Alapon

নির্জীব অন্তর, প্রাণহীন ইবাদত...



এমন অনেক মুসলমান আপনার চারপাশে দেখতে পাবেন – যারা অযথা বিতর্কের মধ্যে ডুবে আছে, যাদের মন কলুষিত এবং যারা ইবাদত পালন করার ক্ষেত্রেও ততটা আগ্রহী নয়। অথচ তারা ঠিকই নিজেদের মুসলিম দাবি করে। তারা ফরজ ইবাদাতগুলো পালন করার মধ্যেও অলসতা দেখায়, কিন্তু জনসম্মুখে অবশ্য তারা ঠিকই লোক দেখানো ইবাদাত করার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের এই চল-চাতুরী ঠিকই ধরা পড়ে। কারণ, তাদের আচরণ ও কার্যাবলী উন্নত নৈতিকতা ও দৃঢ় ঈমানের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘাতিক।


এই ধরনের ব্যক্তিদের ব্যাপারে প্রিয়নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন এবং উম্মতকেও এ ধরনের ব্যক্তিদের থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যে ব্যক্তি ইবাদাতের তাৎপর্য অনুধাবন না করেই ইবাদত করে যান, তিনি আসলে ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে ভুল করেন এবং এভাবে নিয়মিত ভুল করে গেলে সে ব্যক্তির পক্ষে কখনো কাঙ্ক্ষিত মানে উন্নতি হওয়া সম্ভব নয়। অনেক সময় ছোটো বাচ্চারাও বুড়োদের সালাত আদায় দেখতে দেখতে কিংবা তিলাওয়াত শুনতে শুনতে সালাত আদায় করা শিখে যায়। অনেক সময় ইবাদাতের ক্ষেত্রে অভিনেতারাও খুবই আন্তরিকতার সাথে সালাত আমি আদায় করেন। কিন্তু বাচ্চাদের সেই সালাত বা অভিনেতাদের অভিনয়ের জন্য আদায় করা সালাত দিয়ে কখনোই সালাতের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হতে পারে না। একটি মাত্র উপায়ে সালাত পড়লে বা ইবাদাত পালন করলেই কেবল প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হবে– যদি ইবাদাতকারী উৎকৃষ্ট নৈতিকতা ধারণ করতে পারেন। যার নৈতিকতা উন্নত হবে, তার ইবাদাতও উপকারে আসবে। কিন্তু কারও নৈতিকতা যদি দুর্বলতা থাকে, তাহলে তার ইবাদাতও কোনো কাজে আসবে না।


ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত –

'একজন ব্যক্তি একবার রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে প্রশ্ন করল–''হে আল্লাহর নবি, একজন মহিলা আছেন যিনি তার ইবাদতের মাধ্যমে বিশেষত সালাত ও সিয়াম সুন্দরভাবে আদায় করে অনেক সুনাম অর্জন করেছেন। কিন্তু তার একটাই দোষ। তিনি প্রতিবেশীদের সাথে খুব রুক্ষভাবে কথা বলেন। আমাদের দয়াকরে বলুন যে, তার পরিণতি কী হবে?" রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি বললেন, "এই মহিলা যতই ইবাদাত করুক না কেন, সে জাহান্নামে যাবে। "'


প্রশ্নকারী ব্যক্তি আবার প্রশ্ন করল–"কিন্তু হে আল্লাহর রাসূল, আরেকজন নারী আছেন, যিনি ততটা ইবাদাত করেন না। তবে তিনি নিয়মিতভাবে পানির বা মাখন দান করেন। তিনি প্রতিবেশীদেরও ক্ষতি করেন না। " আল্লাহর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "নিশ্চয়ই তিনি জান্নাতে যাবেন।"' মুসনাদে আহমদ : ৯৬৭৫


রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি এ উত্তরগুলো উত্তম চরিত্রের গুরুত্বকেই নির্দেশ করে। এতে আরও বুঝা যায় যে, দান ও সাদাকা হলো এক ধরণের সামষ্টিক ইবাদত, যার উপকারে কোন ব্যক্তি নয় ; বরং গোটা সমাজ ভোগ করে। তাই উত্তম চরিত্র ও দান-সাদাকাকে ছোট করে দেখার কোন অবকাশ নেই। সালাত বা সিয়াম হলো একান্তভাবে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সাথে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইবাদাত। কিন্তু সাদাকা সমাজ কাঠামোতে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।

পঠিত : ৫৮ বার

ads

মন্তব্য: ০