Alapon

বিএনপি প্রতিষ্ঠার ইতিহাস : ২য় পর্ব



১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি সাত্তারের নেতৃত্বে প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন প্রেসিডেন্ট সায়েমের কাছে এসে তাকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে যেতে অনুরোধ করেন। তারা আরো বলেন তারা জিয়ার অধীনে কাজ করতে চান। প্রেসিডেন্ট সায়েম অবস্থা বুঝতে পেরে বিচারপতি সাত্তারকে বলেন, জিয়াকে খবর দিতে। সেনাপ্রধান জিয়া বঙ্গভবনে আসলে প্রেসিডেন্ট সায়েম তাকে পদত্যাগজনিত সংকটের কথা বলেন। কীভাবে? কার কাছে? এবং কাকে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে? ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা তুলেন।

জিয়া জানান, যেহেতু তিনি সামরিক আইন প্রশাসক অতএব তিনি সামরিক আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করবেন। প্রেসিডেন্ট সায়েম দায়িত্ব ছাড়ার সময়ে জিয়া থেকে ওয়াদা নেন নির্বাচন দেওয়ার। জিয়া তাকে কথা দেন নির্বাচনের ব্যবস্থা করার। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল জিয়া বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হন।

তার পরদিন ১৯৭৭ সালের ২২ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট জিয়া জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। একইদিন তিনি সংবিধানে সংশোধনী আনেন। সেক্যুলার সংবিধানকে ইসলামী করার চেষ্টা করেন। এর কারণ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মুজিব খুন হওয়ার পর দেশের মানুষ অত্যন্ত খুশি হয়েছিল। রেডিও টেলিভিশনে অনুষ্ঠান শুরু ও শেষে পাকিস্তান আমলের মতো কুরআন পড়া, উর্দু গান গাওয়া, বিসমিল্লাহ পড়া ইত্যাদি আবার শুরু হয়েছে। এটা জনগণ খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছিল।

প্রেসিডেন্ট জিয়া বুঝতে পেরেছিলেন এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলিম। তাই মুজিব যেভাবে ইসলামের গন্ধ ও নাম নিশানা মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে সেখান থেকে সরে না আসলে জাতির ভালোবাসা পাওয়া যাবে না তাই তিনি ইসলামের দিকে ঝুঁকেছিলেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে জিয়ার ১ম ভাষণ সম্পর্কে যত উৎস থেকে জেনেছি আমি দেখেছি জিয়া তার ভাষণে একবারের জন্যও মুক্তিযুদ্ধের নাম আনেননি। এর কারণ তিনি যথার্থভাবে অনুভব করেছেন এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ এবং তার ধারাবাহিকতায় ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে অপছন্দ করেছে। তাই তিনি তার ভাষণে জাতীয় ঐক্য, সংহতি, ভোটাধিকার, দেশপ্রেম ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি তার ভাষণে ৩০ মে'র মধ্যে একটি গণভোট আয়োজন করার ঘোষণা দেন।

একইদিন তিনি সংবিধানে বিসমিল্লাহ যুক্ত করা, ধর্মনিরপেক্ষতা তুলে দেওয়া, মূলনীতিতে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস যুক্ত করা, ইসলামী সংহতির মাধ্যমে অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার করা ইত্যাদি পরিবর্তন আনেন। তার এই ঘোষণায় দেশের মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করে। জিয়াউর রহমান ধীরে ধীরে রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর মধ্যে স্থিতিশীলতা আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। ১৯৭৭ সালের ২২ মে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তিনি ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে তিনি জনগণকে বার্তা দিতে চেয়েছেন তিনি আসলে কেমন বাংলাদেশ চান এবং তিনি কী নিয়ে কাজ করতে চান। তার এই ১৯ দফা গ্রামে গঞ্জে তার সমর্থন বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট জিয়া তার কথা রাখলেন। ৩০ মে ১৯৭৭ সালে তিনি গণভোটের আয়োজন করেন। ভোটের বিষয় ছিল জিয়ার ওপর মানুষের আস্থা আছে কিনা। হ্যাঁ অথবা না ভোট দিবে জনগণ। যদি না ভোট বেশি পড়ে তবে জিয়া সাধারণ নির্বাচন দিয়ে রাজনীতি থেকে সরে যাবেন, আর যদি হ্যাঁ ভোট বেশি হয় তবে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে বহাল থাকবেন। জিয়ার বিরুদ্ধে কথা বলার মতো রাজনীতিবিদ তখন ছিল না। অতএব হ্যাঁ ভোট জয়ী হবে এটাই ছিল স্বাভাবিক।

কিন্তু অস্বাভাবিক হলো ভোটের যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে সেটা। নির্বাচন কমিশন জানালো ৮৮.৫০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছে। আর এর মধ্যে ৯৮.৯ শতাংশ ভোট পড়েছে হ্যাঁ এবং বাকীটা না পড়েছে। আমলাদের ব্যবহার করেই এই ভোটের পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। আমার নানা সেই নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন তাদের প্রতি নির্দেশ ছিল হ্যাঁ ভোট দিয়ে বাক্স পূর্ণ করার। সে সময় যে পরিস্থিতি ছিল তাতে কারচুপি না করলেও নিশ্চিতভাবেই হ্যাঁ ভোট জয়ী হতো।

প্রেসিডেন্ট জিয়ার একটি রাজনৈতিক বৈধতার দরকার ছিল এবং তিনি সেটা যথাযথভাবেই উৎরে যেতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি এখন জনগণের রায়ে প্রেসিডেন্ট। জিয়া এবার সুন্দরভাবে তার উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করলেন। সেখানে শিক্ষাবিদদের ও বিচারকদের আধিক্য ছিল। বিচারপতি সাত্তারকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হলো।

জিয়ার বিরুদ্ধে রাজনীতিবিদেরা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি। মুশতাকের আমলে আওয়ামীলীগের বেশিরভাগ নেতাকে জেলে নেওয়া হয়েছিল, তারা জেলেই ছিল। মুশতাকের পতনের পর খালেদ মোশাররফ মুশতাকসহ তার সরকারের অনেককে জেলে ঢুকিয়েছে। তারাও জেলে ছিল। জিয়া দুইপক্ষের কাউকে ছেড়ে দেন নি। এছাড়া নেজামে ইসলাম, মুসলিম লীগ, ন্যাপ, জাসদ ইত্যাদি রাজনৈতিক দলের সাথে জিয়া ধীরে ধীরে যোগাযোগ শুরু করলেন। জিয়ার বিরোধীতা হয়েছে সেনাবাহিনী থেকে। জিয়া সেগুলো কঠোরভাবে দমন করেছেন।

মুজিবের খুনিরা ঢাকায় আসলে তাদের আটক করে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। জিয়া তাদের দেশে রেখে কোনো ঝামেলা হোক সেটা চাননি। তাদেরকে তিনি বিদেশে সেটেল করে দিতে চেয়েছেন।

জিয়া স্থানীয় সরকারকে মজবুত করতে চেয়েছেন। এজন্য তিনি গনভোটের পরপরই সারাদেশের পৌরসভা ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন দিয়ে দেন। এরপর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দিয়ে দেন। নির্বাচিত এই লোকগুলো যে দলেরই হোক না কেন এরাই এখন জিয়ার মূল শক্তি। দেশ গঠনে প্রেসিডেন্টের যে কোনো আদেশ বাস্তবায়নে তারাই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছিলো।

১৯৭৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর জিয়া জাতির উদ্দেশ্যে এক বেতার ভাষণ দেন। সেখানে তিনি 'জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট' একটি রাজনৈতিক জোট খোলার ঘোষণা জানান। দেশের সবাইকে তার রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান।

১৯৭৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি 'জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল' নামে একটি দলের আত্মপ্রকাশ হয়। একে সংক্ষেপে 'জাগদল' বলা হতো। উপরাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার ছিলেন এই দলের আহবায়ক। জাগদল নিয়ে অনেক প্রোগ্রাম অনেকে সেমিনার হলো। কিন্তু সেটি জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়নি। এর কারণ এই হয়েছে আমলা নির্ভর শিক্ষিত মানুষের একটি দল। যারা এইদলের নেতা হয়েছেন তাদের সাথে গণমানুষের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

জাগদল বেশ উৎসাহ নিয়ে প্রেসিডেন্টের জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টে যোগ দেয়। মশিউর রহমান জাদু মিয়ার নেতৃত্বে ন্যাপ-ভাসানীর একটা বড় অংশ ফ্রন্টে যোগ দেয়। এরপর মুসলিম লীগের শাহ আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটা অংশ ফ্রন্টে যোগ দেয়। সবুর খানের নেতৃত্বে মুসলিম লীগের বড় অংশ ফ্রন্টে যোগ দেয়নি। আরো কিছু ছোটখাটো দল যোগ দেয়। ফ্রন্টে যোগ দেওয়াদের মধ্যে বড় অংশ হলো যাদু মিয়ার নেতৃত্বে ভাসানীর ন্যাপ। অর্থাৎ চীনপন্থী বামদের আধিক্য দেখা যায় ফ্রন্টে। মুসলিম লীগের নাম শুধু জড়ানো হয় অসাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার জন্য।

প্রেসিডেন্ট ইসলামের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ্যে দেখালেও ইসলামপন্থী দলগুলো ফ্রন্টে যোগ দেয়নি। তারা জিয়াকে সম্ভবত বিশ্বাস করেন নি। আর জিয়া আগে থেকেই ভাসানীর প্রতি অনুরক্ত ছিলেন বলে তার দর্শনে ও চিন্তায় বামদের প্রভাব ছিল। এটাও ইসলামপন্থীদের বিব্রত করেছে বলে মনে করি। এরমধ্যে যাদু মিয়া জিয়াকে অনেক জনপ্রিয় করে তুলেন। গ্রামে গঞ্জে হুট হাট সফর করতেন তাকে নিয়ে। গ্রামের মানুষ অবাক যেখানে চেয়ারম্যান খবর নেয় না সেখানে প্রেসিডেন্ট এসে খবর নিচ্ছেন!

১৯৭৮ সালের ২৮ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলো। ১ মে ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াকে চেয়ারম্যান করে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের কার্যক্রম ঘোষিত হলো। জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট তখনো দল হয় নি। এটি ছিল রাজনৈতিক জোট। ২ মে জিয়াসহ ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেয়। জিয়া ছাড়া উল্লেখযোগ্য প্রার্থী ছিলেন জেনারেল ওসমানী। আওয়ামীলীগ ও বামদের কিছু দল একত্র হয়ে ওসমানীকে প্রার্থী করে। জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট ৩১ মে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে। সেখানে মুজিবের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জাতির ঘুরে দাঁড়ানোকে হাইলাইট করা হয়। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য জিয়াকে ভোট দেওয়ার আহবান জানানো হয়।

অন্যদিকে ওসমানীর রসদ ছিল মুক্তিযুদ্ধ। তিনি ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত করার কথা বলেন। রাস্তার মোড়ে মোড়ে ৭ মার্চের মুজিবের ভাষণ বাজানো ছিল তার প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ দিক।

যাই হোক যথারীতি ১৯৭৮ সালের ৩ জুন বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলো। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হলেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ওসমানী ৪৪ লক্ষ ভোট পেয়েছেন। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৩.৪৪ শতাংশ। নির্বাচনে কোনো সহিংসতার, কেন্দ্র দখলের খবর পাওয়া যায়নি। তবে যথারীতি হেরে যাওয়া প্রার্থীরা কারচুপির অভিযোগ এনেছেন। তবে মানুষ অবাধে ভোট দিতে পেরেছে এই নিয়ে কেউ অভিযোগ করতে পারে নি।

১২ জুন ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়া নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ২৯ জুন মন্ত্রীসভা গঠন করেন। মন্ত্রীদের মধ্যে ১৩ জন জাগদলের, ৩ জন ভাসানী-ন্যাপের, ২ জন ইউপিপির, ২ জন মুসলিম লীগের, ১ জন তফসীলি ফেডারেশনের ও ৭ জন টেকনোক্র্যাট। মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে প্রাইম মিনিস্টার না করে নতুন নামে সিনিয়র মিনিস্টার করা হয়।

রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়া নতুন সমস্যার সম্মুখীন হলেন। আগে নিজেই সব সিদ্ধান্ত নিতেন। এখন দেখা গেল মন্ত্রীরা প্রায়ই বিবাদে জড়াচ্ছে। জোটের দলগুলোর মধ্যে আগে থেকেই ছিল বিবাদ। সে বিবাদ ও কোন্দল রাষ্ট্রে কাজে সমস্যার সৃষ্টি করছে। সব সিদ্ধান্ত নিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এরকম একটা পরিস্থিতিতে জিয়া জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের নামে হওয়া জোট ভেঙ্গে দিয়ে একক দলে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিলেন। এই সিদ্ধান্তে তাকে সহায়তা করেছে যাদু মিয়ার ন্যাপ ও জাগদল। বাকীরা অনিচ্ছা সত্ত্বেও মেনে নিল।

দল তৈরির জন্য তিনি সবার সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছিলেন। এর মধ্যে একজন ছিলেন তানভির আহমেদ সিদ্দিকী। তিনি প্রস্তাব করলেন দলের নাম হবে জাস্টিস পার্টি। এই নাম টিকলো না। প্রেসিডেন্ট জিয়াই নাম দিলেন 'বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল' (বিএনপি)। বিএনপি'র গঠনতন্ত্র তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন নয়জন। এরা হলেন জিয়াউর রহমান, বিচারপতি সাত্তার, নাজমুল হুদা, হাবিবুল্লাহ খান, আব্দুল মোমেন খান, জামালুদ্দিন আহমেদ, মওদুদ আহমদ, আবুল হাসনাত ও ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বঙ্গভবনে একাধারে ২১ দিন বসে তারা এই দলের গঠনতন্ত্র রচনা করেন।

২৮ আগস্ট ১৯৭৮ সালে জাগদলের আহ্বায়ক বিচারপতি সাত্তার তার দলের বিলুপ্তির কথা ঘোষণা করেন। ১ সেপ্টেম্বর রমনা পার্কে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন প্রেসিডেন্ট। সেখানেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলের নাম, আহ্বায়ক ও ৭৬ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা দেন। এভাবেই বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দলের সূচনা হয়।

পঠিত : ৫৬ বার

ads

মন্তব্য: ০