Alapon

"পুলিশের বউয়ের সাথে ইয়ো ইয়ো" ( রম্য )


আমি মানুষটা অতো সুবিধার না। সারাক্ষণ গার্লস স্কুল, পাড়ার সুন্দরী মেয়েদের পেছনে ঘুর ঘুর করতেই থাকি। আমার জ্বালায় অসংখ্য মেয়ে অতিষ্ঠ। কয়েক ডজন প্রেম করতে করতে আমিও ভীষণ অস্থির। পকেট-টকেটমারির অভ্যেস যদিও নেই, তবে অন্য একটা অভ্যেস আছে। আর সেটা হলো কে কখন নতুন মোবাইল কিনে , ল্যাপটপ কিনে সেসবে নজর রাখি সদা। কেউ একটা দামি ফোন-ল্যাপটপ কিনলেই আমি তার থেকে যেভাবেই হোক নিয়ে আসি।

তবে একদিকে আমি হেভভি ভদ্রলোক। তা হলো আমার কোনো ব্যবহৃত মালের প্রতি আকর্ষণ নেই। সে যা-ই হোক ; মোবাইল ল্যাপ্টপ কিংবা নারী। সে হিসেবে আজ অবধি পাড়ার কোনো ভাবির সাথে আমার ভাব জমে নি। পিরিতি গড়ে ওঠে নি। সে যতো-ই সুন্দরী হোক। যতোই রূপের রানী হোক —কারণ ভাবিরা অন্য পুরুষের বউ। তারা ব্যবহৃত। সে জন্য আমার রুচিতে এটা লাগে না।

কিন্তু হঠাৎ বাধলো বিপত্তি । টিভিতে একটা এড দেখলাম। পাশের বাসার ভাবির প্রতি চোখ পড়তেই এক যুবক তার চোখকে সরিয়ে জানালায় পর্দা টেনে দিয়েছে। আর এটাও নাকি উগ্র কিংবা জ'ঙিবাদের লক্ষ্মণ।

আমি পড়ছি মহা বিপত্তিতে। আমার পাশেই পুলিশ অফিসারের বাসা। আমি এতো এতো গফ নিয়ে চলি, এতো এতো অকাম করি, তবুও তেমন একটা নজরদারিতে পড়ি নি। আমার এই বিষয়টি সেই পুলিশের কাছে স্মার্টনেস। প্রগতিশীলতার লক্ষ্মণ। কিন্তু একটা প্রগতির অভাব আছে, আছে একটা জ'ঙিবাদের লক্ষ্মণ —তা হলো পাশের বাসার ভাবিকে চোখ না মারার প্রগতি। ভাবি গোসল করে আসলে ভাবির সেই কাপড়চোপড় শুকোতে দেওয়ার ভেজা শরীরে দৃশ্য জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে না দেখার প্রগতি।

এখন আমি কী করবো? পূর্ণদমে প্রগতিশীল হবার চিন্তা থেকে, জ'ঙিবাদের এই একটা লক্ষ্মণকে নিজের থেকে দূর করার ইচ্ছে থেকে আমিও পাশের বাসার ভাবিদের দিকে এখন তাকাই। ভাব বিনিময় করি। পাশেই যেহেতু পুলিশ। তাই নিজেকে পুলিশের কাছে সর্বোচ্চ প্রগতিশীল আর জ'ঙিবাদের লক্ষ্মণ বিমুক্ত প্রমাণ করতে আমি পুলিশের বউকেও এখন নিয়মিত জানালা দিয়ে দেখি।

আমার মতো নাদুসনুদুস হ্যান্ডসামলুক একটা ছেলে ভাবিকে মুগ্ধ নেত্রে দেখে বলে ভাবিও ইদানীং কেমন যেনো আমাকে দেখে টোঠ টিপে টিপে হাসে। ধীরে ধীরে ভাবির সাথে আমার ভাব জমে ওঠে।

এখন ভাবিকে নিয়ে আমি প্রায়শই ট্যুর করি। টাংকি মারি। আড্ডা দিই। ভাবিও আমাকে ভীষণ লাভ করতে শুরু করে। নিজ হাতে চটপটি ফুচকা ইত্যাদি খাইয়ে দেয় । সে-কি মধুর প্রেম জমে ওঠে আমাদের। এতোদিন ভার্জিনক্রিয়ায় মেতে থাকলেও এবার প্রগতিশীল আর পুরোপুরি উ'গ্রবাদী কিংবা জ'ঙিবাদের লক্ষ্মণ থেকে বের হয়ে আসার চিন্তা থেকে জড়িয়ে পড়লাম পরকীয়ায়ও।

পুলিশ ভাইয়ার গাড়িতে করে ভাবির সাথে একদিন একটু শাহবাগে চেতনার খেলা খেলতে যাবার সময় সেই পুলিশ ভাইয়ার এক সহকর্মী আমাদেরকে দেখে ফেলে। সে হুড়মুড় করে তৎক্ষণাৎ তার সহকর্মীকে ফোন দিয়ে বলে দেয়। হাতেনাতে আমরা তার কাছে চেতনা যুদ্ধে ধৃত হই। পুলিশ ভাইয়া ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে যখন পেটাতে আসে, তৎক্ষণাৎ ভাবি তাকে বাধা দিয়ে নিবৃত করে। চেচিয়ে উঠে ভাবি বলে আমার বফের গায়ে হাত ওঠাও ক্যান? তোমার এত্তো বড়ো সাহস হইলো কইত্তে? হুম?
পুলিশ ভাইয়া বলে ওঠে —অ্যাই,তুমি কী বলছো এসব? হুম!!
আমি তখন সুযোগ বুঝে রক্স রক্স মানসিকতায় বলে উঠলাম — স্যার ভাইয়া, ভাবি ঠিকই কইছে।

পুলিশ ভাইয়া রাগে গরগর করে বের হয়ে আমার নামে আদালতে ঠুকে দিলো একটা মামলা।

আমাকে তোলা হলো কাঠগড়ায়। সেখানে গিয়ে ভাবিও হাজির। ভাবি গিয়ে বললো— এই যে জজ সাহেব শুনেন, এই যে আপনার ইয়া বড়ো বুড়িওয়ালা টাকলা এই পুলিশ অফিসারটার সাথে আমি হ্যাপি না। আমাকে নির্যাতন করে। আমি কার সাথে থাকবো, কাকে নিয়ে ঘুরবো, সেটা আমার স্বাধীনতা। কিন্তু সে আমার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে আমার বফের নামে মামলা ঠুকে দিলো। মারকো। আমাকেও সে নিয়মিত ধর্ষণ করে।

জজ সাহেব চিন্তায় পড়ে গেলো। ধর্ষণ তো মহা অপরাধ। ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা তো মহা অন্যায়। এইলোক আইনের লোক হয়ে বে-আইনি কাজকর্ম করে বইসা আছে!! নাহ। এ -কে উচিত শিক্ষা দিতে হবে।

অবশেষে আদালত আমাকে ভাবির বফ হিসেবে মুক্তি দিয়ে পুলিশ ভাইয়াকে গ্রেফতারের আদেশ দেয়। এই দিকে আমি মুচকি মুচকি হাসি। যাবার সময় পুলিশ ভাইয়াটির কানে কানে বলে উঠি —ভাইয়া, আমার কী দোষ ? আমি তো কেবল আপনাগো এড দেইখা আরেকটু ইয়ো ইয়ো হইতে চাইছিলাম আরকি!????????????

পঠিত : ৭৫০ বার

মন্তব্য: ০