Alapon

সীরাতুন্নবী পাঠ করা কেন জরুরি?



সীরাতুন্নবী মানে নবী অর্থাৎ মুহাম্মদ সা.-এর জীবনী। মহানবীর জীবনী পাঠ করা আমাদের জন্য অত্যাবশ্যক। কারণ এর মাধ্যমে আমরা আমাদের কর্তব্য নির্ধারণ ও সেই কর্তব্য পালনের সঠিক নির্দেশনা পেতে পারি।

আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ সা.-কে আমাদের নিকট নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন কেন এই ব্যাপারে তিনি কিছু নিদর্শন বা আয়াত কুরআনে নাজিল করেছেন। আমরা অনেকেই রাসূলের সীরাত বা জীবনী পাঠ করি। এই জীবনী পড়ে আমরা আপ্লুত হই, অনুপ্রেরণা পাই। কিন্তু জীবনী পড়ার জন্য যদি আপনি মূল টার্গেট নির্ধারণ না করেন তবে জীবনী পড়াটা আবেগে আপ্লুত হওয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে। তাই আমাদের প্রথমে জানতে হবে কেন আল্লাহ তায়ালা রাসূল সা.-কে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। কী ছিল তার কাজ? যদি আমরা এটা জানতে পারি তারপর আমাদের পক্ষে রাসূলের অনুসরণ করা সহজ হবে।

প্রথমত উসওয়াতুন হাসান বা উত্তম আদর্শ
আল্লাহ তায়ালা সূরা আহযাবের ২১ নং আয়াতে বলেন, "অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।"
আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মদ সা.-এর মাধ্যমে আমাদের মডেল বা আদর্শ তৈরি করেছেন। যাতে আমরা তাঁকে অনুসরণ করতে পারি। আল্লাহর আদেশের বাস্তবায়ন নিজের ইচ্ছেমত না হয়ে রাসূল সা.-এর পদ্ধতি অনুসরণ করেই করতে হবে। এজন্য আমাদের রাসূলের সীরাত পাঠ করতে হবে যাতে আমরা যথাযথভাবে তাঁকে অনুসরণ করতে পারি।

দ্বিতীয়ত রাহমাতুল্লিল আলামীন বা দুনিয়াবাসীর জন্য রহমত
আল্লাহ তায়ালা সূরা আম্বিয়ার ১০৭ নং আয়াতে বলেন, (হে মুহাম্মাদ) আর আমি তো তোমাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।

নবী সা.-এর আগমন আসলে মানবজাতির জন্য আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ। কারণ, তিনি এসে গাফলতিতে ডুবে থাকা দুনিয়াকে জাগিয়ে দিয়েছেন। তাকে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে ফারাক করার জ্ঞান দিয়েছেন। দ্বিধাহীন ও সংশয় বিমুক্ত পদ্ধতিতে তাকে জানিয়ে দিয়েছেন। তার জন্য ধ্বংসের পথ কোনটি এবং শান্তি ও নিরাপত্তার পথ কোনটি। মক্কার কাফেররা নবী সা.-এর আগমনকে তাদের জন্য বিপদ ও দুঃখের কারণ মনে করতো। তারা বলতো, এ ব্যক্তি আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, নখ থেকে গোশত আলাদা করে রেখে দিয়েছে। তাদের একথার জবাবে বলা হয়েছে, অজ্ঞের দল! তোমরা যাকে দুঃখ ও কষ্ট মনে করো তা আসলে তোমাদের জন্য আল্লাহর রহমত। তাকে অনুসরণের মাধ্যমেই আল্লাহর রহমত, নাজাত ও মুক্তি হাসিল হবে। আর এজন্যই আমাদের তাঁর জীবনী অনুসরণ করে জানতে হবে তিনি কীভাবে পৃথিবীতে রহমত প্রতিষ্ঠা করেছেন অজ্ঞতাকে দূর করে।

তৃতীয়ত মুয়াল্লিম বা শিক্ষক
আল্লাহ তায়ালা সূরা বাকারার ১২৯ নং আয়াতে ইবরাহিম ও ইসমাঈল আ.-এর দোয়া উদ্ধৃত করেন। সেখানে তারা বলেন, হে আমাদের রব, তাদের মধ্যে (নিজেদের বংশধর) তাদের থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যে তাদের প্রতি আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবে এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবে আর তাদেরকে পবিত্র করবে। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’।

হজরত ইবিরাহিম আ. ও ইসমাঈল আ. যখন কাবার দেয়াল তৈরি করছিলেন তখন তারা তাদের বংশধরদের জন্য আল্লাহর কাছে এই দোয়া করেন। আল্লাহ তাদের দোয়া কবুল করেন এবং তাদের সন্তানদের মধ্য থেকে মুহাম্মদ সা.-কে মানবজাতির শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করেন। মুহাম্মদ সা. শিক্ষক হিসেবে তাঁর পুরো জীবনকে উপস্থাপন করেছেন। না জীবনী না জানলে তাঁর শিক্ষার বিষয়বস্তু আমাদের অজানা থাকবে।

চতুর্থত মুবাশ্বির ও নাজির বা সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী

আল্লাহ তায়াল সূরা বনী ইসরাইলের ১০৫ নং আয়াতে বলেন, আমি তো তোমাকে কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে পাঠিয়েছি। একই কথা আল্লাহ তায়ালা রিপিট করেছে সূরা ফুরকানের ৫৬ নং আয়াতে, সূরা সাবা'র ২৮ নং আয়াতে ও সূরা ফাতিরের ২৪ নং আয়াতে।

অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল সা.-কে এই দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছে যাতে তিনি মানবজাতিকে আখিরাতের ব্যাপারে সুসংবাদ ও সতর্ক করেন। তিনি জান্নাতের সুসংবাদ দিবেন এবং জাহান্নাম ও বিচারের ব্যাপারে সতর্ক করবেন। কী কী কাজ করলে জান্নাত পাওয়া যাবে এবং কী কাজ করলে জাহান্নামে যেতে সে ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিবেন। কোন ঈমানদারকে ঈমানের পুরস্কার এবং কোন অস্বীকারকারীকে শাস্তি দেয়া নবীর কাজ নয়। কাউকে জোর করে ঈমানের দিকে টেনে আনা এবং কাউকে জবরদস্তি অস্বীকার করা থেকে দূরে রাখার কাজেও নিবী নিযুক্ত হননি। যে ব্যক্তি সত্য-সঠিক পথ গ্রহণ করবে তাকে শুভ পরিণামের সুসংবাদ দেবে এবং যে ব্যক্তি নিজের কু পথে অবিচল থাকবে তাকে আল্লাহর পাকড়াও ও শাস্তির ভয় দেখাবে।

পঞ্চমত শহীদ বা সাক্ষ্যদাতা
সূরা আহযাবের ৪৫ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, হে নবী, আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। একই কথা রিপিট করেছেন সূরা ফাতহ-এর ৮ নং আয়াতে। এখানে শহীদ মানে সাক্ষ্যদাতা। নবী সা.-কে সাক্ষী করার অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক। এই সাক্ষ্য তিন ধরনের হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন প্রখ্যাত মুফাসসির সাইয়্যেদ আবুল আ'লা মওদূদী।

এক- মৌখিক সাক্ষ্যদান। অর্থাৎ আল্লাহর দ্বীন যেসব সত্য ও মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত নবী তার সত্যতার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে যাবেন এবং দুনিয়াবাসীকে পরিষ্কার বলে দেবেন, এটিই সত্য এবং এর বিরুদ্ধে যা কিছু আছে সবই মিথ্যা। আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর একত্ব, ফেরেশতাদের অস্তিত্ব, অহী নাযিল হওয়া, মৃত্যু পরবর্তী জীবনের অনিবার্যতা এবং জান্নাত ও জাহান্নামের প্রকাশ, দুনিয়া বাসীদের কাছে যতই অদ্ভূত মনে হোক না কেন এবং তারা একথাগুলোর বক্তাকে যতই বিদ্রূপ করুক বা তাকে পাগল বলুক না কেন, নবী কারো পরোয়া না করেই দাঁড়িয়ে যাবেন এবং সোচ্চার কন্ঠে বলে দেবেন, এসব কিছুই সত্য এবং যারা এসব মানে না তারা পথভ্রষ্ট।

দুই- কর্মের সাক্ষ্য। অর্থাৎ দুনিয়ার সামনে যে মতবাদ পেশ করার জন্য নবী সা.-এর আবির্ভাব হয়েছে তিনি নিজের জীবনের সমগ্র কার্মকান্ডের মাধ্যমে তার প্রদর্শনী করবেন। যে জিনিসকে তিনি মন্দ বলেন তাঁর জীবন তার সকল প্রকার গন্ধমুক্ত হবে। যে জিনিসকে তিনি ভালো বলেন তাঁর চরিত্রে তা পূর্ণমাত্রায় আলোকজ্জল হবে। যে জিনিসকে তিনি ফরয বলেন তা পালন করার ক্ষেত্রে তিনি সবচেয়ে অগ্রণী হবেন। যে জিনিসকে তিনি গোনাহ বলেন তা থেকে দূরে থাকার ব্যাপারে কেউ তাঁর সমান হবে না। যে জীবন বিধানকে তিনি আল্লাহ‌ প্রদত্ত জীবন বিধান বলেন তাকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি কোন প্রচেষ্টার ত্রুটি করবেন না।

তিন- পরকালীন সাক্ষ্য। অর্থাৎ আখেরাতে যখন আল্লাহর আদালত প্রতিষ্ঠিত হবে তখন নবী এ মর্মে সাক্ষ্য দেবেন, তাঁকে যে পয়গাম দেয়া হয়েছিল তা তিনি কোন প্রকার কাটছাঁট ও কমবেশী না করে হুবহু মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের সামনে নিজের কথা ও কর্মের মাধ্যমে সত্যকে সুস্পষ্ট করে তুলে ধরার ব্যাপারে সামান্যতম ত্রুটি করেননি। এ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাণী মান্যকারী কি পুরস্কার পাবে এবং অমান্যকারী কোন ধরনের শাস্তির অধিকারী হবে তার ফায়সালা করা হবে।

ষষ্ঠত ইকামাতে দ্বীন অথবা দ্বীন বিজয়
আল্লাহ তায়ালা সূরা আত তাওবার ৩৩ নং আয়াতে বলেন, তিনিই তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দীন সহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা অপছন্দ করে। এই একই কথা রিপিট করেন সূরা ফাতহ'র ২৮ নং আয়াতে ও সূরা সফের ৯ নং আয়াতে। এছাড়াও আল্লাহ তায়ালা ইকামতে দ্বীনের বিষয়ে সূরা আশ শুরার ১৩ নং আয়াতে বলেন,

তিনি তোমাদের জন্য দীন বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন; যে বিষয়ে তিনি নূহকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, আর আমি তোমার কাছে যে ওহী পাঠিয়েছি এবং ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে যে নির্দেশ দিয়েছিলাম তা হল, তোমরা দ্বীন কায়েম করবে এবং এতে বিচ্ছিন্ন হবে না। তুমি মুশরিকদেরকে যেদিকে আহবান করছ তা তাদের কাছে কঠিন মনে হয়; আল্লাহ যাকে চান তার দিকে নিয়ে আসেন। আর যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে তিনি হিদায়াত দান করেন।

আল্লাহ তায়ালা এখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, মুহাম্মাদ সা. কোন নতুন ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা নন। নবী-রসূলদের মধ্যে কেউই কোন নতুন ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন না। প্রথম থেকেই সমস্ত নবী-রসূল আল্লাহর পক্ষ থেকে একই দ্বীন পেশ করে আসছেন। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও সেই একই দ্বীন পেশ করছেন। এ প্রসঙ্গে সর্বপ্রথম হযরত নূহের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মহাপ্লাবনের পর তিনিই ছিলেন বর্তমান মানব গোষ্ঠীর সর্বপ্রথম পয়গস্বর। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি শেষ নবী। তারপর হযরত ইবরাহীমের (আ) নাম উল্লেখ করা হয়েছে, আরবের লোকেরা যাঁকে তাদের নেতা বলে মানতো।

সর্বশেষে হযরত মুসা এবং ঈসার কথা বলা হয়েছে যাঁদের সাথে ইহুদী ও খৃস্টানরা তাদের ধর্মকে সম্পর্কিত করে থাকে। এর উদ্দেশ্য এ নয় যে, শুধু এই পাঁচজন নবীকেই উক্ত দ্বীনের হিদায়াত দান করা হয়েছিলো। বরং একথা বলে দেয়াই এর উদ্দেশ্য যে, পৃথিবীতে যত নবী-রসূলই আগমন করেছেন তাঁরা সবাই একই দ্বীন নিয়ে এসেছেন। নমুনা হিসেবে এমন পাঁচজন মহান নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে যাঁদের মাধ্যমে দুনিয়ার মানুষ সুবিখ্যাত আসমানী শরীয়তসমূহ লাভ করেছে। এই আয়াত দ্বারা এটাই নির্দেশ করছে যে, যুগে যুগে নবীদের দ্বীন কায়েমের জন্যই পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে এবং এটাই তাদের মূল মিশন। যেহেতু নবী আর আসবেন না তাই দ্বীন কায়েমের দায়িত্ব আমাদের। আর আমরা দ্বীন কায়েমের পদ্ধতি হিসেবে আল্লাহর রাসূল সা.-এর অনুসৃত পদ্ধতি অনুসরণ করবো।

আমরা কুরআন থেকে মোটাদাগে দেখতে পাই, ৬ টি উদ্দেশ্যকে সামনে নবী সা.কে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মূল এজেন্ডা হলো ইকামাতে দ্বীন। এই দ্বীন কায়েমের জন্যই উপরোক্ত উদ্দেশ্যগুলো ফাংশনাল হয়। আল্লাহর রাসূলের দ্বীন কায়েমের পদ্ধতি হলো উসওয়াতুল হাসানা বা উত্তম আদর্শ। তাই ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর রাসূল সা.-এর দেখানো পন্থা ছাড়া অন্য কোনো পন্থা অবলম্বন করা যাবে না। আমাদের তাই আল্লাহর রাসূলের জীবনী বা সিরাত অধ্যয়ন করতে হবে এই নিয়তে যে, তিনি কীভাবে দ্বীন কায়েম করেছেন তা জানার চেষ্টা করা।

দ্বীন কায়েম যে মূল এজেন্ডা ছিল তা আমরা জানতে পারি সূরা মায়েদার ৩ নং আয়াত থেকে। সেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নি‘আমত সম্পূর্ণ করলাম; আর তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।”

এই আয়াত যখন নাজিল হয়েছে সেই দিনটি ছিল ‘আরাফাতের দিন। আর তা ছিল বিদায় হজের সময়কার জুম‘আর দিন। এই আয়াতটি ঐ দিন বিকাল বেলায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকালীন সময়ে অবতীর্ণ হয়েছে। আর এই আয়াতটি অবতীর্ণের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাশি দিন জীবিত ছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা এই আয়াতে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তিনি আমাদের জন্য আমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। সুতরাং তিনি কখনও তার মধ্যে কমতি করবেন না এবং কখনও বৃদ্ধিরও প্রয়োজন হবে না। আর এই জন্যই তিনি আমাদের নবীর মাধ্যমে নবীদের আগমনের ধারার পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন।

এই আয়াত নাজিলের পর সকল সাহাবী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। কিন্তু জ্ঞানী সাহাবী আবু বকর রা. কেঁদে ফেলেছেন। কারণ তিনি বুঝে নিয়েছেন আল্লাহর রাসূল যে এজেন্ডা দিয়ে পাঠানো হয়েছে তা হাসিল হয়েছে। অতএব আল্লাহর রাসূল সা. আর বেশিদিন দুনিয়ায় থাকবেন না। হয়েছেও তাই। এর অল্প দিন পরই আল্লাহর রাসূল সা. অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ইন্তেকাল করেন। এই ঘটনা দ্বারা স্পষ্ট যে দ্বীন কায়েমই আল্লাহর রাসূলের মূল এজেন্ডা ছিল।

পঠিত : ২৭ বার

ads

মন্তব্য: ০