরোধ টিকিয়ে রাখলো, বিএনপি কি এতোটা দেখাতে পেরেছে? পারে নাই। তারা দিনে দিনে একজন দুই জন করে মরেছে। মরতে মরতে সংখ্যাটি অনেক বেশী হয়েছে বটে, কিন্তু প্রতিরোধে রুখে দাঁড়ায় নাই।

আমি চ্যালেঞ্জ করলাম, হেফাজতের লাশের দামতো খুবই সস্তা, এতেই দেশে এতো বড় পরিবর্তন; বিএনপি যদি রুখে দাঁড়াতো, এক সপ্তাহে বিশটি লাশ পড়তো, তাহলে, তারপরে আর লাশ পড়া লাগতো না, সপ্তাহ তিন চারেকের মধ্যে সরকার পতন হয়ে বিএনপি ক্ষমতায় বসে যেতো।

অবশ্য, একদিক দিয়ে হয়ত ভালোই হচ্ছে, বিএনপি এখন ভিকটিম, সেটা ঠিক আছে, তবে এই অবস্থায় তারা যে ব্যার্থতার পরিচয় দিচ্ছে, সেটাও জনগণের দেখা হয়ে যাচ্ছে।

এখন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে, হেফাজতের নেতৃত্ব ব্যার্থ হলেও, তাদের মূল যে ভিত্তি, ছাত্রসমাজ (অভিধান বলবে তালেবান) - তারা কিন্তু স্পন্দিত, তারা ঘৃণা সয়ে সয়ে কামারশালায় পেটানো লোহা হয়ে গেছে। শাহ্‌বাগীদের দফা রফা না করে এরা দমবে না।

আজ সোনারগাঁয়ে যা ঘটেছে, তা কী বলা যায়? বায়োস্কোপের মতো বলতে হয়, কী চমৎকার দেখা গেলো! সাংবাদিক পরিচয়ধারী টানবাজারে জন্ম বেশ্যার বাচ্চা কয়েকটি মিলে একজন মানুষকে এইভাবে হয়রানি করে, আবার সেটা লাইভ করেছে। কতোটা অর্কেস্ট্রেইটেড এই নাটক, টিভিতে প্রচার হয়ে গেছে - "মামুনুল হক আটক"! আবার বলা যায়, লাইভ করে, টিভিতে আটকের খবর প্রচার করে, তারা মামুনুল হকের উপকার করেছে। এসব না করলেতো জনতা রাস্তায় নামার অবস্থা তৈরী হতো না। মামুনুল হক আটক থেকে গ্রেফতার হয়ে কোর্টে চালান হয়েই যেতো।

অনেক কনসেন্ট মারানীকেও দেখছি, বৈধ স্ত্রী কি না, এই প্রশ্ন করছে! সেই ফালতু আলাপে অংশ নেয়াও অনুচিত। রিসোর্টে কী হয়, কতোটা হয়, সেটা এইসব মোর‍্যাল পুলিশরা জানেনা? একজন মামুনুল হক কাকে নিয়ে রিসোর্টে গেছে, এই প্রশ্ন উঠলো কেনো? উঠেছে রাজনৈতিক কারণে; কাজেই এর জবাব রাজনৈতিকভাবেই হওয়ার কথা।

জনতা রাস্তায় নেমে এসেছে, তাদের নেতাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এসেছে, জনতাকে অভিবাদন। পলিটিক্সে ক্ষমতা দেখাতে এবং জায়গা বুঝে প্রয়োগ করতে হয়। আমি অবশ্য প্রজেক্টের কাজে এভরি লিটল ডিটেইলকে গুরুত্ব দিতে চাই। টানবাজারে জন্ম যে বেশ্যার বাচ্চাগুলো, আলেম সমাজের একজনের সাথে ঐ রকম আচরণ করলো, তাদেরকে স্পটে কি "ভইরা দেওয়া" হয়েছে? দেয়া দরকার ছিল। স্থানীয় হেফাজতিদের উচিৎ হবে, ভিডিওটিতে যাদেরকে কুত্তার মতো ঘেউ ঘেউ করতে দেখা গেছে, খুঁজে খুঁজে সেগুলোর প্রত্যেকটির পরিচয় প্রকাশ করা। তারা সবচেয়ে নীচু লেভেলের ভাড়াখাটা গোলাম হতে পারে, কিন্তু ছাড় দেয়া উচিৎ হবে না।

শবমেহের, মাফ করিস বোন, টানবাজারের বেশ্যা গালি দিচ্ছি ক্ষোভ থেকে; কোনো পেশাজীবীকে অশ্রদ্ধা করতে চাই না।

মামুনুল হক সোনারগাঁয়ে জুলুমের শিকার হয়েছে, তাকে সহানুভুতি জানানো ঠিক আছে। হেফাজতের একজন হিসেবে সে টার্গেটেড ভিকটিম হয়েছে, এজন্যে হেফাজত তাকে মুক্ত করে নিয়ে এসেছে, এটাও ঠিক আছে।

কিন্ত, মামুন "রিসোর্টে" যায় কেনো? এ তার কেমন রুচি? কওমিদের মধ্যে আমি সবচাইতে সন্দেহের চোখে দেখি, "আহলে মুহতামিম"দেরকে। এই মামুনের কথাই ধরুন, "ছাহেবজাদা" পরিচয় না থাকলে, এই মামুনকে কওমি জগতে কেউ চিনতোই না। নিজের যোগ্যতায় সে হেফাজতে পদ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। যাক সে আলাপ আজ লম্বা করতে চাই না।

তবে, আগেও বলেছি, আজ আবার বলি, ফয়জুল্লারা খারাপ ছিল, হেফাজতের ক্ষতি করেছে, কিন্তু, মামুন আরো বড় ক্ষতির কারণ হবে। বলদ দিয়ে হালচাষ হয় না। এখন বারিধারার হজরতও নেই, ঢাকায় বিজ্ঞ ও ওজনদার কেউ দায়িত্ব না নিলে কীভাবে হয়? তাকে অব্যাহতি দিয়ে, হেফাজতের নিজেদেরকে হেফাজত করা ভীষণ জরুরী। রিসোর্টে গিয়ে ভেজাল বাঁধানোর মতো বেয়াক্কেল কোনো আলেম হতে পারে?

সামনে সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকেই যার যার রোল প্লে করতে হবে। যতো ভুল হবে, মূল্য ততো বেশী দিতে হবে।

- মুনতাকিম চৌধুরী

পঠিত : ১৪০ বার

ads

মন্তব্য: ০