Alapon

স্বাধীনতা ও ইসলাম

১৯৭১ সালের ২৬ই মার্চ।বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মাঝে শুরু হয় এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ।দীর্ধ নয়মাস যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।বাংলাদেশীরা বিজয় লাভ করে প্রায় ৩০লক্ষ শহিদের প্রাণের বিনিময়ে।কিসের জন্য এই লড়াই শুরু হয়েছিল?,কেনো এতগুলো মানুষ তাদের জীবনকে বিলিয়ে দিলো?
আমরা সবাই জানি এসকল প্রশ্নে উত্তর হলো পাকিস্তানীদের বৈষম্যমূলক আচরণ,অত্যাচার,নির্যাতন,লুণ্ঠন ইত্যাদী।পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী এদেশের মানুষের উপর অকথ্য নির্যাতন চালায়।এদেশের মানুষদেরকে সবদিক দিয়ে বঞ্চিত করে।অর্থনৈতিক,রাজনৈতিক,সমাজনীতি,রাষ্ট্রনীতি এমনকি কথা বলার মতো স্বাধীনতাটাও বাংলাদেশের মানুষের ছিল না।
পাকিস্তানীদের অত্যাচার নির্যাতন যখন সহ্যসীমার বাইরে চলে গেলো তখন বাংলার মানুষেরা এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অবতীর্ণ হলো।নিজেদের অধীকার আদায় এবংভবিষ্যত প্রজন্মরা যেনো স্বাধীনভাবে বাচতে পারে সে লক্ষে এদেশের মানুষেরা নিজের জীবন দিতেও কুন্ঠাবোধ করে নি।এদের এই আত্নত্যাগের ফলে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।
কিন্তু
স্বাধীনতার ৫০তম বছরে এসেও প্রশ্ন থেকে যায় শহিদদের আত্নত্যাগ কি সফল হয়েছে নাকি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।মনে প্রশ্ন জাগে,যে মনোষ্কামনা নিয়ে শহিদেরা তাদের প্রিয় বস্তু জীবনকে বিলিয়ে দিলো সে মনোষ্কামনা পূর্ণ হয়েছে নাকি আগের চেয়ে আরো খারাপ অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে।
স্বাধীনতার পরেও এদেশে স্বাধীনতা ফিরে আসেনি।অত্যাচার,নির্যাতনের মাত্রা কোন অংশেই কমে নি।অবস্থা এরকম খারাপ পজিশনে পৌছে গিয়েছিল স্বাধীনতার ৩য় বছরে যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব বিক্ষোভ করেছিল সরকারের বিরুদ্ধে।তারপর ধারাবাহিকভাবে অন্যায়,অত্যাচার,শোষণ চলতে থাকে এদেশে।সরকারের অন্যায় অত্যাচার যখন সীমা অতিক্রম করেছিল ঠিক তখনি সরকারকে মৃত্যুর জগতে পাঠিয়ে দেয় এদেশের সেনাবাহিনীর একটি দল।তারপর স্বাধীন দেশে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনীরা।এভাবে সামরিক শাসন চলতে থাকে পরবর্তী ১৫ বছর যা স্বাধীন দেশে কখনো কাম্য নয়।এই ১৫ বছরে সেনাবাহিনীরা একে অপরকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে নিজেরা ক্ষমতা হাতে নেওয়ার চক্রান্ত চলে।এজন্য প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে প্রায় ৫০ বার বিদ্রোহ হয়েছিল।শেষে তাকে নিজের জীবনটা দিয়ে দিতে হয় এই ক্ষমতার জন্য।
স্বাধীনতার ২০ বছর পর থেকে শুরু হয় গণতন্ত্রের যাত্রা।বাংলাদেশের গণতন্ত্রের যাত্রার শুরুর কিছু বছর কিছুটা হলেও এদেশের মানুষ স্বাধীনতা লাভ করেছে।এদেশের জনগণ কিছুটা স্বস্থির মধ্যে ছিল।কিন্তু খুব বেশিদিন টিকে থাকেনি এরকম পরিবেশ।কিছুদিনের মধ্যেই শুরু প্রতিহিংসার রাজনীতি।
এই প্রতিহিংসার ভয়ালরুপ দেখা যায় ২৮ই অক্টোবর ২০০৬,বিরুধী দলের লোকদের উপর লগি-বইঠা নিয়ে হামলা করে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।শুধু হামলা করে ক্ষান্ত হননি তারা,তারা মানুষদেরকে হত্যা করে লাশের পাশে নৃত্য করেছে,যা হানাদার বাহিনী নামে পরিচিত পাকিস্তানীরাও করেনি।নৃসংশতার উচ্চসীমা পৌছে গিয়েছিল সেদিন।তারপর থেকে এখন পর্যন্ত শুধু এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে এই দেশে।এমনকি স্বাধীনতার পঞ্চাশতম বছরের স্বাধীনতা দিবস উৎযাপনের দিনও বাদ যায়নি নৃশংসতার কড়াল আঘাত থেকে।এই দিনে পুলিশ বাহিনীকে দেখে মনে হচ্ছিল,এ যেনো সেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।
স্বাধীনতার এই পঞ্চাশতম বছরে যদি কোন শহিদ যারা দেশের জন্য নিজের জীবন দিয়েছে তারা আসতো এবং বাংলাদেশের অবস্থা দেখতো তাহলে হয়তো সে এই বলে আপসোস করতো যে কোন স্বাধীনতার জন্য আমি আমার মুল্যবান সম্পদ জীবনকে কুরবানী করেছি।
এখন আমার প্রশ্ন থেকে যায়,স্বাধীনতার অর্ধশত বছরেও আমরা কি কোন স্বাধীনতার মুখ দেখতে পেয়েছি?
এখন আসি বাস্তবতায়,বাস্তবতা হলো রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যখন স্বার্থান্বেষীরা থাকে তখন সে রাষ্ট্রে পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে না।কারণ,ক্ষমতাসীন যখন তার স্বার্থহাসিল করার দিকে দৃষ্টি দিবে তখন কেউ না কেউ এর বিরুদ্ধে দাঁড়াবে।তখন ক্ষমতাসীনরা তার ক্ষমতা টিকে রাখার জন্য অবশ্যই তার বিরুধীদলের লোকদের কথা বলার স্বাধীনতাকে কেড়ে নিতে হবে।
এজন্য একটি রাষ্ট্র তখনি পূর্ণ স্বাধীনতা জনগণকে দিতে পারে যখন সে রাষ্ট্র কোন স্বার্থবাদীদের দ্বারা পরিচালিত হবে না।ইসলাম ধর্ম এক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযুক্ত।যদি ইসলামকে রাষ্ট্রের ক্ষমতায় আনা যায় ঠিক তখনি সে রাষ্ট্রের জনগন পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে।যার বাস্তব চিত্র দেখা যায় খলিফাদের যুগে।খলিফাদের যুগে একটি নগন্য নিম্নবিত্ত ব্যাক্তিও সরাসরি খলিফার সামনে যেকোন বিষয়ে অভিযোগ করতে পারতো এমনকি খলিফার কার্যকলাপ সম্পর্কেও।ভিন্ন ধর্মাবলম্বীও তাদের ধর্ম পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা পেতো।সর্বোপরি সবাই সমান অধিকার পেতো,ব্যাক্তি বিশেষেও কোন ভিন্নতা করা হয়নি যা আধুনিক বিশ্বে অকল্পনীয়।
এজন্য জনগণ যদি তাদের পূর্ণ অধিকার অর্জন করতে চায় তাহলে অবশ্যই রাষ্ট্রের ক্ষমতায় ইসলামকে নিয়ে আসতে হবে,এর বিকল্প কিছু নেই।
যদি ইসলাম ক্ষমতায় না আসে তাহলে পঞ্চাশ বছর কেনো আগামী একশত বছর পরও স্বাধীনতা লাভ করতে পারবে না এদেশের জনগণ।মুক্তিযোদ্ধারা যে উদ্দেশ্যে নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছে সেটা কখনো অর্জিত হবে না।বন্ধও হবে না জুলুম,অন্যায়,নির্যাতন।

পঠিত : ১১৪ বার

ads

মন্তব্য: ০