Alapon

হেফাজতের ইসলামের অরাজনৈতিক রাজনীতি...



হেফাজতের শরীরে, মননে, চিন্ত্‌ চেতনায়, বেশভূষায় যতদিন ইসলামের 'ই' আছে ততদিন তারা আওয়ামী,লীগের-ভারতের-শাহবাগের-বাম দলগুলোর শত্রু। কিন্তু হেফাজত ভাবে কেবল বিএনপি-জামায়াত তাদের শত্রু, রিতিমতন বয়ান করে আওয়ামী সরকারের সাথে একই সুরে তারা তাল মিলায়। আর এখানেই হেফাজতের রাজনৈতিক অপরিপক্কতা।

হেফাজত ভাবে তারা অরাজনৈতিক দল, কিন্তু তারা বুঝেনা তাদের আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কারনেই ব্যবহার করে। তাদের ব্যবহার করেই আওয়ামী লীগ দেশের মুসলমানদের একাংশকে ঠাণ্ডা রেখেছে, আরেক অংশকে কবরে পাঠিয়েছে, আর শেষ অংশকে দৌড়ের উপর রেখেছে। দেশে ফ্যাসিস্ট ক্ষমতার অন্যতম শক্ত বাহু হেফাজত। মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশে নামে তাহাজ্জুতি, দেখতে পর্দানশিন কিন্তু কামে অত্যাচারী ফ্যাসিস্ট হওয়ার মোরাল হাই গ্রাউন্ড এই কওয়ামিদের হতেই পেয়েছে আওয়ামী লীগ।

ইচ্ছা করলে কি হাসিনা পারেন না জামায়াতের মতন হেফাজতকে কবরে পাঠিয়ে দিতে? অবশ্যই পারেন, এবং যে কোন সময়েই তা করতে পারেন, যেমন পেরেছেন বিএনপির মাজা ভাংতে, কিন্তু হেফাজত এর প্রসঙ্গটা ভিন্ন, দেশের সাধারন মানুষের চোখে সরকারের ধর্মীয় লেজিটামেসি ধরে রাখার চাল মাত্র। পূর্ব বাংলা তথা বাংলাদেশ সেই ৪০০ বছর ধরেই মুসলমানদের শক্ত ঘাটি, এখানে আতাতুর্ক স্টাইলে এন্টাই ইসলাম সেক্যুলারিজম হুট করে আনতে গেলে বুমেরাং হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বিধায় আওয়ামী লীগ হেফাজতকে কিছু দিয়ে থুয়ে হাতে রেখে, নিজেদের তাহাজ্জুতি প্রমান করে, ওদিকে শক্ত হাতে ফ্যাসিস্ট ছড়ি ঘুরায়। আর হেফাজতও কিছু পেয়ে কওয়ামি মাতার আচলের তল থেকে কিছুদিন পরপর নিজেদের অল্প বিস্তর দাবিদাওয়া পেশ করে। জয় বঙ্গবন্ধু, জয় বাংলার গান গায়।

আই ডেয়ার হেফাজত আজ নিজেদের আওয়ামী বিরোধী কাম ভারত বিরোধী দাবিদাওয়া পেশ করুক দেখবেন কাল হেফাজতের কি অবস্থা করে আওয়ামী সরকার। হেফাজতের সামান্য মোদী আগমনের বিরোধিতায় সরকার ১৯টি লাশ ফেলে দিয়েছে, মামুনুল হক কে নারী ঘটিত কেলেঙ্কারিতে ফেলতে চেয়েছে; সেখানে ভারত বিরোধী দাবী করলে সরকার একে একে হেফাজতের মাদ্রাসা সমুহ বন্ধ করে দিয়ে তাদের পথে বসাবে। আর উপরের বড় বড় আলেমদের হয় জেলে ঢুকাবে না হয় দেশ ছাড়া করবে।

অনেক আগেই সেই ১৯৭৫ সালে, শেখ মুজিব হত্যার পর ভারত খন্দকার মোশতাককে জানিয়েছিল যতদিন বাংলাদেশ ইসলামী প্রজাতন্ত্র না হবে ততদিন ভারত বাংলাদেশ আক্রমণ করবে না। আর এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনা ভারতকে যতই আশ্বাস দিক না কেনো ভারত বাংলাদেশকে পটেনশিয়াল ইসলামিক প্রজাতন্ত্র কাম জঙ্গি দেশ হিসাবেই দেখে। ভারতকে চারিদিক থেকে যদি শত্রু দেশ দারা পরিবেষ্টিত হয়ে যায় তাহলে তাদের ডিফেন্সে প্রচুর অর্থ ব্যায় করতে হবে, যান মাল ঢালতে হবে, তাই পূর্ব সিমান্ত শত্রু মুক্ত রাখা তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু কথা হলো ইসলাম তথা মুসলমানকে তারা নিজেদের গায়ের জোরে শত্রু বানিয়ে রেখেছে। একদিকে শত্রু বানাবে, অপরদিকে শত্রু মুক্ত রাখতে চাইবে, তাহলে তাদের করনীয় একটিই কাজ তা হোল শত্রু নিধন। অর্থাৎ, মাথা নাই, তাই মাথাব্যাথাও নাই। আর সেটাই ভারতের তাদের সীমান্তবর্তী দেশগুলোর সাথের ফরেইন পলিসি।

আমরা যারা সাধারন মুসলমান, অল্প বিস্তর ইসলামের ইতিহাস জানি, এদিকে সেক্যুলার ধরন বুঝি, রাজনীতি নিয়ে বিশ্লেষণ করি তাদের অনেকের কাছে হেফাজতের অনেক কর্ম আছে যা দেখে মনে হয় হেফাজত ইসলামকে ধারণ করলেও অনেক ব্যাপারে পুজিবাদি আচরন করে; এই যেমন রিসেন্টলি তারা ১৯ প্রানের প্রতিকারে ৫০ কোটি টাকা দাবী করন, কিংবা রেলওয়ের জমিগ্রহন ইত্যাদি। কিন্তু যেহেতু তারা দেশে ইসলামের র হেফাজতকারি, তাই তাদের থেকে আমাদের চাওয়া ভিন্ন , আমরা তাদের নবীজি (সাঃ) এর দর্শনের পতাকা তলের নিঃস্বার্থ পথিক হিসাবেই দেখতে চাই। যেখানে তাদের কোনরূপেই শয়তানের সাথে কোনরকম আপোষের ভুমিকা থাকা মানে তারা শয়তানের দোষর। তারা নিজেদের স্বার্থে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাথে একই মঞ্চে বসা মানে তারা ফ্যাসিস্ট এর সহযোগী।

আচ্ছা হেফাজত কি হিসাব করে দেখেছে তাদের ডিগ্রী আওয়ামী সরকার মাস্টার্স ইকুইভ্যালেন্ট মর্যাদা দেয়ার পর কতজন ডিগ্রিধারী হেফাজতি সরকারী চাকুরি পেয়েছে? কতজন বিসিএস পরিক্ষা‍য় অংশগ্রহন করেছে। কতজন উত্তীর্ণ হয়েছে, ভাইবার গন্ডি পাড়ি দিতে পেরে বিসিএস ক্যাডার হয়েছে? এই হিসাবটা তলিয়ে দেখা তাদের জন্য খুব জরুরি, তাহলেই তারা বুঝতে পারবে তার কি আসলেই আওয়ামী লীগের স্বীকৃতি পেয়েছে নাকি তাদের শুভঙ্করের ফাকি দেয়া হয়েছে। সরকারী এই সনদে তাদের এতদিন কি কি লাভ হয়েছে , আগের চাইতে তারা কোন কোন ব্যাপারে ভালো আছে, দেশে তাদের কোন কোন অবস্থানের উন্নতি হয়েছে, বিদেশে কি কি সুবিধা পেয়েছে সে সবের হিসাব কিন্তু তাদের নিজেদের জন্যই অত্যন্ত জরুরি। আশা করছি এই জরুরী কাজটি হেফাজত অচিরেই করবে।

হেফাজত অরাজনৈতিক হলে অরাজনৈতিক থাকুক, রাজনৈতিক কোন সরকার, দল, কার্যক্রম, আর বক্তব্য থেকে দূরে থাকুক। রাজনৈতিক কোন নেতা বা কর্মকাণ্ড নিয়ে বক্তব্য না দিক, কারো বিরোধিতা না করুক, কারো সাথে সহমতও পোষণ না করুক। অরাজনৈতিক থাকা মানে এই নয় যে তারা শেখ মুজিবের গুনগান গাইবে, আর জামায়াতের বিরোধিতা করবে। যেই মুহূর্তে তারা একাজ করলো সেই মুহূর্তে তারা রাজনীতিতে জড়িয়ে গেলো। এই সুক্ষ্ম বুঝটা তাদের মাঝে আসা জরুরী।

এবার আসি হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক সাহেবের সাথে গতকাল সোনারগাঁয়ের একটি তিন তারকা হোটেল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক টেলিভিশানের সাক্ষাৎকার, চ্যানেল ৭১ এর উস্কানি মুলক বিভ্রান্তিকর খবর, স্থানীয় যুবলীগ ছাত্রলীগের গুন্ডাগিরির ব্যাপারে।

একজন মানুষ তার বিবি বাচ্চা সহ টুরিস্ট এলাকাগুলতে বেড়াতে জেতেই পারেন। তিনি একজন আলেম হয়ে কোন নিষিদ্ধ পল্লীতে যান নাই যে ওনাকে এভাবে হেনেস্থা করতে হবে। যেভাবে ওনাকে বসতে বলা হয়েছে বা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছে তার ভিডিও প্রমান না থাকলে সরকারী পক্ষ মানুষের মধ্যে অনেক ডাউট প্রবেশ করাতে পারত। আল্লাহর শোকর যে সেই ডাউট তৈরি হয় নাই। যারা প্রশ্ন করছে যে উনি ১৯ টি তাজাপ্রানের রক্ত হাতে নিয়ে কিভাবে বউ নিয়ে এমন সময় ঘুরতে বের হলেন, আমি সেই বিষয়ে শুধু এটুকুই বলব, উনি নিজ স্ত্রীকে নিয়ে ২-১ দিনের জন্য ঘুরতে জেতেই পারেন, আমরাও যখন কাজ করতে করতে হাপিয়ে উঠি আমরা কাজে ব্রেক নেই ঘুরতে যাই। রিফ্রেশ হয়ে পূর্ণ উদ্যমে ফের কাজে ঝাপিয়ে পড়ি। আমরা মানুষ, মেশিন নই, যে এক কাজে দম লাগিয়ে চালায় দিলে চলতেই থাকি যতক্ষণ না প্রান না যায়। বরং সেই ধরনের চিন্তাভাবনা আমার কাছে সুইসাইডাল লাগে। কারন সেই প্রেক্ষিতে মানুষ টায়ার্ড হয়ে ভুলভাল ডিসিশান নেয়।

নিজ স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া আফ্রিকার জঙ্গলের আইনেও কোন দণ্ডিত অবরাধ বা সামাজিক অপরাধ নয়। কিন্তু বাংলাদেশে সবই সম্ভব। এখানে যারা পরকিয়ায় লিপ্ত, ধর্ষণে সেঞ্চুরি করে, খুন করে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পায়, তারাই একজন নামী আলেমকে নিজ বিবাহিত স্ত্রী নিয়ে ঘোরাঘুরির সময় অশ্লীল ইঙ্গিত দিয়ে বাক্যবানে জর্জরিত করতে। এর পুরাটাই রাজনীতি । বাংলাদেশের রাজনীতি কেবল নোংরা নয়, অত্যন্ত নিম্ন মানের নোংরা, যেই নোংরামির হাতিয়ার দেশের প্রশাসন, সংবাদ মাধ্যম, আর সুশীল সমাজ,।

মামুনুল হক গতকাল রাতে সেই নোংরা রাজনীতির একজন বলির পাঠা মাত্র। হেফাজত যতই আওয়ামী লীগের কোলে বসে নিজেদের বাচিয়ে রাখতে থাকতে চাক না কেনো তারা চিরকাল আওয়ামী লীগের ধর্মীয় রাজনীতির দাবার গুটি ছাড়া আর কিছুই না। হেফাজতের নীতি নির্ধারকদের হেফাজতের নিজেদের স্বার্থে আর দেশের স্বার্থে এই বোধোদয়টা হওয়া খুব জরুরী।

- Sabina Ahmed

পঠিত : ১৮৭ বার

ads

মন্তব্য: ০