Alapon

ওয়াজ-মাহফিলঃ নতুন মুখের অভিষেক

শীতের মৌসুমে এবার মাহফিল কতটুকু হবে এবং কিভাবে হবে তা আন্দাজ করা মুশকিল হলেও বুঝা যায় কমবেশি মাহফিল হবে। এটা শুধুমাত্র ধর্মীয় কারণে নয় বরং কালচারালি কারণেই হয়ে থাকে।

এবার বক্তার সংকট হবে বলে বুঝা যাচ্ছে। মাওলানা মামুনুল হক, খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবি, মুফতি আমীর হামজা, মুফতি জুনায়েদ আল হাবীব, হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমীসহ অনেকেই কারারুদ্ধ আছেন। আল্লাহ তাদেরকে মুক্তির ব্যবস্থা করুন। মিজানুর রহমান আজহারী মালয়েশিয়ায় আছেন। তাদের অনুপস্থিতিতে বয়ানের মাঠে বিরাট শূন্যতা বিরাজ করবে।

বাধ্য হয়ে নতুন বক্তাদের খুজবে মানুষ। নতুনরা যদি একে অপরের বিরুদ্ধে খিস্তিখেউড় এবং ভুলভাল কথা এড়িয়ে রেফারেন্স ও যৌক্তিক বক্তব্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেন তাহলে ইতিবাচক ফলাফল আসতে বাধ্য।

বয়ানের সাবজেক্ট কি হওয়া উচিত, অজপাড়াগাঁয়ে গিয়ে সেখানকার মানুষের জন্য কোন টপিক জরুরি তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা জরুরি। তাওহিদ রেসালাত এবং আখেরাতের মত ঈমানের মৌলিক বিষয়ের পাশাপাশি নামাজ, রোজা, মা বাবা ও পরিবারের হক, প্রতিবেশীর হক, মুমীনের গুণাবলী, দাজ্জালীয় ফিতনা ও পশ্চিমা সংস্কৃতি ইত্যাদি আলোচনা করা যেতে পারে।

এদেশের তরুণদের আকৃষ্ট করার জন্য তাদের ভাষায় কথা বলার প্রাকটিস করতে হবে (যেমনটা করেছিলেন মিজানুর রহমান আজহারী)৷ রেফারেন্স ও যুক্তিভিত্তিক বক্তব্য হতে হবে। বিশুদ্ধ উচ্চারণের পাশাপাশি বডি ল্যাংগুয়েজ হতে হবে মার্জিত। উল্টাপাল্টা কথা বলে ভাইরাল হওয়ার ধান্দা বাদ দিতে হবে।

একটা সুন্দর মৌসুম হচ্ছে বয়ানের মৌসুম। দুনিয়ার অন্য কোথাও এমন সিস্টেম আছে বলে জানা নেই। নিজেদের বোকামি ও খেয়ালখুশি মত আচরণের কারণে একে বিনষ্ট করা উচিত হবেনা।

গভীর রাত পর্যন্ত মাহফিল চালানো, রাস্তাঘাটে মাহফিলের কালেকশন এটাও বন্ধ করতে হবে। আয়োজকদের মধ্যে যেকোনো উপায়ে বেশি লোক উপস্থিত করার মানসিকতাও পাল্টাতে হবে। মাহফিল হবে আমাদের স্পিরিচুয়াল ডেভেলপমেন্টের একটি কার্যকর উদ্যোগ।

এ বছর অনেক নতুন বক্তার অভিষেক হবে আশা করি। যদি তারা দা'য়ীর মেজাজে এগিয়ে আসেন আল্লাহ বরকত দান করবেন। আর জনগণকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য যদি চেষ্টা করেন হারিয়ে যাবেন।

পঠিত : ২৫ বার

ads

মন্তব্য: ০